শিরোনাম

মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হবে সারা বছর

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০৬:৫৪, আগস্ট ১৭, ২০১৯

সারাদেশ এখন ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় বিপন্ন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। দুই সিটি কর্পোরেশন, সরকার, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সার্বিক সচেতনতা, সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কর্মযোগ এই রোগ নিরাময় হতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

এডিস মশা বাহিত এমন মারাত্মক রোগটিকে সামলাতে গেলে সংশ্লিষ্ট মশা নিধনই সর্বোত্তম উপায়। শুধু তাই নয়, বলা হচ্ছে ভদ্র, সজ্জন এই এডিস মশা ঘরের ভেতরের পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে এবং দশদিন পরই তা মশার বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ঘরের মানুষগুলোর রক্ত খেতে পছন্দ করে।

সুতরাং সাবধানতা শুরু হবে একেবারে নিজস্ব ভবন থেকে চারপাশে থাকা সীমানায় যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক হয়। ফলে সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব এখানে অনেক বেশি। এছাড়া মাশা নিধন ব্যবস্থাপনা নগর পরিকল্পনার নজরদারিতেই শুধু নয়, সারা বছর ধরে এমন কর্মযোগ চালানোও অপরিহার্য।

সাধারণত বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির স্বচ্ছ পানি মশা উপদ্রবের উৎস হলেও সারা বছর কোনো না কোনো মশা চারপাশের মানুষদের অস্থির করে তোলে। প্রতিবারই সেপ্টেম্বর থেকে এডিস মশার জ্বালাতন বাড়লেও এবার প্রায় দুই মাস আগে থেকেই এই ছোট কীটটির আবির্ভাবে জনগণের জীবন-প্রাণ একেবারে ওষ্ঠাগত। এমন সাবধানতা আগের থেকেই ঘোষণা করা হলেও নগর কর্তৃপক্ষ মোটেও আমলে নেয়নি।

শুধু তাই নয়, ডেঙ্গু ছড়ানোর পরও কার্যকরী ওষুধের অভাবে গত একমাস এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ যেখানে সারা বছরই মশা নিধনের ওষুধপত্র যথেষ্ট পরিমাণ থাকা বাঞ্ছনীয়। শুধু ডেঙ্গু কেন ম্যালেরিয়া তো মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ।

এ্যানোফ্যালিস এবং কিউলেক্স মশার কামড়ও যে কত বিপজ্জনক তেমন দুরবস্থাও আমাদের জানা। এমনকি নগর অভিভাবকদেরও। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মর্মবেদনায় সারাদেশ যখন প্রকম্পিত তখন মশার ওষুধ ছিটালেও তার কোনো কার্যকারিতা দৃশ্যমান না হওয়ায় সাধারণ মানুষ হতবাক এবং মর্মাহত।

সরকারের স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং নগর কর্তৃপক্ষের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত, সাধারণ জনগোষ্ঠী সুস্থ দেহে নিরাপদ আর নির্বিঘ্নে যেন তাদের প্রতিদিনের জীবন কাটাতে পারে।

জনকল্যাণমূলক এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের রায়ের ভিত্তিতে কর্তৃত্ব লাভ করে। সুতরাং শুরু থেকেই জনগণের সেবা প্রকল্পে তাদের পাশে সর্বক্ষণিক থাকা এমন সব প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতা।

এর ব্যত্যয় ঘটলে অন্যায় এবং অপরাধের মাত্রায় তাকে কিভাবে পাশ কাটানো যাবে জানি না। সরকার এবং নগর কর্তৃপক্ষের দাবি- নতুন ও কার্যকরী ওষুধ এবার বিভিন্ন জায়গায় ছিটানো হবে।

পাশাপাশি জনগণের সতর্কতা এবং সচেতনতার ঘাটতি হলে পরিস্থিতি বেসামাল হতেও সময় নেবে না। সব সময়ই বলা হচ্ছে, ঘরের মধ্যে স্বচ্ছ পানিতে বংশ বিস্তারে এডিস মশা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অথবা বাইরে জমে থাকা বর্ষার পানিতেও তারা বংশ বিস্তারে বেশি মনোযোগী হয়। তবে নির্দিষ্ট সময় কিংবা ঋতুকে সামলে নিলে মশার প্রাদুর্ভাব হয় না।

সারা বছর যে কোনো সময় মশার কামড় এবং বংশ বিস্তার এক অপরিহার্য বিষয়। এমন সব ব্যাপারকে মাথায় নিয়ে মশক-নিধন অভিযান সারা বছরই চালাতে হবে। সব সময় ওষুধপত্রও মজুদ রাখা বাঞ্ছনীয়। তার চেয়েও বেশি জরুরি এমন মশা নাশক ওষুধ যদি দেশে প্রস্তুত করা যায় সেদিকেও নজর দেয়া আবশ্যক।

দেশে প্রস্তুত করা ওষুধপত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করে মশা নিধন প্রক্রিয়াকে সারা বছর গতিশীল করতে পারলে মশা এবং পানিবাহিত সব রোগ-বালাই নির্মূল হতে সময় নেবে না। সচেতন জনগোষ্ঠীও সেটাই প্রত্যাশা করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত