শিরোনাম

বিশ্বব্যবস্থায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

প্রিন্ট সংস্করণ॥রায়হান আহমেদ তপাদার  |  ০৫:৩৭, আগস্ট ১৯, ২০১৯

বর্তমানে সময়টা এমনই যে অন্য কিছু ভাবার মতো অবস্থাও নেই। চীন-ভারতের উত্থানের কারণেই বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ভারত মহাসাগর। চীন প্রবল বেগে এগিয়ে আসছে। তাকে ভারত মহাসাগরের বাইরে কিছুই যেতে দেবে না মার্কিন নেতৃত্বাধীন শক্তি।

আর এ কারণেই ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র হোক যুক্তরাষ্ট্র তা চায়। কিন্তু চীনও হার মানার পাত্র নয়। দীর্ঘ দিন ভারতের আধিপত্যের এলাকা হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে সে হানা দিচ্ছে জোরালোভাবে আয়তন, জনসংখ্যা, অর্থনীতির বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশগুলোর অন্যতম চীন আর ভারত।

চীনের তুলনায় ভারত অনেক অনেক পিছিয়ে থাকলেও উদীয়মান শক্তির মর্যাদা পেয়ে গেছে। উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে উভয়েরই। আবার দেশ দুটির প্রতিবেশীরা তাদের তুলনায় ‘লিলিপুট’।

গালিভাররের কাছে এই লিলিপুটরাই আবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছে। দুই আঞ্চলিক পরাশক্তির উভয়ের কাছ থেকে তারা যেমন কখনো কখনো সহায়তা পাচ্ছে, আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এলোমেলোও হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারে সামপ্রতিক সময়ে একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তা বড় ধরনের পরিবর্তনই যেন অবধারিত করে তুলেছে।

এছাড়া অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে চীনের যেমন দ্রুত উত্থান ঘটে চলেছে— তেমনি ভারতেরও একই কায়দায় উত্থান-অগ্রগতি অব্যাহত আছে। চীনের প্রায় পাশাপাশি রয়েছে ভারতের অর্থনীতির আকার। ভূখণ্ড ও জনসংখ্যাগত দিক দিয়ে চীনের বিশালতার ন্যায় ভারতের ও তেমনই বিশালতা বিদ্যমান ও দৃশ্যমান।

এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত প্রভূত উন্নতি অর্জন করেছে এবং রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার। সমুদ্রেও সামরিক ও নৌ-সক্ষমতা অর্জনের জন্য ভারত সচেষ্ট রয়েছে। অর্থাৎ ভারত সামরিক সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে আছে।

এ ছাড়া, আধুনিক সমরাস্ত্র অর্জনে ও আমদানিতেও ভারতের অবস্থান এখন সর্বোচ্চে। এভাবেই ভারত জলে-স্থলে ও আকাশে তার সামরিক শক্তির ব্যাপক আধুনিকায়ন করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট রয়েছে।

ভারতের এই উত্থান প্রচেষ্টা চীনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ, চীনের সাথে ভারতের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত এবং এই সীমান্ত নিয়ে পুরানো বিরোধ রয়েছে দেশ দুটির মধ্যে এবং সেটার কারণে উভয় দেশ যুদ্ধেও জড়িয়ে পড়েছিল।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়নি। বরং চীন-ভারতের হিমাচল রাজ্যকে নিজেদের অংশ বা ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এ ছাড়াও অন্যান্য ক্ষেত্র যেমন— অর্থনৈতিক বাজার দখলের প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক শক্তি হওয়ার প্রতিযোগিতা ইত্যাদি নিয়েও উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বৈরিতা বেশ তীব্রতর হচ্ছে।

এ অঞ্চলে উভয় রাষ্ট্রই বন্ধু রাষ্ট্রের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে বেশি মাত্রায় সচেষ্ট এবং এমনকি, উভয় রাষ্ট্রই নিজেদের অনুকূলে জোট উপজোট গঠন করতে সচেষ্ট ও তৎপর রয়েছে। ভূ-রাজনীতির ক্ষমতার স্থানান্তর সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে বিশ্ব রাজনীতিতে।

কারণ এই অঞ্চল বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে ইতোমধ্যেই স্থান করে নিয়েছে এবং ওই অঞ্চলের ক্ষমতাধর অর্থনীতির দেশগুলো ক্রমেই বিশ্বের অর্থনীতি ও রাজনীতির মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে।

যার ফলে বিশ্ব ব্যবস্থায় আমেরিকার এককেন্দ্রিক ভূমিকা এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। তাই আমেরিকাসহ অপরাপর দেশগুলোর কাছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। চীনের সাথে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর কয়েকটির স্বার্থের সঙ্ঘাত যেমন স্পষ্ট, তেমনি আমেরিকার সাথেও রয়েছে স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা।

আমেরিকা এ অঞ্চলের তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে চীনের আধিপত্য ও উত্থানকে ঠেকিয়ে দেয়ার যেমন চেষ্টা করছে, তেমনি কোনো কোনো বিষয়ে সরাসরি চীনের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। যেমন, তাইওয়ান প্রশ্নে সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে আমেরিকা। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করলেও আমেরিকা তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বহু আগেই এবং দেশটার সাথে রয়েছে কূটনৈতিক সম্পর্ক।

আমেরিকার মতো জাপানও তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলেই মনে করে এবং এর সাথে কূটনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। এটা চীনের জন্য মাথাব্যথার কারণ। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন-আমেরিকা দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য এবং প্রকট। এটা যুুদ্ধেরও কারণ হতে পারে উভয় দেশের মধ্যে। এ অঞ্চলের অনেকগুলো রাষ্ট্রই চীনের উত্থানে নিজেদের নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্থ নিয়ে শঙ্কিত এবং এদের অধিকাংশের সাথেই রয়েছে আমেরিকায় সুসম্পর্ক ও মিত্রতা।

যে কারণে এসব রাষ্ট্রের সাথে মিলে জাপান চীনবিরোধী জোট গড়ে তুলতে পারে বলে চীনের আশঙ্কা। এদিকে, দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীনসাগর নিয়ে শুধু জাপানের সাথেই নয়, অন্যান্য রাষ্ট্র যেমন— ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলোর সাথেও চীনের ভূখণ্ডগত মালিকানার বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

আর এ বিরোধ মীমাংসা না হওয়ায় সাগরে চীন, জাপান বা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর সামরিক বা কোস্টগার্ডেন টহল বৃদ্ধির কারণে তীব্র সামরিক উত্তেজনা অনেক সময় সামরিক সঙ্ঘাতের দিকে ধাবিত হওয়ার উপক্রম হয়ে থাকে।

এসব কারণে-বর্তমান বিশ্বের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল সামরিক সঙ্ঘাতের জন্য বিপজ্জনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকা চীনের বিরুদ্ধে এসব রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা এবং সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

যার প্রমাণ হলো, জাপানের সামরিকায়নে আমেরিকার সমর্থন ও সহযোগিতা এবং ভিয়েতনামের ওপর থেকে অস্ত্র ক্রয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া এবং অন্যদিকে, তাইওয়ানে ব্যাপকভাবে আধুনিক অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলা।

তেমনিভাবে ভারতের সামরিক আধুনিকায়নে আমেরিকার সার্বিক সহযোগিতা চোখে পড়ার মতো ঘটনা। ভারতকে আধুনিক সব অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করে চলেছে আমেরিকা। এসবই করা হচ্ছে চীনের উত্থানকে দাবিয়ে রাখার জন্য।

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের একক প্রভাব ও আধিপত্য রোধ ও প্রতিহত করার জন্যই এবং একই সাথে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুরক্ষার অজুহাতে আমেরিকার ইন্ধনে এসব হচ্ছে বলে মনে করছে চীন।

অন্যদিকে, এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব রোধ করার জন্য চীন একক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছু করে চলেছে। দক্ষিণ চীনসাগর ও পূর্ব চীনসাগরে ব্যাপক দখলদারিত্ব ও সামরিকায়ন করে চলেছে চীন। এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোতে ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের বশে ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার জন্য চীন নানামুখী প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছে।

এভাবেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন-আমেরিকা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনা ও ব্যাপক অস্ত্র প্রতিযোগিতা এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য, এমনকি বিশ্বের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

অন্যদিকে, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া, দ্য ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্র হলো সামরিক ক্ষমতার উন্নয়ন, ও আধুনিকায়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ফলে ওই অঞ্চলে সামরিক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ অত্যধিক হারে বেড়ে চলেছে এবং এতে করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সামরিক খাতে ব্যয় যত বেড়ে চলেছে ততই এ অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, সঙ্ঘাত, সন্দেহ-অবিশ্বাস দানা বেঁধে ওঠছে এবং এর ফলে গোটা অঞ্চল অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান রয়েছে।

এমনকি, তা থেকে যুদ্ধ ও সঙ্ঘাতের সূত্রপাত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে এবং বহুমুখী পক্ষ ও স্বার্থের উপস্থিতির কারণে এ অঞ্চল ঘিরে চীন, ভারত, আমেরিকা এবং রাশিয়ার মধ্যে স্বার্থের সঙ্ঘাত জড়িত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের শক্তি সামর্থ্যতার উত্থান অঞ্চলটিতে নতুন বাস্তবতার সৃষ্টি করেছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামরিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে চীন এ অঞ্চলে প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হওয়ার প্রেক্ষিতে ভারত যেমন এটাকে সহজভাবে গ্রহণ করছে না, তেমনি এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রাধান্যতা, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাও চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। ফলে চীন-আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত কারণে ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পাবে।

এ ক্ষেত্রে, ভারত আমেরিকার সহযোগী হতে পারে। ফলে, এশিয়ায় ঠাণ্ডা যুদ্ধের আশঙ্কা যেমন রয়েছে, তেমনি অদূর ভবিষ্যতে সামরিক সঙ্ঘাতেরও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীন তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর জন্যও নিরাপত্তা হুমকির কারণ হয়ে ওঠতে পারে।

বিশেষ করে, পূর্ব ও দক্ষিণ চীনসাগরের ওপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় থেকে চীন তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে, ভারত ও জাপানের জন্য চীন মারাত্মক হুমকি হতে পারে।

কারণ, জাপান ও ভারতের সাথে চীনের ভূখণ্ডগত এবং সীমান্ত সমস্যা রয়েছে। রয়েছে সমুদ্রসীমা নিয়েও বড় ধরনের সঙ্কট। অন্যদিকে, দক্ষিণ চীনসাগরের ওপর মালিকানার দাবি রয়েছে ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম প্রভৃতি রাষ্ট্রের। অন্যদিকে, তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ ও ভূখণ্ড বলে দাবি করছে চীন। ভারত এ অঞ্চলের প্রতিবেশী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে যেমন জোট গঠনের জন্য সচেষ্ট, তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকার সাথেও সম্পর্ক সুদৃঢ় করেছে। জাপানের সাথেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, আমেরিকার উদ্দেশ্য হলো ভারত ও জাপানের সহযোগিতায় চীনের উত্থানকে ঠেকিয়ে দেয়া। এ ক্ষেত্রে ভারত-জাপানের নেতৃত্বে আমেরিকার সমর্থনে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ভবিষ্যতে চীনাবিরোধী মৈত্রী জোট গড়ে ওঠা বিচিত্র নয় বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সমপ্রসারণ এবং সামরিক প্রভাব বিস্তারের জন্য চীন, আমেরিকা, ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে।

চীন মনে করে, চীনকে মোকাবিলা করার জন্য আমেরিকার সমর্থনে জাপান এ অঞ্চলে আমেরিকার মিত্র ও সমর্থিত রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে চীনবিরোধী জোট গঠনে সচেষ্ট রয়েছে, যা চীনের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।

এই লাভ-ক্ষতির হিসাব কষতে গিয়েই সামপ্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নির্মমতার শিকার হয়েছে রোহিঙ্গারা। ভূ-রাজনীতির যে খেলা চলছে মিয়ানমারে তাতে একটি বড় রণাঙ্গন হচ্ছে আরাকান রাজ্য। চীন সেখানে ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক জোন, তেলের ডিপো নির্মাণ করছে ও আরো করতে চায়। কিন্তু পাশ্চাত্য কাজটি সহজে হতে দিতে চায় না।

আর পরিণামে সেখানকার রোহিঙ্গারা দাবার ঘুঁটির মতো মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হাতে গণহত্যার শিকার হলো। রোহিঙ্গাদের ওপর এমন অত্যাচার সত্ত্বেও চীন ও ভারত কিন্তু মিয়ানমারকে কাছে টানতে হেন কাজ নেই যা করছে না। ভারতেরও অ্যাক্ট ইস্ট নীতি বাস্তবায়ন করার জন্য মিয়ানমারকে প্রয়োজন।

লেখক : কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত