শিরোনাম

রোহিঙ্গাদের সমাবেশ দেশের নিরাপত্তার বিষয়ে ভাবতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৩৮, আগস্ট ৩১, ২০১৯

সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা ভয়ঙ্কর ও আশ্রিত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে আরাকান থেকে পালিয়ে এসে জানে বাঁচতে কক্সবাজারের ৩২টি ক্যাম্পে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

এসব ক্যাম্পের ভেতরে থেকেই তারা প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে সহিংসতা। বিভিন্ন ক্যাম্পের পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়েছে যে, নিরাপত্তার কথা ভেবে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সাক্ষাৎ করতে দেয়না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও তাদের অর্থের সঙ্গে বিভিন্ন দেশি অস্ত্রও সরবরাহ করছে বলে জানা যায়। এসব অস্ত্রের মধ্যে দেশীয় কাটা ও লম্বা বন্দুক, দা, কুড়াল, ছুরি, খুন্তি, শাবল, নিড়ানি, লোহার রড উল্লেখযোগ্য।

গত সোমবার রোহিঙ্গা শিবিরে সরবরাহকালে নিড়ানির মতো দেখতে দুই হাজার ৬০০ পিস লোহার ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসবই এখন স্থানীয় জনজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

দুই বছর পূর্তির নামে গত রোববার উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সমাবেশ থেকে ভবিষ্যতের হুমকির বিষয়টি ইঙ্গিত বহন করে। এত বড় সমাবেশের অর্থায়ন কোথা থেকে এলো?

কোথা থেকে সমাবেশে এত টি-শার্ট, ব্যয়বহুল ডিজিটাল ব্যানার এলো, ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া কিভাবে মোবাইল সিম কিনে রোহিঙ্গারা মোবাইল ব্যবহার করছে এসব বিষয় সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে।

হীন স্বার্থে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের উসকে দিচ্ছে কি না, অর্থায়ন করছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে। শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীকে ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার কারা সরবরাহ করেছে? বিশাল আকৃতির ব্যানারগুলোই বা তারা কোথায় পেয়েছে?

হতদরিদ্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সমাবেশে সংগঠিত করতে কারা অর্থায়ন করেছে ও তাদের শক্তির উৎস খতিয়ে দেখতে হবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে না পারলে এরা বাংলাদেশের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।

পরবর্তীতে তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা মোটেই সহজ হবে না। এছাড়াও আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। খুন-ধর্ষণ থেকে শুরু করে চুরি-ছিনতাই, অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ মাদক কারবারেও জড়িয়ে পড়ছে তারা।

রোহিঙ্গারা বিচ্ছিন্নভাবে আসলেও বর্তমানে এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ স্থানীয় বাসিন্দা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। তাদের জীবন-জীবিকা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও পর্যটনশিল্প সবই আজ হুমকিতে।

গত রোববারের রোহিঙ্গা সমাবেশ দেশের জন্য হুমকি। রোহিঙ্গারা আমাদের রেড সিগন্যাল দেখিয়েছে। দুই বছর আগে মানবতার কারণে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মানবতাই এখন দেশের জন্য মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুতরাং আমরা চাইবো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে। এর বাইরে যারা আইনবিরোধী কাজে লিপ্ত হবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত