বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০

৭ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

ইসলাম রকিব, চুয়াডাঙ্গা

প্রিন্ট সংস্করণ

সেপ্টেম্বর ২১,২০২০, ০১:১৭

সেপ্টেম্বর ২১,২০২০, ০১:১৭

ভোগান্তির নাম মাথাভাঙ্গা ব্রিজ

সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি দেড় বছরেও চালু হয়নি। ব্রিজের হাজরাহাটি অংশে অবৈধ স্থাপনা থাকায় সংযোগ সড়ক হচ্ছে না বলে জানায় চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

ফলে দুই পাশের ১০-১৫টি গ্রামের জনগণকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এলজিইডির পক্ষে অবৈধ স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিলেও তা সরানো হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রিজটি চালু করা হোক।

এলজিইডি সূত্র জানায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে চুয়াডাঙ্গার হাজরাহাটি গ্রামে ৯৬ মিটার লম্বা একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ছয় কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের শুরুর দিকে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় দেড় বছর। কিন্তু ব্রিজটি আজো চালু করা যায়নি।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্রিজের হাজরাহাটি অংশে সরকারি জমিতে কিছু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। কয়েকটি দোকানঘর ও একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এগুলো অপসারণ করা না হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য দখলকারীদের পত্র দেয়া হয়েছে।

হাজরাহাটি গ্রামের কালাম জোয়ার্দ্দার জানান, বর্তমানে যেখানে ব্রিজ তৈরি হয়েছে সেখানে আগে নৌকা বা বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হতো। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে ব্রিজটি নির্মাণ শুরু হয়।

কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় ব্রিজটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। অন্যদিনে অসমাপ্ত কাজের জন্য পড়ে থাকা নির্মাণসামগ্রীও নষ্ট হচ্ছে।

হাজরাহাটি গ্রামের সাইফুল ইসলাম পিনু জানান, ব্রিজ চালু না হওয়ায় অন্তত ৩০ কিলোমিটার ঘুরে অনেককে বিকল্প পথে চুয়াডাঙ্গায় যাতায়াত করতে হয়। তাছাড়া, ব্রিজের দুই পাশ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। কাজ অসমাপ্ত থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। হেঁটে যাতায়াতেও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

শিয়ালমারী গ্রামের আব্দুল হালিম ও লিটন আলী জানান, শিয়ালমারী, বটিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ পার হয়ে চুয়াডাঙ্গায় যাতায়াত করে। ব্রিজের দুই পাশ অসমাপ্ত হওয়ায় তা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

অভিযুক্ত অবৈধ স্থাপনাকারী হাজরাহাটি গ্রামের হাতেম আলী বলেন, ‘আমার বিল্ডিংয়ের যে অংশ বাড়তি ছিলো তা ভেঙে নেয়া হয়েছে। এখন আর অসুবিধা থাকার কথা নয়। আমিও চাই রাস্তাটি হোক।’ তবে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিল্ডিংয়ের বেশকিছু অংশ এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণের জায়গা দখল করে আছে।

চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ সানা দৈনিক আমার সংবাদকে জানান, ব্রিজটির হাজরাহাটি প্রান্তে যেসব জমিতে অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যেই চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার জন্য।

সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের জমি এ জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। এ অবৈধ স্থাপনা সরানো হলে খুব দ্রুতই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর সুফল পাবে এলাকাবাসী।

আমারসংবাদ/এআই