শিরোনাম

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের টর্চার সেল কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে প্রশাসনকে

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৬:২৪, সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৯

মানবতার খাতিরে যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠাঁই দেয়া হয়েছিলো, মানবতাকে পুঁজি করে সেই রোহিঙ্গাদের হাতে আজ প্রতিমুহূর্তে রক্তাক্ত হচ্ছে সবুজে ঘেরা পাহাড়-বনভূমি। মানবিকতার কাছে এখন স্থানীয়রাও অসহায় হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়ছে। রাত হলে পাহাড়কেন্দ্রিক অনেক বাসিন্দাই এখন আর ঘর থেকে বের হবার সাহস করেন না।

জানা যায়, উখিয়া, টেকনাফের পাহাড়গুলোতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। তারা পাহাড়ে অস্ত্রের মজুদ করে, গড়ে তুলেছে টর্চার সেল। আর প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে অভিযানে গেলেই সশস্ত্র অবস্থান নিচ্ছে।

গত ২২ আগস্ট টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ ওমর ফারুককে তার বাড়ির সামনে থেকে রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তুলে নিয়ে যায়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের পশ্চিম পাশের পাহাড়ে টর্চার সেলে নির্যাতন শেষে গুলি করে হত্যা করা হয় তাকে। রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আজ কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির অপরাধ জগৎ।

চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাসহ এমন কোনো কাজ নেই যার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা নেই। ধর্ষণ, খুন, হামলা তাদের নিয়মিত কাজে পরিণত হয়েছে। তাদের কারণে স্থানীয়রা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয়রা। গত রোববার ভোরে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে নিয়ে পাহাড়ে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা তারই বহিঃপ্রকাশ।

কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির পাহাড়ি অঞ্চলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। শিশুসহ ছেলে-মেয়েদের স্কুল-মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।

এসব এলাকায় বেড়েছে ব্যাপক অপরাধ প্রবণতা। রাত হলেই পুরো এলাকা চলে যায় রোহিঙ্গাদের হাতে। স্থানীয়দের সকাল পর্যন্ত কাটে ভয় ও রুদ্ধশ্বাস অবস্থায়। অস্ত্র, নারী, মাদক— এ তিনটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার ভূখণ্ডে চলছে বড় ধরনের অপরাধ সাম্রাজ্য।

এ নিয়ে স্থানীয়রা এখন ক্ষুব্ধ হওয়াসহ যে কোনো সময় বাঙালি- রোহিঙ্গা বিদ্রোহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সমপ্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও নানা জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় সে কার্যক্রম। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রোহিঙ্গা উপস্থিতি দীর্ঘায়িত করার জন্য কিছু সংস্থা ও ব্যক্তি অন্তর্ঘাতমূলক কর্মতৎপরতা চালাচ্ছে।

এর পেছনে কারা জড়িত? এরকম অনেক প্রশ্ন রয়েছে। যাই হোক, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া সব রোহিঙ্গাকে নির্ধারিত স্থানে ফেরত আনতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে এখনই কাজ করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত