মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০

৪ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

মাহবুবুর রশিদ, কানাইঘাট (সিলেট)

প্রিন্ট সংস্করণ

অক্টোবর ১৮,২০২০, ০১:৩৭

অক্টোবর ১৮,২০২০, ০১:৩৭

কানাইঘাটে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার

শহীদ মিনার। ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নির্মিত  স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথম স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত।

মাতৃভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন সেই সকল শহীদদের স্মরণে এবং ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার।

এর আগে উপজেলার কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার ছিলো না। ফলে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারত না স্কুলের শিক্ষার্থীরা। অবশ্যই  কিছু প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে বাঁশ,কাঠ কিংবা কলাগাছ দিয়ে প্রতীকী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতো।

তবে এবারের ২১ ফেব্রুয়ারিতে সেটি আর হবে না। স্থায়ী এবং দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবে স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাটে ১৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে,বিদ্যালয় চত্বরে সগৌরবে মাথা তুলে রয়েছে শহীদ মিনার। এক একটি শহীদ মিনার বিদ্যালয়গুলোর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

এর মধ্যে উপজেলার আব্দুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শিল্পশৈলীপূর্ণ শহীদ মিনারের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। দৃষ্টিনন্দন এই শহীদ মিনারের ডিজাইনার একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জাহেদ হোসাইন রাহীন।

শহীদ মিনার প্রসঙ্গে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় স্কুলে ভাষা দিবসের কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে তারা শহীদ মিনার    নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ভাষা শহীদদের নাম যাতে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা সহজে শিখতে পারে তাই শহীদ মিনারের স্তম্ভে ভাষা শহীদদের নাম ও ‘মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাংলা ভাষা’ লিখেছেন যা শহীদ মিনারের সৌন্দর্য ও গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে।

কানাইঘাট উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার মহিউদ্দিন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় কাজ। শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা দিবসের তাৎপর্য্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে আমাদেরকে একটি চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয় কানাইঘাট উপজেলায় কতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। আমাকে এই রিপোর্টে নীল রিপোর্ট দিতে হয়।

পরবর্তীতে আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং প্রাথমিক শিক্ষা কমিটিকে অবগত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ হবে। তারই প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় এ বছর ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। কারণ তাদের সহযোগিতা না পেলে হয়তো শহীদ মিনার নির্মাণ সম্ভব হতো না।’

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোপাল সুত্রধর বলেন, ‘প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত একটা ব্যাপার ছিলো, প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতে শহীদ মিনার নির্মিত হয়।

যাতে ছোট্ট সোনা-মণিরা বুঝতে পারে যে, শহীদ মিনারটি কি জন্য নির্মিত হয়েছে এবং জানতে পারবে ভাষার জন্য এই দেশের মানুষ তাদের জীবন দান করছেন। তারই প্রেক্ষিতে সরকার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

আমারসংবাদ/এসটিএম