শিরোনাম

আমাজনের আগুন আন্তর্জাতিক সংকট পৃথিবীর ফুসফুসকে বাঁচাতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৪:২২, আগস্ট ২৭, ২০১৯

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ চিরহরিৎ (সর্বদা সবুজ) বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন ধারণ ও জমা রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতিকে অনেকটা শ্লথ রেখেছে; সেই আমজন বনাঞ্চল এখন নিজেই জ্বলছে।

ছাই হতে চলা আমাজনের একাংশ পৃথিবীর জন্য কতটা দুঃসংবাদ বয়ে আনবে তা বিশ্ব নেতাদের এখনই বুঝতে হবে? আগুনের ছাইভস্ম বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার উদ্বেগজনক তথ্যও উঠে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিবেদনে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের মধ্যে শান্তিপ্রিয় বিশ্বাবাসী অক্সিজেন ও জীববৈচিত্রের অন্যতম প্রধান উৎসের এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারে না।

এজন্য আমাজনকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। দাবানলে নিদারুণভাবে পুড়েছে ব্রাজিলের উত্তরের রোরাইমা, একর, আমাজোনাস এবং রোনডোনিয়া এলাকার বনাঞ্চল। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, ব্রাজিলের একেবারে উত্তরের রাজ্য রোরাইমা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে আছে।

গত এক দশকের মধ্যে এই বনাঞ্চলে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের (ইনপে) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রেকর্ড সংখ্যক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। তাদের স্যাটেলাইট ডেটা বলছে, এ সংখ্যা গত বছর একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস অ্যাটমোষ্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (সিএএমএস) জানিয়েছে, দাবানলের ধোঁয়া আটলান্টিক তট পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। আগুন থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিপুল পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড।

এ বছর ২২৮ মেগাটন পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড যোগ হয়েছে সেখানকার পরিবেশে। ২০১০ সালের পর থেকে এই হিসাব সর্বোচ্চ। শুধু কার্বনডাই অক্সাইড নয়, ছড়িয়ে পড়ছে কার্বন মনোক্সাইডও। কাঠ যখন পুড়তে থাকে, অক্সিজেনের যখন অভাব হয়, ধোঁয়ার সাথে তৈরি হতে থাকে প্রাণঘাতী এই গ্যাস। সিএএমএসের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিষাক্ত এই গ্যাস দক্ষিণ আমেরিকার সমুদ্র তট ছাড়িয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে।

আমাজন অববাহিকা ৩০ লাখ প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর আবাসভূমি। এখানে বাস করে ১০ লাখ আদিবাসী। রোনডোনিয়া অঞ্চলের আদিবাসীরা বলেন, আগুন লাগার পর তারা বন্যপ্রাণীদের প্রাণভয়ে বন থেকে ছুটে বেরিয়ে আসতে দেখেছেন।

আগুনের ধোঁয়া ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে সাও পাওলোতে পৌঁছানোর পর গত সোমবার বিকেল ৩টার সময় শহরটি ঘণ্টাখানেকের জন্য ডুবে ছিলো অন্ধকারে। গত বৃহস্পতিবার সাড়ে ৯ হাজারের বেশি জায়গায় আগুনের শিখা দেখার কথা জানিয়েছে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইনপে)। পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয় আমাজনকে, যা ঠেকিয়ে রাখছিল বৈশ্বিক জলবায়ু উষ্ণতা বৃদ্ধি। কিন্তু যখনই গাছপালা কাটা ও পোড়ানো হয়, যে কার্বন তারা শোষণ করে রাখে তা পরিবেশে ছড়িয়ে যায়।

আর তাতে এই রেইনফরেস্টের কার্বন শোষণ ক্ষমতাও কমে আসছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই ৭৫ হাজার দাবানলের ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের বনে। ২০১৩ সালের পর থেকে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি গবাদিপশুর চারণভূমি বাড়াতে কাঠুরে ও কৃষকরাও কখনো কখনো ইচ্ছে করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

পরিবেশ সংরক্ষণবাদীদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরোর মনোভাব বনের আগুনে ঘি ঢালছে। তিনি ব্রাজিলের ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে আমাজনের ক্ষতির পরিমাণও দ্রুত হারে হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ফেসবুক লাইভে এসে আগুন লাগার পেছনে উল্টো এনজিওদের হাত থাকার অভিযোগ করেছেন বোলসোনারো।

পাশাপাশি তিনি এও স্বীকার করেছেন, এ আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাব আছে তার সরকারের। এ জন্য বিশ্ববাসীকে পর্যাপ্ত আর্থিক তহবিল সংগ্রহ করে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত, আমাজনের চিরহরিৎ ‘বরাবর সবুজ’ এ বনাঞ্চলকে বাঁচাতে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত