বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০

৭ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

সেপ্টেম্বর ২৫,২০২০, ১২:৫৩

সেপ্টেম্বর ২৫,২০২০, ১২:৫৩

ফের বাড়ছে চালের দাম: সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী আছেন, যারা সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। সুযোগ পেলেই তারা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে অনৈতিক মুনাফা লোটার চেষ্টা করেন। তেমনটাই দেখা গেছে সমপ্রতি পেঁয়াজ নিয়ে।

ভারত হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করায় অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজ ১০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হতে থাকে।

অথচ বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ প্রচুর এবং কোনো ব্যবসায়ীকেই বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভারত ফের এলসি করা পেঁয়াজ রপ্তানি শুরু করেছে। এতে দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এরই মধ্যে নতুন সিন্ডিকেটবাজি শুরু হয়েছে চাল ও ভোজ্য তেল নিয়ে। দিন তিনেকের মধ্যে বাজারে সব ধরনের চালের দাম দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। খোলা ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে বেড়েছে পাঁচ টাকা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, রাজধানীর চালের আড়ত ও পাইকারি দোকানগুলোতে দুই দিন আগে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বাড়তি ছিল। খুচরা দোকানে বিক্রি হয়েছে আরও বেশি দামে। কুষ্টিয়ার চালকলগুলোতেও চালের দাম কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেশি নেয়া হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চালের দাম এভাবে হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কোনো কারণই নেই। মিলাররা বলছেন, ধানের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই চালের দাম বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু তাদের এমন যুক্তি ধোপে টেকে না। যারা বাজার মনিটরিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আর ভোজ্য তেলের দাম বাড়ার ব্যাপারে পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেছে। এটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন যে আন্তর্জাতিক বাজারে আদৌ দাম বেড়েছে কি না, বাড়লে কত টাকা বেড়েছে এবং বর্ধিত দামের তেল আমাদের বাজারে এসেছে কি না। আসলে সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ বা মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল।

আর এরই সুযোগ নেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে খোলাবাজারে চাল বিক্রি বা ওএমএসের ব্যবস্থা থাকলেও তা এতটাই দুর্বল যে বাজারে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। তদুপরি বাজারে সংকট তীব্র না হলে খোলাবাজারে বিক্রি শুরু হতেও দেখা যায় না।

আমরা আশা করি, চালের দাম অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাওয়ার আগেই সব রকম উপায়ে বাজারে হস্তক্ষেপ করা হবে। ওএমএসে চাল বিক্রি দ্রুত শুরু করতে হবে।

পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওঠানামা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে। অতি মুনাফাখোর ও সুযোগসন্ধানীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না।

আমারসংবাদ/এসটি