শিরোনাম

অনলাইনে উৎপীড়ন দুর্গন্ধের ভয়ে জানালা বন্ধ রাখা যাবে না

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ০৩:৩৮, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

সহপাঠীদের মধ্যে সাইবার উৎপীড়ন উচ্চবিত্ত সমাজের বিষয় বলে যে ধারণা এতদিন প্রচলিত ছিলো, তাকে চ্যালেঞ্জ করেছে সমপ্রতি প্রকাশিত এক বৈশ্বিক জরিপ।

উপ-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলের ৩৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানান, তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। বিশ্বের প্রতি তিনজন তরুণ-তরুণীর একজন অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হন।

আর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন সাইবার উৎপীড়নের কারণে স্কুল বাদ দিয়েছে। ইউনিসেফ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা-বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির (এসআরএসজি) করা এক জরিপে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ইউ-রিপোর্টে’র মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে এই জরিপে অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীদের তিন-চতুর্থাংশ বলেছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো উৎপীড়নের সবচেয়ে পরিচিত স্থান। বাংলাদেশের ৪৫ শতাংশ ইউ-রিপোর্টার জানিয়েছে, তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী উচ্চ-আয় ও নিম্ন-আয় উভয় শ্রেণির দেশগুলোর তরুণ জনগোষ্ঠীই আমাদের বলছে, তারা অনলাইনে উৎপীড়নের শিকার হচ্ছে। যা তাদের পড়াশোনায় প্রভাব ফেলছে।

আমরা যেহেতু শিশু অধিকার-বিষয়ক কনভেনশনের ৩০তম বার্ষিকীতে পদার্পণ করেছি, তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নীতিমালার সর্বাগ্রে যাতে শিশু অধিকারের বিষয়টি থাকে, তা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

ইউনিসেফ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির জরিপের যে ফলাফল দেখা যায়, তাতে এ পরিস্থিতি আমাদের দেশের জন্য, আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে, আমাদের সমাজ কাঠামোর জন্যে ভয়াবহ অভিশাপ ও হুমকির কারণ।

আমরা যদি আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই তবে তরুণ সমাজকে অবশ্যই নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। বর্তমানে ২৫ শতাংশ শিশু ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করে।

শিশুদের একটি বড় অংশ (৬৩ ভাগ) নিজের ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যা ‘বেডরুম কালচার’ অর্থাৎ কম নজরদারির মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। শিশুদের উপযোগী কনটেন্ট ইন্টারনেটে নেই।

শিশুর পছন্দ, দেশ, সমাজের সম্পৃক্ত এবং মাতৃভাষার সম্পর্কিত কনটেন্ট দরকার। শিশুসহ নাগরিকদের খারাপ কনটেন্ট থেকে রক্ষা করার চেষ্টা সরকারকেই সরতে হবে।

বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে, শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ একটি জায়গায় পরিণত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্গন্ধের ভয়ে জানালা বন্ধ করা যাবে না।

সুগন্ধ চিনতে পারার সাথে সুগন্ধ নেয়াটাই প্রকৃত সচেতনতার কাজ। কিন্তু কথা হলো— যার সুগন্ধ বা দুর্গন্ধ চেনার বয়স হয়নি ভাবনা তো তাদের নিয়েই। এ জন্য দরকার সন্তানদের পারিবারিকভাবে কঠোর পর্যবেক্ষণ, ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক প্রতিরোধ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত