শিরোনাম

উচ্চ আদালতের অসন্তোষ ডেঙ্গু রোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৮:০৪, আগস্ট ২১, ২০১৯

কোনো সুখবর নেই ডেঙ্গু নিয়ে। মাস তিনেক আগে ঢাকায় শুরু হওয়া ডেঙ্গুর প্রকোপ একটুও কমেনি, বরং চলতি আগস্টের মাঝামাঝি আগের মাসের তুলনায় দ্বিগুণ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত সোমবার দেশের তিন জেলা থেকে তিনজনের মৃত্যুর খবর এসেছে গণমাধ্যমে। গত জুনে ঢাকায় ডেঙ্গু দেখা দেয়ার পর ক্রমেই এই রোগের বিস্তার ঘটে তা সারা দেশে ছড়িয়েছে।

সরকারি হিসাবে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। ওদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেননি। এটা নিলে হয়তো এ রকম পরিস্থিতি হতো না।

যাদের ওপর সঠিকভাবে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব ছিলো তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। তাদের মানসিকতা ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে সতর্ক করা হয়েছিল। দুই সিটির সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

আদালত আরো বলেন, ডেঙ্গু এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার বা দুই সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেননি। যাদের সঠিকভাবে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব ছিলো তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। আদালতের এই অসন্তোষ প্রকাশের পরদিন ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশা নিধনে ‘চিরুনি অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০ ভাগে ভাগ করে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নেতৃত্বে ১০ জন মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করবেন। একদিনে একটা ওয়ার্ডে অভিযান হবে। একজন কর্মকর্তা কার্যক্রম তদারক করবেন। চিরুনি অভিযানের সময় প্রতিটি এলাকার প্রতিটি বাড়িতে ডিএনসিসির কর্মীরা যাবেন। এসব বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা আছে কি না তা পরীক্ষা করবেন। অফিস-আদালত ও নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের লার্ভা থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে— এমন একটি লাল রঙের স্টিকার ওই বাড়িতে লাগিয়ে দেয়া হবে। কিছুদিন পর সেই বাড়িতে গিয়ে যদি লার্ভা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগটি ভালো, তবে এই উদ্যোগ আরো আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে ডেঙ্গু এভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারত না। এখন এই কর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে। মনে রাখা দরকার, সবার সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত