শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০

২০ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

রাজিবুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২৩,২০২০, ১০:৫৯

ফেব্রুয়ারি ২৩,২০২০, ১১:০৬

বিশ্বজয়ের স্বপ্নসারথীরা

২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরণীয় দিন। এইদিন ১৬ কোটি বাঙালির হূদয়ে স্থান পায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তথা বিশ্বজয়ের জায়গাথা সাফল্য। বাংলার দুর্বার দামাল যুবারা এইদিন সবাইকে আনন্দে ভাসিয়ে এনে দিয়েছেন দেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতে হারিয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেয় যুব টাইগাররা। ক্রিকেট এদেশের মানুষের রক্তে মেশা।

ক্রিকেট এদেশের মানুষের আবেগ। সাফল্য ও ব্যর্থতায় দুটোতেই কাঁদে এদেশের মানুষ। তীরে এসে তরী ডুবে যাওয়া অনেক ম্যাচে হূদয়ে রক্তক্ষরণ যেমন হয়েছে। তেমনি জয়ের আনন্দে উন্মাদ, বাধভাঙা উচ্ছ্বাস ও করেছে এদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা।

১৯৯৭ সালে আইসিসির ট্রফি জয়ের মধ্যে দিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন, ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা, ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়, ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডকে ১০৮ রানে এবং ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারানো।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথ বেশ লম্বা হলেও প্রাপ্তির খাতায় তেমন কোনো সাফল্য নেই। তবে ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর পাল্টে গেছে আগের সব হিসাব-নিকাশ।

একটি বিশ্বকাপই বদলে দিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের জীবন। এই বিশ্বজয়ের নায়কদের নিয়ে লিখেছেন ক্রীড়া প্রতিবেদক রাজিবুল ইসলাম

বিশ্বজয়ী কোচ নাভিদ নেওয়াজ
বিশ্বকাপ জয়ী কোচ নাভিদ নেওয়াজ। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচের দায়িত্ব নেন তিনি। শ্রীলঙ্কান এই কোচের অধীনেই যুব বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

তারপরের ইতিহাস তো সবারি জানা। ২০১৯ সাল থেকে বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ৪০টি ম্যাচ খেলে ৩৪টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। যার সাফল্যের হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

সবার ভাই স্টোনিয়ার
পর্দার আড়ালে থাকা হিরো ইতোমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ যুব টাইগারদের ট্রেইনার রিচার্ড স্টোনিয়ার। বিশ্ব জয়ের কারিগর হিসেবে তাই বারবার সামনে আসছে রিচার্ড স্টোনিয়ের এর নাম। ৩৫ বছর বয়সি এই ইংরেজ এর পড়াশোনাটাও খেলাধুলা আর শরীরচর্চায়।

স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন যুক্তরাজ্যের স্ট্যাফোর্ডশার বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে। খেলোয়াড়দের দৈনন্দিন জীবনকে ছকে বেঁধে দেয়াকে তিনি নিয়েছেন নিজের পেশা হিসেবে।

বিভিন্ন সময় ফিটনেস নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করেছেন বেশ কয়েকজন অ্যাথলেটের সাথে। হয়েছেন ব্যক্তিগত ফিটনেস প্রশিক্ষকও। ২০১৩ সালের জুন মাসে রিচার্ড নিজেই চালু করেন ‘রিচার্ড স্টোনিয়ের স্পোর্ট অ্যান্ড ফিটনেস প্রফেশনাল’ নামক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

প্রশিক্ষক হিসেবে খ্যাতি বেশ ছড়িয়ে যায় স্টোনিয়েরের। যার ফলে পাকিস্তানের করাচিতে ‘সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানি’র ফিটনেস ও উন্নয়ন বিষয়ক প্রধান হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেন দেশের বাইরে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়াও ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন পাকিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (পিএসএল) লাহোর কালান্দার্স ও আফগান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) কান্দাহার নাইটসের সাথে।

আকবর দ্য গ্রেট
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর সবচেয়ে বড় নায়ক অধিনায়ক আকবর আলী। তার দৃঢ় মনোবলের ব্যাটিংয়ের কাছে পরাস্ত হয়েছেন ভারতীয় সব বোলাররা। পুরো বিশ্বকাপে ব্যাটিংয়ে তেমন সুযোগ না পেলেও ফাইনাল ম্যাচে দেখিয়ে দিয়েছেন এই ক্যাপ্টেন।

হিরার চেয়েও দামি ৪৩ রান করে দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তিনি। আকবর ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর রংপুরের পশ্চিম জুম্মাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

২০১২ সালে তিনি বিকেএসপিতে ভর্তি হন। ২০১৬ সালে সেখান থেকে এসএসসি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন। জেলা পর্যায়ে বাছাই পরীক্ষায় নাম লিখিয়ে বিকেএসপিতে ভর্তি হন ২০১২ সালে।

এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আগে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলেও। আছে বিকেএসপির বয়সভিত্তিক দলগুলোকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতাও। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা এ প্লাস পান আকবর।

লড়াকু ইমন
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ইমনের গল্পটা একটু অন্যরকম। ভারতের দেয়া ১৭৭ রান তাড়া করার সময়ে হঠাৎ করেই পায়ের মাংসপেশিতে টান ধরায় তখন সোজা হয়ে দাঁড়ানোটাই কষ্টকর হয়ে উঠে তার পক্ষে।

তানজিদ হাসান আউট হয়ে ফিরতেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে মাঠে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। ইমনের পরিবার বাস করে চট্টগ্রামের খলিফাপট্টিতে। ২০১২ সালে বিকেএসপিতে চান্স পান তিনি।

২০১৮-১৯ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে টোয়েন্টি-২০ ক্রিকেটে অভিষেক করেন। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৮-১৯ টুর্নামেন্টে লিস্ট এ ক্রিকেটে অভিষেক করেন।

দলের ভারসাম্য হূদয়
একজন নির্ভরশীল খেলোয়াড়ের নাম তৌহিদ হূদয়। যাকে বলা হয় ঠাণ্ডা মাথার রান মেশিন। ২০১৭-১৮ জাতীয় ক্রিকেট লিগে রাজশাহী বিভাগ ক্রিকেট দলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন।

এর আগে ২০১৮ আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ দলে দলে জায়গা করে নেন তিনি। ২০১৭-১৮ ঢাকা প্রিমিয়ার বিভাগ ক্রিকেট লিগে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে পদার্পণ করেন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সিলেট সিক্সার্স দলে জায়গা পেয়েছিলেন এই ব্যাটসম্যান। হূদয়ের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার জেলার গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের নাংলু গ্রামে।

তামিমই ভবিষৎ তামিম
জাতীয় দলের তামিম ইকবাল এবং তানজিদ হাসান তামিম দু’জনই আক্রমণাত্মক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি দু’জনই ব্যাট করেন বাঁহাতে। দু’জনের চওড়া ব্যাটের ওপর নির্ভর করে তাদের দলের ভাগ্য।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের ছেলে তানজিদ হাসান তামিম। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তার ১১৩ বলে ১১৭ রানের ইনিংসটির পরই মূলত শুরু হয়েছে তাকে নিয়ে আলোচনা।

জাতীয় লিগে এখনো খেলা হয়নি এই মারকাটারি ব্যাটসম্যানের। ১৯ বছর বয়স্ক ওপেনিং ব্যাটসম্যান এর আগে খেলেছেন রাজশাহী বিভাগের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে।

লিস্ট-এ ক্রিকেটে মোট ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন তানজিদ। এক সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটিতে তার মোট রান ৩৭১। ১৩ ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন তিনি একবার। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে দুই ম্যাচ খেলে তানজিদের স্ট্রাইক রেট ১২৭.৬৯।

সেঞ্চুরিয়ান জয়
তার হাত ধরেই অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে সেঞ্চুরির অনন্য নৈপুণ্যের কারণেই বাংলাদেশ দলের ফাইনালে ওঠার হাসি ফুটে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামের ছেলে মাহমুদুল হাসান জয়।

বাবা আব্দুল বারেক একজন ব্যাংকার। মা হাছিনা বেগম গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে জয় তৃতীয়। গ্রামে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকের পড়াশোনার চলে আসেন বিকেএসপিতে।

২০১৮-১৯ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে স্থান অর্জন করেন এই খেলোয়াড়।

বাংলার যুবরাজ শামীম
স্কুল ছুটি হলেই বন্ধুদের নিয়ে বাড়ির পাশে মাঠে ছুটে যেত। ব্যাট-বলের সঙ্গে তখন থেকেই তার সম্পর্ক। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তার প্রতিভা ছড়িয়ে পড়ে।

চট্টগ্রামে ভারতের সিবিএ দলের টেস্ট ম্যাচে শামীম পাটওয়ারী অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরির মাধ্যমে আলোচনায় আসেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের ছেলে শামীম পাটওয়ারী। বাবা হামিদ পাটওয়ারী, মা রিনা বেগম গৃহিণী। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট।

গ্রামের নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর চলে আসেন বিকেএসপিতে। এখন উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষে মানবিক বিভাগের ছাত্র শামীম।

গোল্ডেন বয় অভিষেক
যুব বিশ্বকাপের ফাইনালের শুরুর কথা নিশ্চয় মনে আছে সবার। মিডিয়াম পেসার অভিষেক দাসের দারুণ এক ডেলিভারিতে বিদায় নেন ভারতের ওপেনার দিব্যংশ সাক্সেনা। সাফল্যের সূচনা মূলত অভিষেকের হাত ধরেই।

এরপর যার সমাপ্তি টানেন অধিনায়ক আকবর আলি। ম্যাচের মাঝে কত ঘটনা ঘটে গেলো। অভিষেক নিয়েছিলেন মোট তিন উইকেট। সেই অভিষেক দাস কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র মাশরাফি বিন মোর্ত্তজার নড়াইলের ছেলে। মাশরাফি যেটা পারেননি, সেটা করে দেখিয়েছেন নড়াইলের উদীয়মান নক্ষত্র অভিষেক দাস।

আগ্রাসী সাকিব
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তিলকচানপুর গ্রামের কাতার প্রবাসী গউছ মিয়া আর গৃহিণী সেলিনা পারভীনের চার সন্তানের তৃতীয় তানজিম হাসান সাকিব। পড়েছেন স্থানীয় বালাগঞ্জ ডিএন স্কুলে।

এরপর চলে ঢাকার সাভারে বিকেএসপিতে। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৮-১৯ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে ২৭ মার্চ ২০১৯ সালে লিস্ট এ ক্রিকেটে স্থান অর্জন করেছিলেন।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে আট ওভার দুই বল করে দুই মেডেনসহ দুটি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। সাকিবের জন্ম ২০০২ সালের ২০ অক্টোবর।

দুর্বার শরিফুল
ক্রিকেটার হওয়ার ভাবনাটাই ছিলো না শরিফুলের। ২০১৬ সালে স্থানীয় এক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে টেপ টেনিসে তার বল দেখে মুগ্ধ হন রাজশাহীর স্বনামধন্য কোচ আলমগীর কবির। তার ডাকেই দিনাজপুর থেকে রাজশাহীতে আসে শরিফুল।

তবে, ২০১৭ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই প্রথম সবার নজর কাড়েন শরিফুল। আট ম্যাচে ১৭ উইকেট নিয়ে আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হন এই তরুণ। ওই সাফল্যই তাকে খুলে দেয় বিপিএল ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দরজা।

সেবার বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের হয়ে অভিষেক হয় তার। সেই কিশোর আজ পরিণত হয়েছে টগবগে গতিময় তরুণে। সে-ই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের সেরা বোলিং অস্ত্র।

ম্যাচ উইনার রাকিবুল
অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জয়সূচক রান করে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন রকিবুল হাসান। ২৫ বলে ৯ রান যদিও তেমন কিছু নয়, কিন্তু দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে অধিনায়ক আকবর আলীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই ক্রিকেটার।

পুরো টুর্নামেন্টেই বল হাতেও দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন তিনি। রাকিবুলের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম নগরবেড়ায়। সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া রকিবুল হাসানের পিতা শহীদ মিয়া একজন গাড়িচালক। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে রকিবুল দ্বিতীয়। দারিদ্র্যতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি যুব ক্রিকেটার রকিবুল হাসানের।

সবার মধ্যমণি শাহাদাত
২০১০ সালে বাবাকে হারান দিপু। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের চরকানাই গ্রামে দিপুর বাড়ি। দিপু গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে থাকেননি। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে দিপু সবার ছোট।

অল্প বয়সে বাবা হারানো দিপু অনেক সংগ্রাম করে ক্রিকেট চালিয়ে গেছেন। পাড়ার বড় ভাই সুদীপ্তের সহায়তায় চট্টগ্রামের ইস্পাহানি ক্রিকেট ক্লাবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান দিপু।

কিন্তু সেই ক্লাবে মাসিক বেতন দেয়ার সামর্থ্য ছিলো না পরিবারের। তবে ক্রিকেটের প্রতি অদম্য ইচ্ছা আর একজন দক্ষ ক্রিকেটার হয়ে ওঠার স্বপ্নটা ক্লাব কর্তৃপক্ষও দিপুর চোখে দেখতে পেয়েছিল।

হার না মানা মৃত্যুঞ্জয়
দুই ম্যাচ খেলেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েন অলরাউন্ডার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। কাঁধের চোটের কারণে দেশে ফিরতে হয় তাকে। গত এক বছরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বড় অবদান রেখেছেন এই অলরাউন্ডার।

চোটের কারণে ছিটকে পড়লেও তাকে নিয়ে বিসিবির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় আছেন মৃত্যুঞ্জয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলতে পেরেছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। কাঁধের পুরনো চোট তাকে খেলতেই দেয়নি। তাই বিশ্বকাপের মাঝপথে দেশে ফিরতে হয়েছে। সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ছেলে মৃত্যুঞ্জয়।

দৃঢ়চিত্তের নাবিল
২০১১ সালে মোহামেডানের কোচ সেলিম খুলনা মোহামেডান ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করার মাধ্যমে ক্রিকেটে যুক্ত হন প্রান্তিক নওরোজ নাবিল। ২০১৫ সালে দিনাজপুর বিকেএসপিতে ভর্তি হন নাবিল। প্রথম এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৮ রান করেছিলেন এই ক্রিকেটার।

২০১৮-১৯ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্রিকেট দলের হয়ে লিস্ট এ ক্রিকেট তালিকায় স্থান অর্জন করেন। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলে অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।

সংগ্রামী শাহীন
কুড়িগ্রামের জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের যমুনা পাইকপাড়া গ্রামের দিনমজুর শাহাদত হোসেনের পুত্র শাহীন আলম। তিন ভাই-বোনের মধ্যে শাহীন আলম ছোট।

মা সাতিনা বেগম একজন গৃহিণী। স্থানীয় কুড়িগ্রাম ক্রিকেট একাডেমির কোচ মনোজ কুমার দাস ময়না ক্রিকেটে তাকে প্রথম হাতেখড়ি দেয়।

এরপর ২০১৭ সালে বিকেএসপির হান্টিং দলের ক্রিকেট কোচ রুশো তাকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেয়। সেখান থেকেই তার উত্থান।

দীর্ঘদেহীর কারণে স্ট্রাইক বোলার হিসেবে সে শ্রীলঙ্কা ও নিউজল্যান্ডে জাতীয় দলের বয়সভিত্তিক গ্রুপের হয়ে সফর করে। সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেয়।

ব্যাটে বলে সমান মুরাদ
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে হাসান মুরাদ খেলেছেন দুই ম্যাচ কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল। ওই দুই ম্যাচে তিনি পান তিন উইকেট। হাসান মুরাদ কক্সবাজার ক্রিকেট একাডেমির খেলোয়াড় ছিলেন।

বাবা নাজিম উদ্দিন ও মা রাশেদা বেগম। তাদের চার সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় হাসান মুরাদ। শহরতলীতে আধাপাকা একটি বাড়িতে বসবাস তার। হাসান মুরাদের জন্ম ২০০১ সালের ১ জুলাই।

কক্সবাজার সরকারি কলেজের পেছনে কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ। তারপর কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি থেকে ২০১২ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। সেখান থেকেই ২০১৭ সালে এসএসসি ও ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। এখন চলছে স্নাতক পর্ব।

আমারসংবাদ/এমএআই