শিরোনাম

ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ ডেঙ্গুরোধে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০৮:১৮, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০১৯

চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ ইতোমধ্যে অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আশা ছিলো মৌসুমের শেষের দিকে এসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমবে।

তবে যে হারে কমার আশা ছিলো সে হারে কমছে না। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ৭ দিনেই ৪ হাজার ৮৪২ জন সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন। বর্তমানে ঢাকার চেয়ে বাইরের জেলাগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ হিসাবের বাইরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত আরও রোগী রয়েছে বলে জানা গেছে। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, বছরের মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার একেবারেই কম থাকে।

কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে বোঝা যাচ্ছে। তার পর থেকে এর প্রকোপ কমতে পারে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালেই সর্বোচ্চ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে। এরমধ্যে জুলাই মাসে ছিলো সর্বোচ্চ, ১৬ হাজার ২৫৩ জন।

এদিকে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭৫ হাজার ১৪৬ জন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছেন ৭১ হাজার ৬১৭ জন। অর্থাৎ আক্রান্তদের ৯৬ ভাগ রোগীই ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কাছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ১৯২ জন রোগীর তথ্য এসেছে। এরমধ্যে ৯৬টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৫৭টি ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। এ সংখ্যা এখনও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয় রাজধানী ঢাকা থেকে।

পরে খুব দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকাণ্ড আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। তাদের কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কারণে ঘটনাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

যদিও আদালত এর অনেক আগেই সিটি কর্পোরেশনদ্বয়কে সতর্ক করে ছিয়েছিল, কিন্তু সে নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা যদি সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত এবং সেসময় গুজব বলে উড়িয়ে না দিত তাহলে ডেঙ্গু এতটা প্রকট হতো না এবং এভাবে ছড়িয়ে পড়ত না।

যদিও চাপে পড়ে বা সমালোচনার মুখে তারা শেষ সময়ে এসে মাঠে নেমেছে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই আগামী বছর এই রোগের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টদের পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে।

সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় এবার ডেঙ্গু শুধু ঢাকার দুটি সিটি কর্পোরেশন নয় বরং সারাদেশের পৌরসভা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের জন্যও চ্যালেঞ্জ। আগামী বছর এবারের মতো ভয়াবহ অবস্থা যেন না হয় এজন্য এখন থেকে নিয়মিত তদারকি থাকতে হবে।

এডিস মশার উৎস ধ্বংস এবং ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য যাথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, সেগুলো সুচারুরূপে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা থাকতে হবে। হাজারটা সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশে ডেঙ্গু নামের আরেকটা সমস্যাকে দীর্ঘায়িত করতে দেয়া যায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত