মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

মোহাম্মদ আলী, বগুড়া প্রতিনিধি

প্রিন্টসংরক্ষণ

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ০৫:৩৫

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ১১:৩৫

বগুড়া-১ আসনে উপ-নির্বাচন

সুবিধায় আ.লীগ-পুনরুদ্ধারে বিএনপি

বগুড়া-১ সংসদীয় আসনটি সোনাতলা-সারিয়াকান্দি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত। উল্লেখ্য, গত ১৮ বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য জানুয়ারি আব্দুল মান্নান ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর সর্বত্রই আলোচনা চলছে আব্দুল মান্নানের অবর্তমানে কারা হচ্ছেন এমপি প্রার্থী।

উপ-নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে ইতোমধ্যে ওই আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে।

এ নির্বাচনকে সামনে রেখে অনানুষ্ঠনিকভাবে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বগুড়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটিতে কে হবেন আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপির প্রার্থী তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এখন পর্যন্ত এ আসনে আওয়ামী লীগের পাঁচজন প্রার্থী এবং বিএনপিতেও চারজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।

তারা ফেস্টুন পোস্টারে শুভেচ্ছা ও প্যানা লাগিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ওই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান এবং আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

আসনটি একসময় বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত ছিলো। বগুড়া-১ আসনের প্রয়াত সাংসদ আব্দুল মান্নান বিএনপির প্রার্থীর কাছে তিনবার পরাজিত হওয়ার পর ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী শোকরানাকে প্রায় ৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল মান্নান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নিবার্চিত হন।

এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবং ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। টানা তিনবার এমপি হয়ে যমুনা ও বাঙালি নদীবিধৌত বগুড়ার দুটি উপজেলাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলেন।

শুধু তাই নয়, নদী শাসন, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, চাকরি, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ তিনি ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে দুটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের পথ প্রসস্ত করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে এ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সাধারণ ভোটারেরা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ভেতরে ভেতরে ব্যাপক দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং আছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হলে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

পর পর ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখায় বর্তমান পেক্ষাপট পাল্টে গেছে। তিনি তার এলাকায় উন্নয়নে মানুষের বিপদ-আপদে সর্বদাই পাশে ছিলেন।

অনেকেই মনে করেন মান্নানের পাশাপাশি সাহাদারা মান্নানও স্বশরীরে নেতাকর্মীও উন্নয়নের সাথে ছিলেন, রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সাহাদারা মান্নান প্রার্থী হলে ভালো হয়।

প্রায়ত ওই এমপির উন্নয়নের হাল ধরতে মাঠে নামবেন তার স্ত্রী সারিয়াকান্দি উপজেলা আ.লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য সাহাদারা মান্নান। এ নির্বাচনি এলাকায় ভোটাররা প্রয়াত এমপির সহধর্মিণীকে এমপি হিসেবে দেখতে চান।

এ উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি বলেন, তার নির্বাচনি এলাকা সোনাতলা-সারিয়াকান্দি উপজেলা এখন বাংলাদেশের মধ্যে রোল মডেল। আওয়ামী লীগ সরকারের তিন টার্মে যে উন্নয়ন হয়েছে তা চোখে পড়ার মতো। উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে ও তার স্বামীর এ আসন টিকে রাখতে তিনি মরিয়া।

এ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, এ আসন থেকে আমি মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবো। নেতা-কর্মীরাও আগামীতে তাকেই নৌকার কাণ্ডারি হিসাবে দেখতে চান।

তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। প্রায়ত এমপির একমাত্র পুত্র সাখাওয়াত হোসেন সজলের নামও শোনা যাচ্ছে। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নতুন মুখ হিসেবে তার পুত্র সজলকে প্রার্থী হিসেবে চাইছেন।

সজল ঢাকায় বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। গত শুক্রবার রাতে বগুড়ার একটি হোটেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডাকসুর) সাবেক সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, প্রয়াত আব্দুল মান্নান এমপির ভায়রা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহী সুমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক অ্যাড. জাকির হোসেন নবাব।

অপরদিকে, মান্নানবিহীন বগুড়া-১ আসন পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম জানান; তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সংসদ থাকাকালীন তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এ আসনের উপ-নির্বাচনে তিনি দল থেকে মনোনয়ন পেতে আশাবাদী।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী মোশাররফ হোসেন চৌধুরী এ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের আপদ-বিপদে নিজেকে জড়িয়েছেন। সাধ্যমতো বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ১৯৮৪ সালে সরকারি আযিযুল কলেজের ছাত্র দলের সদস্য হওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন।

১৯৮৮ সালে ঢাকা মহানগর ৩৫ নং ওয়ার্ড ছাত্র দলের আহ্বায়ক, মতিঝিল থানা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি, পরে ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্মসম্পাদক হন। বর্তমানে ঢাকাস্থ বগুড়া জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া জেলা বিএনপির শিশুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এলাকায় একজন নিবেদিত মানুষ।

এছাড়াও হামলা-মামলার শিকার ও কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মামলার জামিনের ব্যবস্থা করেছেন। মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, এলাকার সর্বস্তরের জনগণ ও নেতাকর্মী তার আশা ভরসা। তাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত গণসংযোগ করছেন।

দল মনোনয়ন দিলে আমি শতভাগ আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, আমি এমপি হতে পারলে এলাকার যমুনা নদী ভাঙ্গনরোধ, বেকার সমস্যা, যোগাযোগ সমস্যার সমাধান মাদক নির্মূল জনগণের জীবনের মানোন্নয়নসহ সার্বিক উন্নয়নের সু-ব্যবস্থা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং পরপর ২ বারের নির্বাচিত সোনাতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান তৈয়ব জাকির এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

জাকির বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে এবং এলাকায় বেকার সমস্যা সমাধান ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবে বলে আশা করেন।

এছাড়াও সারিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাছুদুর রহমান হিরু মন্ডলের নামও শোনা যাচ্ছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ