মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১৪,২০২০, ০১:৫৫

জুলাই ১৪,২০২০, ০১:৫৫

ঘিওরে জমে উঠেছে নৌকার হাট

বর্ষার আগমনে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। জেলার নিম্নাঞ্চলে বর্ষার পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় কিছু কিছু এলাকার জনবসতি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ওই সব পানিবন্দি মানুষের চলাচলের জন্য ডিঙি নৌকাই একমাত্র ভরসা।

যে কারণে এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ সাধ্যের মধ্যে নৌকা কিনতে হাটে ছুটে আসছে প্রতিনিয়ত। মানিকগঞ্জ জেলার চারপাশে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় নদী বয়ে গেছে।

হরিরামপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে উত্তাল পদ্মা, শিবালয়, দৌলতপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা, ঘিওর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কালিগঙ্গা। বর্ষার শুরুতেই এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এজন্য এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহন ও যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা।

সরেজমিন দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার ঐতিহ্য বহন করছে শত বছরের পুরনো নৌকার হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ হাটে নৌকা কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছে এবং বিক্রেতারা নৌকা সাজিয়ে বসে আছে।

ওইসব পানিবন্দি নিম্নাঞ্চলের মানুষ উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে টাঙ্গাইলের নাগরপুর, ঢাকার সাভার, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত নৌকা নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। মহামারি করোনার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সাধ্যের মধ্যে নৌকার দরদাম নিয়ে ব্যস্ত।

নৌকার কাঠামো তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আম চাম্বল এবং রেইন্টি কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। প্রতিটি নৌকা মান ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি নৌকা তিন থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় তবে এ বছর নৌকার দাম নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

উপজেলার জিয়নপুর এলাকা থেকে নৌকার ক্রেতা লতিফ মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া চলাচলে আমাদের অসুবিধা হয়ে যায়। গত বছর পুরনো ডিঙি দিয়েই চলেছি কিন্তু এ বছর ওই ডিঙি নষ্ট হয়ে গেছে।

যে কারণে ঘিওরের নৌকার হাটে এসেছি নৌকা কিনতে। তবে এ বছর মনে হয় নৌকার দাম অনেক বেশি। তবুও চেষ্টা করছি সাধ্যের মধ্যে একটি ডিঙি নৌকা কিনতে। ঘিওরের হাটে ডিঙি নৌকা বিক্রেতা মানিক চাঁদ সূত্রধর বলেন, বর্ষার শুরুতেই নৌকার  
ব্যাপক চাহিদা বাড়ে।

প্রতিদিন সাত-আটটি নৌকা বিক্রি করি তবে এ বছর নৌকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ ও লোহার দাম কিছুটা বেশি। যে কারণে নৌকা তৈরিতে খরচ আগের চেয়ে একটু বেশি পড়ছে আর এ কারণেই নৌকার দাম কিছুটা বেড়েছে।

নৌকার ব্যাপারী শ্যামল মাঝি বলেন, প্রতিবছর আমি সিরাজগঞ্জ ও ঢাকার সাভার থেকে নৌকা অর্ডার দিয়ে তৈরি করে এ হাটে এনে বিক্রি করি। এ বছরও বেশ কয়েকটি নৌকা নিয়ে এসেছি।

১০ হাত একটি নৌকা তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করছি এ রকম ১১/৩ সাইজের নৌকা চার হাজার, ১২/৩ সাইজের সাড়ে চার হাজার, ১৩/৩ সাইজের পাঁচ হাজার, ১৪/৩ সাইজের সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ১৫/৩ সাইজের নৌকা বিক্রি করি সাত-আট হাজার টাকায়।

এ নৌকার হাটের সাধারণ সম্পাদক মওলানা আব্দুল মতিন মুসা বলেন, নৌকার হাটটি শত বছরের পুরনো। এ হাটটি আমাদের উপজেলার ঐতিহ্য বহন করে চলছে এখনো।

বর্ষা এলেই এ হাটে শুধু মানিকগঞ্জ জেলা নয়, আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ পছন্দ অনুযায়ী নৌকা কিনতে ছুটে আসে। এ বছরও শত শত নৌকা নিয়ে হাজির হয়েছে নৌকা ব্যবসায়ীরা, আর প্রতিদিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিলন মেলায় মুখরিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকার এ হাটটি।

আমারসংবাদ/এসটিএম