শিরোনাম

‘জা’দের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত বাঙালি

প্রিন্ট সংস্করণ॥সাইফউদ্দিন মো. শোভন   |  ০২:২৪, জুলাই ১৯, ২০১৯

এখানে ‘জা’ বলতে বুঝানো হয়েছে, যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নামের প্রথম অক্ষর “জা” তারাই পর্যায়ক্রমে স্বৈরাচার এবং সামপ্রদায়িক গোষ্ঠি, যেমন জা-তীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জা-মায়াতে ইসলামী, এবং জা-তীয় পার্টি।

মূলত এই তিন গোষ্ঠীই বাংলাদেশে অশুভ শক্তি হিসাবে দেখা দিয়েছে। কি আশ্চর্য রকমের মিল এই তিনটি দলই বাংলাদেশের জন্য অশুভ শক্তি। এই দলগুলোর নামের প্রথম অক্ষর “জা” স্বাধীনতার পর মাত্র ১৩ বৎসর ক্ষমতা “জা” দের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১৯৭৫ সাল থেকেই শুরু হয় “জা”দের জাঁতাকল। ৭৫ থেকে শুরু হয় প্রথম জাতাকলের “জা”।

এদের শাসনামলের ইতিহাস বড় নির্মম নিষ্ঠুর। বাংলাদেশের লুটেরা ধণিক গোষ্ঠির উদ্ভব তাদের শাসনামলেই। তখনকার শাসকগোষ্ঠি ৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধীতাকারীদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে।

এর পাশাপাশি তাদের মূল নেতা গোলাম আযমকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার আবহাওয়া সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিবেশ ঘোলাটে করার পায়তারা করেছে।

তৎকালীন “জা” সরকার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নামক কৃত্রিম জাতীয়তাবাদী ধূয়া তুলে বাঙালি জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা শুরু করে।

এখন সুস্পষ্ট বাঙালি জাতিকে দুটি ধারায় বিভক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। একটি স্বাধীনতার পক্ষের আরেকটি বিপক্ষের শক্তি। কিন্তু’ প্রশ্ন হল, স্বাধীনতার আট চল্লিশ বৎসর পরেও কেন স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিদ্যমান ?

স্বাধীনতার বিপক্ষের ধারাই মূলত: বিভিন্ন ‘জা’ এ বিভক্ত। এখন কথা হতে পারে এরা কারা। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর হতে ১৯৯৬ পর্যন্ত যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই ‘জা’ এবং ৭১ সালের স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।

এখন আসা যাক পরবর্তী শাসনামলের কথা, ১৯৮২ এর দিকে আরেক অপশক্তির উত্থান ঘটলো। একই শক্তি ‘জা’ কিন্তু’ এরা প্রায় নয় বৎসর দেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলো। এরা সেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রদের পুনর্বাসিত করে।

শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকার সুবাদে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক ফায়দা লুটে এবং কাজ হাসিল করে। দেশে স্বৈরতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয়। সমস্ত ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যান ধারণা এবং ধর্মীয় কুসংস্কার, ভণ্ডামীর কলাকৌশল সুকৌশলে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়।

টিভি, রেডিও একদলীয় শাসনের একচেটিয়া প্রচার মাধ্যমে পরিণত হয়। নামে মাত্র বিরোধী দল সৃষ্টি করে প্রচার করা হয় এবং দেখানো হয়। পার্লামেন্টে ও তৈরি করা হয়; যাকে বলা হয় রাবার স্ট্যাম্প পার্লামেন্ট।

এই সময়কার শাসনক্ষমতায় শীর্ষাসনে যিনি ছিলেন, তিনি এখন তৃতীয় সারীর নেতা। সমাজের এটাই নিয়ম। গণমানুষের বিরুদ্ধাচারণকারীরা সমাজে এরকম আস্তাকূঁড়েই নিক্ষিপ্ত হয়।

১৯৭১ সনের বিরোধীতাকারীরা এখনো ক্ষমতায় আসে। হয়তোবা একদিন ওরা গণমানুষের কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হবে। বাংলাদেশের বয়স এখন আটচল্লিশ বৎসর।

একজন পরিপূর্ণ যুবক যেমন কোনো অন্যায়, অত্যাচার সহ্য করতে পারেনা, ঠিক তেমনি সেই যুবকটি স্বৈরতন্ত্র, মৌলবাদ, স্বৈরাচার, স্বেচ্ছাচার ও সামপ্রদায়ীক শক্তিকে উৎখাত করবেই।

তারই উদাহরণ পাওয়া যায় ১৯৯০ এর গণ আন্দোলনে। ৯০ এর পূর্ববর্তী সরকারে যারা ছিলেন, মূলত তারা ছিলেন সমাজে লুটপাটকারী, সুবিধাবাদী, আমলাতান্ত্রীক সরকার। নিজেদের স্বার্থে এমন কোনো কাজ নেই যে তারা করেননি।

প্রচার মাধ্যমগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারসহ জনগণের পরিশ্রমের, হকের টাকা পয়সা এদিক-সেদিক করা ইত্যাদি। তাদের পূর্ববর্তী “জা”-রাও একই কায়দায় শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। এ সমস্ত ক্ষমতাসীনদের রাজত্ব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তাদের প্রত্যেকেরই ধরন একই রকম ছিলো।

এখন মূল প্রশ্নে আসা যাক, এরা কারা। অত্যন্ত পরিষ্কার এরা কখনো চায়নি জনগণের জন্য কিছু একটা করা। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসকে এরা বিকৃত করতে কুণ্ঠা বোধ করেনি। এ ধরণের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলার জনগণ সবসময়ই সোচ্চার থেকেছে।

৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ঐ ধরণের “জা” শক্তিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি ব্যালট যুদ্ধে তাদের হারানো হয়েছে।

৬২-র হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে বাংলার ছাত্র সমাজ আন্দোলন করে বিজয় সুনিশ্চিত করেছে। ৬৯-র গণঅভ্যুত্থানে জনগণ লৌহমানব আয়ূবকে পরাজিত করেছে। “জা” রা বেশিদিন একই চেহারায় টিকতে পারেনি। আসলে ওদের প্রেতাত্মারা ভিন্ন চেহারায়

রুপ ধারণ করে বার বার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। ৯০-এর আন্দোলনে নব্য প্রেতাত্মারা একটি মুক্ত নির্বাচনে অর্থের দাপট দেখিয়ে বোকা সহজ সরল জনগণকে, ধর্মের অপব্যখ্যা দিয়ে, মিথ্যা বানোয়াট কথা বার্তা বলে পূর্ববর্তী “জা”দের কাছ থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়। কিন্তু এসব কেন ?

কেনই বা তারা চায় না, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, নারী ও শিশুদের ন্যায্য অধিকার পূরণ হতে ? এ সকল প্রশ্নের উত্তর আমরাই তাদের কাজ কর্মের মধ্য দিয়ে পাই। অবশেষে সেটি হলো ঐ “জা”দের প্রেতাত্মাদের ক্ষমতায় এনে আবার সেই স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় প্রচার মাধ্যমে, শিল্প প্রতিষ্ঠানে, স্কুল, কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করে।

এভাবেই “জা”দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় বাঙালি জাতি। নিষ্পেষিত হয় বাঙালি জাতি। প্রত্যেক ‘জা’ রাই একে অপরের জাতি ভাই। তা না হলে একদল “জা” ক্ষমতায় এসে, আরেকদল “জা” কে কেনই বা ক্ষমতার শেয়ার দেয়।

৭৫ পট পরিবর্তনের পর থেকে “জা” জাতি ভাইদেরই তাণ্ডবলীলা চলেছে। মনে হয় যেন তারা নিজেদের মধ্যে রচনা করেছেন সুন্দর ঐক্যবদ্ধভাবে পালাবদলের ক্ষমতা।

তারা সুন্দর কায়দা করে, কে কত বেশী নিষ্ঠুর হতে পারে, আসলে কথা একটি আর সেটি হল, ঐ “জা”দের কাছ থেকে বাঙালি জাতিকে উদ্ধার করা। যদিও দেশে এখন সংসদীয় সরকার পদ্ধতি।

এর থেকে মুক্তি সম্ভব। সেই “জা” বলয় থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুখী সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনে নেতৃত্ব দেয়া। এখন প্রশ্ন আসে যে, কারা এর নেতৃত্ব দেবে। “জা”দের বাদ দিলে আর যে সমস্ত দল থাকে, তারা তো দ্বিধা বিভক্ত।

তাদের মধ্যে অনেক ভুলত্রুটি বিদ্যমান। তাহলে উপায়, উপায় আছে, সেই ভুলত্রুটি সংশোধন করে, দ্বিধা বিভক্তি কাটিয়ে উঠে ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় শক্তিশালী হিসাবে নিজেদেরকে গড়ে তোলা। মনে রাখতে হবে “জা” রা অনেক বেশী শক্তিশালী।

এরা এমনই শক্তিশালী, তাদের বিদেশি প্রভু রয়েছে, যারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে। সেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যাদের মদদে এ দেশের “জা” রা পরিচালিত হয়।

আর অন্যান্য দলগুলোর ভুলত্রুটি, দ্বিধা বিভক্তি ও দুর্বলতার সুযোগে “জা” রা অনেক বেশী শক্তিশালী ও জনগণের নিকট আস্থার্জনে সক্ষম হয়। আসলে সমাজের বাস্তব পরিস্থিতিই ভিন্ন, জনগণ তাদের আসল মিত্র শক্তিই খুঁজে পায়নি।

কিন্তু’ ঠিকই সময় মতো শত্রু চিনে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ে। সেই শত্রুগুলোই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে “জা” রাই। অতএব কাজ দুটি, প্রথমত: “জা”দেরকে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে দেশ ও জনগণকে মুক্ত রাখা এবং তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কারভাবে অবহিত করানো।

দ্বিতিয়ত: এমন রাজনৈতিক প্লাটফরম তৈরি করা যাতে করে জনগণ তাদের সঠিক মিত্রশক্তি চিনতে পারে এবং সর্বোপরি বাংলাদেশ তার আপন ভাগ্য আপনিই তৈরি করতে পারে। প্রথম কথামতে “জা” কারা সেটি এভাবে চিহ্নিত করতে পারি।

যে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নামের প্রথম অক্ষর “জা” তারাই মূলত “জা” অপ:শক্তি হিসাবে চিহ্নিত। কি আশ্চর্য রকমের মিল যেমন:- ১. জা-তিয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্বৈরাচারের পদলেহনকারী, সামপ্রদায়ীকতাবাদী, ডান ও দক্ষিণপন্থী, সাম্রাজ্যবাদের দোসর, লুটপাটকারী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, ২. জা-মায়াতে ইসলামি (সামপ্রদায়ীক, মৌলবাদী গোষ্ঠী, স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার)

৩. জা-তীয় পার্টি স্বৈরাচার, সাম্রাজ্যবাদের পদলেহনকারী। ইত্যাদি দলগুলোই মূলত “জা” জাতি হিসাবে পরিচিত। দ্বিতীয়ত যে কথাটি বলা হয়েছে সেটি হচ্ছে, এদের থেকে জনগণকে মুক্ত রাখতে হবে। তার জন্য যে রাজনৈতিক প্লাটফরম দরকার সেটি এখানে একেবারেই অনুপস্থিত তা নয়।

সমস্ত দেশপ্রেমিক শক্তি, মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষের শক্তির সমন্বয়ে একটি মানবিয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দরকার, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ হবে।

এখন বাংলাদেশের হাজারো সমস্যা, এবং সমস্ত সমস্যাই গুরুতর। এসব সমাধানে ব্যাক্তিবর্গ, প্রতিষ্ঠানকেই এগিয়ে আসতে হবে। ক্ষমতা নিতে হবে। নচেৎ সম্ভব নয়। যদিও দু একটি দলের ভিতর এরকম সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো।

তাহলে আমাদের মাঝ থেকেই উদ্যোগটিই নিতে হবে। এবং শুধু উদ্যোগ নিলে হবে না, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। এখনই এই কাজটা হাতে নেয়া সম্ভব। জনমত গড়ে তুলতে হবে। জনতাকে সাথে নিয়ে।

একদিন সফলতা আসবেই। জনগণ মিত্র চিনতে পারে নাই, মিত্র জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠা করবে। এখন নেতৃত্বের সংকট। কে দিবে সেই নেতৃত্ব। “জা” দের বাদ দিলে যে রাজনৈতিক অংশটি থাকে সেটা দ্বিধাবিভক্ত। আজকে এই সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

যদিও আওয়ামী লীগ ৭১ পরবর্তী সময় ক্ষমতায় এসেছিলো, কিন্তু কিছু রাজাকারদের ক্ষমা করে যে ভুল সেদিন করেছিলো, আজ সেই ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে। আবার বামপন্থীদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা সেই “জা” দের সাথে (উগ্র ডানপন্থীদের সাথেও) আঁতাত করতে দ্বিধা বোধ করে না।

এমতাবস্থায় সেই প্রতিষ্ঠানটির বড়ই অভাব। এই অভাব দুইভাবে পূরণ করা যায়। সমস্ত প্রগতিশীল শক্তির এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির সমন্বয়। আমরা “জা” দের ক্ষমতায় দেখেছি। আওয়ামী লীগকেও ক্ষমতায় দেখেছি বা এখনো দেখছি।

কিন্তু বামদের ক্ষমতায় দেখেনি, তাই জনগণ তাদের যাচাইও করে নিতে পারেনি। বড় ব্যাপার হলো বামপন্থীরা ক্ষমতায় যাবার মতো অবস্থা এখন পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারেনি স্বাধীনতার ৪৮ বছরে। তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এখন পর্যন্ত জোড়ালো নয়। মাথায় রাখতে হবে “জা” রা প্রচণ্ড শক্তিশালী।

সেখানে শুধু বাম দলের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসই যথেষ্ট নয়। তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। ক্ষমতায় থেকে দেশকে স্বনির্ভর হিসাবে গড়ে তোলাই প্রথম কাজ। প্রথম কথা হলো খাদ্য, চিকিৎসা, এবং সর্বোপরি কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করা।

গ্রামীণ বুর্জোয়ারা নিজেদের স্বার্থে আওয়ামী লীগে সংগঠিত অবস্থায় থেকে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টায় লিপ্ত। নেতা নেত্রীদের আচরণ শোভনীয় নয়। বামপন্থীদের আন্তর্জাতিক সংকটের সুযোগে ‘জা’ শক্তি সবসময়ই ব্যবহার করেছে।

এই পরিস্থিতি বামপন্থীদের নাজুক অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। বামপন্থীদের মধ্যে সিপিবিতে একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো। ‘জা’ দের নিয়ন্ত্রণ থেকে জনগণকে মুক্ত করার আপাত দৃষ্টিতে পথ একটিই আর সেটি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৃহত্তর সমাবেশ।

বরাবরই জনগণ তাদের মিত্র চিনতে ভুল করেছে। কিন্তু শত্রু চিনতে ভুল করেনি। কি অদ্ভুত এই দেশ বিচিত্র এই দেশের জনগণ। জনগণকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় এসে বেমালুম ছাত্র জনতার দাবি দাওয়ার কথা ভুলে যায়। ছাত্রের দাবি জনতার দাবি হয় ভুলুণ্ঠিত। মিথ্যাবাদীতার রাজনীতি দেশে ছেয়ে যায়।

ইসলামের নামে সরলতার সুযোগে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়। এমন অবস্থা ভাবা যায় না। যারা ক্ষমতায় যায় নাই, তাদের একবার ক্ষমতা নিলে কেমন হয়। দেখিই না তারা দেশ ও জনগণের কি কাজে আসতে পারে।

তাদের ক্ষমতায় নিতে এত ভয়ই বা কেন। নাকি তারাই ক্ষমতায় যেতে চায় না। ক্ষমতায় যেতে না চাওয়া ভিরু, কাপুরুষতার লক্ষণ। তা না হলে সেই উদ্যম আর সাহস কোথায়। আর যাই হোক ক্ষমতায় না গিয়ে দেশ ও জনগণের প্রকৃতপক্ষে কোন উপকারে আসা যায় না।

বিরোধীতার নামে বিরোধীতা করা হয়েছে সবসময়ই। গঠনমূলক বিরোধীতা কখনও করা হয়নি। পর্যায়ক্রমে ক্ষমতাদখলকারী “জা” স্বৈরাচারদের হাত থেকে নিষ্পেষিত বাঙালি জাতিকে বাঁচাতে হবে।

লেখক : কলামিস্ট ও সাবেক ছাত্র নেতা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত