মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়া

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ১৪,২০২০, ০১:৫৭

জুলাই ১৪,২০২০, ০১:৫৭

কুষ্টিয়ার কয়েদিরা বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জানতে পারছে

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী জানার ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন উপন্যাস পড়ে জ্ঞান অর্জন করতেই এবারই প্রথম চালু করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে লাইব্রেরি। কারাগার কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এই লাইব্রেরিতে চেয়ার-টেবিলে বসে কারাবন্দিরা বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।

সকালে খাবার শেষে কারাবন্দিরা লাইব্রেরিতে গিয়ে বিভিন্ন লেখকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বাল্যকাল,
কিশোর, রাজনৈতিকজীবনে কারাবাস ও ঘটনাবহুল রানৈতিকজীবনের বিভিন্ন ঘটনা, রোজনামচা, আমার দেখা নয়াচীন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, স্মৃতিকথা রাজনৈতিক জীবনের দুর্লভ তথ্য জানতে পেরেছেন।

তিনি বাংলাদেশের এক মহারাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। যার জন্ম এ দেশে না হলে হয়তো বাংলাদেশ নামের একটি সুন্দর দেশ উপহার পাওয়া যেত না। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আগে আমরা অনেক কিছু জানতাম না। এখন লাইব্রেরি থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে অনেক কিছু জানতে পারছি। এমন উক্তি করলেন কারাবন্দি এক হাজতি।

অপর এক কারাবন্দি বললেন, আগে আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে অনেক ভুল ধারণা ছিলো। কিন্তু কারাগারে এসে লাইব্রেরি থেকে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ে সেই ভুল ভেঙে গেছে। তিনি একজন মহামানব ছিলেন।

তার মতো মহামানব এদেশে আর জন্ম নেবে কি না তা জানি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তাই আমরা শ্রদ্ধার সাথে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে যাবো। কারাগারে লাইব্রেরি চালু না হলে আমরা তার সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতাম না। এজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সুপার মো. জাকের হোসেন বলেন, তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ইচ্ছা ছিলো কারাগারে বন্দিদের নিরক্ষরমুক্ত করা। সেই সাথে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা।

তিনি তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে কারাগারে শিক্ষকের মাধ্যমে নিরক্ষর কারাবন্দিদের অক্ষরদান, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ, সর্ব শেষে কারাগারে লাইব্রেরি তৈরি করেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য সহযোগিতায় তিনি আজ সফল হয়েছেন। কারাগারে এখন আর কেউ নিরক্ষর নেই। সবাই স্বাক্ষর করতে শিখেছেন। লেখাপড়া করতে পারছেন। কেউ আর টিপ-সহি দেন না।

পত্র-পত্রিকা পড়ে দেশ-বিদেশের খবরসহ ধর্মীয় হাদিস কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী জানতে পারছে। সেই সাথে হাজতি ও কয়েদিদের দেখতে আসা মা-বোনদের সন্তানদের বুকে দুগ্ধ পান করার জন্য একটি মাতৃদুগ্ধ সেবন কক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন। সেখানে বসে দর্শনার্থী মা-বোনরা তাদের শিশু সন্তানদের শালীনতা বজায় রেখে বুকের দুগ্ধ সেবন করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া কারাগারে ৯শ জন কারাবন্দি রয়েছেন।

তারা এখন কারাগার থেকে শিক্ষা নিয়ে জামিন পেয়ে বাড়ি বসেই কর্মকরে খেতে পারছেন বলে জানালেন এক জামিনপ্রাপ্ত হাজতি জাহিদুল ইসলাম জানান, জেল সুপার মো. জাকের হোসেন যদি কারাগারে লাইব্রেরি না তৈরি করতেন তা হলে আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী জানতে পারতাম না। আমরা কোনোদিন বই-পুস্তক পড়ি নাই তাই জানি না। কারাগারে বন্দি থেকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি যা আমাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

আমারসংবাদ/এসটিএম