শিরোনাম

সরকারি ক্রয়ে দুর্নীতি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০১:৪৫, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি এই দেশে একটি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার নামে অনিয়ন্ত্রিত লুটপাট একটি নতুন সংযোজন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার নামে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে তার খুব কমই প্রকাশ্যে আসে। তবে যে কয়টি ঘটনা জনসম্মুখে প্রকাশ হয় সে কয়টিতেই দেখা যায় ভয়াবহ রকমের অসঙ্গতি।

সম্প্রতি পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয় ৭৬০ টাকা! মোট প্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকার এই অস্বাভাবিক ব্যয়ের ঘটনাটি ইতোমধ্যে ‘বালিশকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

এরইমধ্যে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের জন্য সার্জারির ছাত্র ও শিক্ষানবিশদের টেক্সট বই ‘প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব সার্জারি’ বইটির ১০ কপি কেনে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বইটির বাজারমূল্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি বই ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা করে কেনে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সেই হিসাবে ১০ কপি বইয়ের মোট দাম পরিশোধ করা হয়েছে ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, বাজার দামের তুলনায় ৮ লাখ টাকা বেশি খরচ করে এ বই কিনেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এটিকে শুধু পুকুর চুরি বললে কম হয়ে যায়, বরং ‘সাগর চুরি’!

এরপর রূপপুরের বালিশকাণ্ড ও আর স্বাস্থ্য অধিদফতরের বই কেনায় ‘সাগর চুরি’কে হার মানিয়ে বিস্ময়কর দুর্নীতির নতুন নজির সৃষ্টি করেছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন রোগীকে আড়াল করার পর্দা কিনেছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকায়!

শুধু তাই নয়, ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্টেথোসকোপের দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এ রকম ১৬৬টি যন্ত্র ক্রয়ে ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সরকারি বরাদ্দের বৃহৎ একটি অংশের যোগানদাতা এদেশের সাধারণ জনগণ। খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টোপার্জিত অর্থ থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে সরকারি ব্যয় পরিচালনাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।

জনগণের এই অর্থ তছরুপ এবং আত্মসাতের সাহস সরকারি কর্মচারিরা পায় কিভাবে? সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটার নামে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি দেখার কি কেউ নেই? কেনাকাটার পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা একান্ত কাম্য।

পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির দাবি জানাই। দুর্নীতির সাথে জড়িত সরকারি কর্মকার্তা-কর্মচারিদের চিহ্নিত করে শুধু প্রত্যাহার বা বদলি নয় দৃষ্টান্তমূলক এবং কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অর্থাৎ সরকারের যেসব দায়িত্বশীল ব্যক্তি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক নয়, আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হোক। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন -দুদকে মামলা হোক।

দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে সবার আগে দুর্নীতি রুখতে হবে। এটি ছাড়া সরকারের চলমান উন্নয়নের সুবিধাভোগ এবং এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত