বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৪ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ১৩,২০২০, ১১:৩৭

ফেব্রুয়ারি ১৩,২০২০, ১১:৪১

হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প মাটি কাটা বন্ধ করতে হবে

শুষ্ক মৌসুমের সামান্য পানির প্রবাহেও কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড়ে তীব্র ভাঙন হচ্ছে। এতে খোকসা উপজেলার হেলালপুর আশ্রায়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। গড়াই নদীর বাম তীরে খোকসা উপজেলার হেলালপুর আশ্রায়ণ প্রকল্প, শহর রক্ষাবাঁধসহ গোটা এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা ও জনপদ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে আক্রান্ত এ জায়গা রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে নদীর ‘মরফোলজিক্যাল চেঞ্জের’ ফলে সেখানে নদীর বাঁক জনপদে ঢুকে পড়তে পারে। শুষ্ক মৌসুমে আকস্মিক গড়াই নদীর পাড় ভেঙে সেখানকার বাসিন্দারা বিপদের মুখে পড়েছে। এই প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়া ৩৫টি পরিবারের সবাই সম্বলহীন উদ্বাস্তু।

জানা গেছে, প্রতিবছর ইটভাটার জন্য নদী ও তীর থেকে মাটি তোলার কারণে নিচু হয়ে যাওয়ায় পানি ঢুকে সৃষ্টি হয়েছে এ ভাঙন। এই ভাঙন বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে সেখানে বসবাসকারীরা আগে যেমন ভাসমান উদ্বাস্তু ছিলো, আবার তাই হয়ে যাবে।

প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, এই ভাঙনে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর মাঝে চর জেগে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রবাহমুখের দিক পরিবর্তন হয়েছে এবং নদী তীর থেকে মাটি কেটে নেয়ার ফলে নিচু হয়ে যাওয়ায় পানি ঢুকে ওই স্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে বালুর বস্তা ফেলে এ ভাঙন মোকাবিলার চেষ্টা চলছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মতে, জায়গাটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো, খোকসা শহর রক্ষায় সেখানে গ্রোয়েনও (সিমেন্টের ব্লক ফেলা) করা হয়েছিল। সেটাও এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। মূলত ওই জায়গায় বিভিন্ন ইটভাটা রয়েছে। ভাটাগুলোতে সরবরাহের জন্য মাটি কেটে নেয়া হয়।

এমনিতেই ইটভাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তার উপরে মানুষের বিপদ হবে জেনেও অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেয়াটা গর্হিত অপরাধ। নদীর ভাঙন থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প রক্ষায় যাতে কেউ অপরিকল্পিত মাটি খনন করতে না পারে সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ