শিরোনাম

ঘোষিত মুদ্রানীতি অর্থনীতিতে গতিশীলতা বৃৃদ্ধিই কাম্য

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০১:৪৪, আগস্ট ০৬, ২০১৯

এতদিন বছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে পুরো অর্থবছরের জন্য একবারই মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। গত বুধবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর। সার্বিক বিচারে এটিকে সতর্ক মুদ্রানীতি বলাই সমীচীন।

এতে নীতিনির্ধারণী সুদ হারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সরকার ঘোষিত ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতিকে সাড়ে ৫ শতাংশে রাখার লক্ষ্যমাত্রাই বিবেচিত হয়েছে মুদ্রানীতি ঘোষণায়।

উল্লেখ্য, বাজেট বাস্তবায়নে সরকার ঘোষিত আর্থিক নীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার লক্ষে বছরে দুটি মুদ্রানীতি ঘোষণা করার রীতি চলে আসছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষেই ঘোষণা করা হয় মুদ্রানীতি।

দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। গত অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিতে এই লক্ষ্য ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

গভর্নর দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সঙ্কট নেই, বরং ৮৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য আছে। অবশ্য তারল্যের অসামঞ্জস্য বিদ্যমান। আমেরিকায় বছরে আটবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার আগে থেকেই এর প্রতি সবার মনোযোগ থাকে।

ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসে। বিশ্বব্যাপী সাড়া পড়ে যায়। কিন্তু আমেরিকায় বাজেট কিভাবে হলো, কখন হলো, এসব নিয়ে বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। বাংলাদেশে শুধু বাজেট হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।

কারণ, বাজেটে করের বিষয় থাকে। অবশ্য মুদ্রানীতি তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, এখানে সুদের হার, বেসরকারি খাত কী পরিমাণ ঋণ পাবে তার ঘোষণা থাকে। উন্নত দেশে মুদ্রানীতির সঙ্গে শেয়ারবাজারের ভাল সম্পর্ক আছে, তবে বাংলাদেশে তেমনটা নেই।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দুর্বল হওয়ায় মুদ্রানীতি শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করতে পারছে না। আবার দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার মধ্যে বড় অঙ্কের খেলাপী ঋণ আছে। খেলাপী ঋণ অনেকটা কৃষ্ণগহ্বরের মতো। এটা অর্থনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

মুদ্রানীতির সব লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না হলেও যদি কাছাকাছি অর্জন হয় সেটাও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ধরে নেয়া হয়। অর্থনীতিবিদরা বারবার বলে আসছেন মুদ্রানীতি আরও ভালভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারি ব্যাংকগুলোর অদক্ষতা কমানো জরুরি।

উদার মুদ্রানীতি পেতে হলে কিছু শর্ত পূরণের প্রয়োজন পড়ে। উচ্চতর প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণ জোগানের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা প্রয়োজন বলে মনে করা হলেও অর্থনীতির প্রকৃত খাতে বিরাজমান ভৌত অবকাঠামোগত অপ্রতুল এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা নিরসন না করে অপরিমিত তারল্যস্ফীতি আনা মোটেই প্রবৃদ্ধিবান্ধব হতে পারে না।

মুদ্রানীতির উদ্দেশ্য যদি হয় অর্থ সরবরাহ তবে তা নিয়ন্ত্রণে যে হাতিয়ারগুলো রয়েছে তার মধ্যে গুণগত হাতিয়ার, যেমন নৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, রেশনিং, প্রচার ইত্যাদি কতটুকু কার্যকর সেটি নিয়ে তেমন কোন আলোচনা প্রায়শ দেখা যায় না।

অথচ গুণগত দিক বিবেচনায় এগুলো প্রয়োজন এবং খেলাপী ঋণের ছোবল থেকে ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ জরুরি।

উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষে নতুন বিনিয়োগ কর্মকাণ্ড জোরদার করার লক্ষে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক হার বজায় রাখার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন গভর্নর। আমাদের প্রত্যাশা, ঘোষিত মুদ্রানীতির আলোকে আগামীতে অর্থনীতির ক্ষেত্রে গতিশীলতা পরিলক্ষিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত