শিরোনাম

সুন্দরবনের ঐতিহ্য রক্ষা ঐতিহ্যের ধারা বজায় থাকুক

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ১২:০৯, জুলাই ০৭, ২০১৯

সুন্দরবনের জন্য গভীর উদ্বেগ ও দৃঢ় সংহতির জায়গা তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, কল-কারখানা বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির বিকল্প দেশে বহু স্থান ও জায়গা আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই।

বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের দরকার, কিন্তু এ কারণে দেশকে মহাবিপদে নিক্ষেপ করা যাবে না। অসাধারণ জীববৈচিত্র্য ভরা, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরবন আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। যে সুন্দরবন আমাদের বিপুল সম্পদ জোগান দেয়।

যে সুন্দরবন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করে। জীববৈচিত্র্যের অসাধারণ আধার হিসেবে আমাদের সকলের প্রাণ সমৃদ্ধ করে। এই বন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষের প্রধান অবলম্বন।

যে বন জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের টিকে থাকার প্রধান শক্তি। ইতোমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণ ও মহাকাশে বাংলার নতুন ঠিকানা স্থাপন করে দেশ আরেকটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে পদার্পন করেছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাওয়া জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এরপর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, এবং এটা সম্ভবও।

কিন্তু অসাধারণ জীববৈচিত্র্য ভরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত আরেকটি সুন্দরবন তৈরি করা বিশ্বের কারো দ্বারাই সম্ভব নয়। বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবনের চারপাশে ১৫৪টি শিল্পকারখানা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কমিটি বাংলাদেশের সুন্দরবনসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে। সুন্দরবনের সুরক্ষা এবং বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ১১ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশকে জমা দিতে বলা হয়েছে।

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে গত ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভার বিষয়ে প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুন্দরবনকে বিপন্ন বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনেসকো।

এছাড়া সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় এক বছর বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। ২০২০ সালের বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৪তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি হবে না, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের সুন্দরবনে আসবে। তারা সুন্দরবনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও পানিপ্রবাহের ওপর একটি সমীক্ষা করবে।

চারপাশের শিল্পকারখানা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করে দেখবে।

সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার যেসব অঙ্গীকার করেছিলো, তা যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলে জানিয়ে আসছে ইউনেসকো। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিলো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র।

আজারবাইজানের সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ মোট ১০জন উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনার শুরুতে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভাপতি আঠুলফাস গারায়াভ সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেসকোর অবস্থান তুলে ধরতে আহ্বান জানান। সেখানে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্যের ১৬.৩ ধারা অনুযায়ী বিশ্ব ঐতিহ্যের পাশে বড় কোনো শিল্পকারখানা হতে দেওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ তা লঙ্ঘন করেছে। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের দুটি লাইন তুলে ধরে বলেন, ‘মা তোর বদনখানি মলিন হলে, আমি নয়ন জলে ভাসি’। এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ দরকার।

আর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থান সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা থেকে অনেক দূরে। সুন্দরবনের সম্পদ এখনো হিসাব করে বলা সম্ভব না। কেননা, এই বনের জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার অনেক কিছুই আজও বিজ্ঞানীদের অজানা।

এছাড়া এই বনের প্রাণিদের মধ্যে যে জিনগত সম্পদ রয়েছে, তা এখনও অমূল্য সম্পদ হিসেবেই বলা হয়। আমরা চাই সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্মান অটুট থাকুক। এজন্যে রামপাল প্রকল্প বা সুন্দরবন ঘিরে ফেলা বনগ্রাসী, ভূমিগ্রাসী প্রকল্পের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে সরকারকে আরো শতবার ভাবতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত