শিরোনাম

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রায়হান আহমেদ তপাদার  |  ০২:৫৮, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মহীন যুবসমাজকে জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানই এখন আমাদের অগ্রাধিকার। প্রতি বছর জাতিসংঘের আহ্বানে ১৫ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস। বাংলাদেশ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আসছে। কিন্তু শুধু দিবস পালনেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর যথাযথ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার অভিযাত্রায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন একটি রোল মডেল। এই যাত্রায় এখনো অনেক দূর যেতে হবে।

যে রূপকল্প এখন আমাদের উন্নয়নের যাত্রাপথের নির্দেশক তা হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে টেকসই মধ্যম আয়ের পর্যায়ে উন্নীত করা, ২০৩০-এর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে এর যথাযথ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এগুতে হবে। আমরা এখন প্রায়ই শুনে থাকি, আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু কর্মসংস্থান সেই অনুপাতে হচ্ছে না। সরকারি তথ্যমতে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় বাৎসরিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ এই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছিল ২৮ লাখ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিলো শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যা ছিলো গড় প্রবৃদ্ধির হার ৮ ভাগের ১ ভাগ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত জেনারেল ইকোনমিক ডিভিশনের এই বছরের গবেষণায় দেখা যায়, আমাদের কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা কমছে। কর্মসংস্থান স্থিতিস্থাপকতা দিয়ে প্রবৃদ্ধির হার এর সাথে কর্মসংস্থানের হার বৃদ্ধির সম্পর্ককে বোঝায়।

কিন্তু এই স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলে বোঝা যাবে প্রবৃদ্ধি যেটা হচ্ছে তা হচ্ছে কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান হচ্ছে বা কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। আইএলও এর মতে, দেশে কর্মসংস্থানের বাইরে থেকে যাওয়া যুব বেকারত্বের সংখ্যা ২০১০ সাল ২০১৭ এর মধ্যে দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। কর্মসংস্থানহীন এই প্রবৃদ্ধি নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। চলছে গবেষণা। কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি, বর্ধনশীল আয় বৈষম্য আর নিম্ন আয়ের অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান তাই প্রবৃদ্ধিকে করছে প্রশ্নবিদ্ধ।

মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থান আরো গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, প্রবৃদ্ধি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং আয় এই চার সূচকের মধ্যে সামঞ্জস্য না হওয়ার যে উন্নতির কথা বলা হচ্ছে তার সুফল পাচ্ছে না জনগণ। রোমান সম্রাট ভেসপিজিয়ানের সময়কালের ঘটনা। নির্মাণ কাজের জন্য বড় ও ভারী স্তম্ভ বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য যখন সম্রাটকে তৎকালীন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল, তখন তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার যুক্তি ছিলো সাধারণ জনগণ যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত, তাদের তাহলে কী হবে।

রোমান ইতিহাসবিদ সুইটেনিয়াস বিষয়টি তার লেখাতে উল্লেখ করেছিলেন। নতুন প্রযুক্তি যে কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এই রকম ভয় প্রাচীনকালেও ছিলো। এ ধরনের ভয় আধুনিক যুগের এই একুশশতকে এসেও প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। সামপ্রতিক বছরগুলোতে শ্রম-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি তথা অটোমেশন এবং বিশ্বায়ন কর্মসংস্থান কমাচ্ছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই একই অবস্থা। অনেক গবেষণাই অটোমেশনের এই প্রভাবের কথা বলছে। যেমন ফ্র্রডি এবং অসবোর্নের গবেষণা বলছে, অটোমেশনের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে আমেরিকাতে অর্ধেক কর্মীরা চাকরি হারাতে পারেন।

এ বিষয়ে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ল্যারি সামারর্স মনে করেন, কারখানাজাত পণ্য রপ্তানি খাতে নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও গত ২০ বছরে চীনে কর্মসংস্থান কমেছে অনেক, শুধু অটোমেশনের কারণে। প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে, সমৃদ্ধি এনেছে। বাড়ছে বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

কিন্তু কর্মসংস্থান এর ওপর এর এই প্রভাব প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিকে করছে ম্লান। তাই আমাদেরও এই কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধির পেছনের বহুবিধ কারণগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়নকেও একটি কারণ হিসেবে মনে করা যেতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। গত ৭০ বছরের অর্থনৈতিক ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে, যে সকল দেশগুলো ক্রমাগত মধ্য আয় বা উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, তাদের এই সাফল্য এসেছে মূলত রপ্তানিনির্ভর শিল্পকারখানাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে।

কোরিয়া, চীন, তাইওয়ান ও বাংলাদেশ উন্নয়নের এই নীতি অনুসরণ করে এগিয়েছে। বাংলাদেশের এই সফলতা এসেছে মূলত রপ্তানিনির্ভর পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ থেকে। আমাদের কর্মসংস্থান আর রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে এই খাত। রপ্তানি নির্ভর অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, সিরামিক পণ্য, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য উল্লেখযোগ্য। বিশ্বায়নের এই যুগে গুণগত মান, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পোশাকশিল্পসহ কারখানাজাত বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। সংযোজন হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

যার ফলে এইসব খাতে উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু কর্মসংস্থান কমছে। শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ সালে দেশের কারখানাজাত শিল্পে কর্মসংস্থান কমেছে শূন্য দশমিক ৭৭ মিলিয়ন যেখানে একই সময় এই খাতে উৎপাদন বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। সরকার ও এক্সেস টু ইনফরমেশনের যৌথ গবেষণা বলছে, ২০৪১ সালের মধ্যে শুধু অটোমেশন এর কারণে পোশাক শিল্পে ২৭ লাখ কর্মসংস্থান কমে যাবে। এই গবেষণা আরো বলছে, একই সময়ের মধ্যে দেশের আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক শিল্পে ১৩ দশমিক ৮ লাখ, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ছয় লাখ এবং জুতা প্রস্তুতকারক শিল্পে এক লাখ কর্মসংস্থান কমে যাবে অটোমেশনের কারণে।

কিছু গবেষণা এটাও বলছে, কম দক্ষ শ্রমিক শ্রেণির কর্মীরাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অনেক শ্রমিক আছেন যারা হয়তো শুধু সংযোজন বা প্যাকেজিংয়ের কাজ করেন এবং শুধু এই কাজটিই ভালো পারেন। তারা অনেকেই হয়তো লিখতে বা পড়তে পারেন না। অটোমেশনের ফলে তাদেরকে হয়ত প্রযুক্তিগত নতুন কিছু জ্ঞানার্জন করতে হবে যেটা তাদের পক্ষে হয়তো সহজ নাও হতে পারে। ফলে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। মধ্য দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীরা হয়তো কম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এর ফলে আয় বৈষম্য বাড়তে পারে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতার একটি অনুচ্ছেদে চতুর্থ বিপ্লব এবং আরো একটি অনুচ্ছেদে উদ্ভাবনের কথা বলেছেন। মন্ত্রী আরো বলেছেন, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তিন কোটি লোকের কর্মসংস্থানের চেষ্টা করবে সরকার।

বর্তমানে দেশের যুবসমাজের একটি বিরাট অংশ কর্মহীন রয়েছে। আর প্রতি বছর প্রায় নতুন যোগ হচ্ছে ২২ লাখ চাকরিপ্রত্যাশী। মন্ত্রী এই বছরের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য। পৃথক আরো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য। বিষয়টি ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। আমরা দেখছি যে এখন তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ ও অনেক হচ্ছে। যার জন্য কর্মসংস্থানও হচ্ছে। যেমন ই-কমার্স এবং রাইড শেয়ারিং খাতে এখন অনেক লোক সম্পৃক্ত হয়েছে। আমাদের এখন উচিৎ হবে এইসব খাতের ব্যপ্তি ও বিকাশকে সহযোগিতা করা।

এসএমই খাতের যাতে আরো বিকাশ ঘটে সেই দিকেও নজর দেয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি মোকাবিলার জন্য এখন দরকার, উন্নত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, শহরায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা, শ্রম আইনকে সহজ করা, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা, এসএমই খাতের বিকাশ ঘটানো এবং শিল্পকারখানায় দ্রুত অটোমেশনকে কিছুটা নিরুৎসাহিত করা, যেন অন্যান্য নিয়ামকগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এর সময়োপযোগী বিকাশ ঘটে। মনে পড়ে, সুইডিশ-জার্মান অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ কার্ল ফ্রে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের একজন গবেষক। তিনি দ্য টেকনোলজি ট্র্যাপ নামে একটি বই লিখেছেন।

বইটিতে তিনি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তার মতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডিজিটাইজেশন, কম্পিউটারাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যাকে বর্তমানে চতুর্থ বিপ্লব বলা হয়ে থাকে, কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তার মতে, উনিশ শতকের শিল্প বিপ্লবের মতো এই ‘চতুর্থ বিপ্লব’ ও নজিরবিহীন উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বয়ে আনবে। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের সময়কালের মতো একইভাবে জনগণের একটি বিরাট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, কর্মসংস্থান কমে যাবে ও আয় বৈষম্য বাড়বে। ফ্রে যেমন মনে করেন চতুর্থ বিপ্লব কর্মসংস্থান কমাবে, আয় বৈষম্য বাড়াবে, তেমনি তিনি এটাও মনে করেন শিল্প বিপ্লবের মতো এটিও অবশেষে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল নিয়ে আসবে।

শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী ফসল বিপুল উৎপাদন ক্ষমতা ২০ শতকের মধ্য ভাগে এসে প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে, বিশাল এক মধ্যবিত্ত শ্রেণির আবির্ভাব ঘটিয়েছে, সম্পদ বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঘটিয়েছে। চতুর্থ বিপ্লব হয়তো একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। কিন্তু এটা নির্ভর করবে পুরো বিষয়টাকে স্বল্প মেয়াদে কিভাবে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো তার উপর। ফ্রে’র এই ধারণা মোটেও অমূলক নয়। অতীতে আমরা দেখেছি প্রযুক্তি কর্মসংস্থান কমিয়ে কম বরং বাড়িয়েছে বেশি।

এর বড় একটি উদাহরণ হলো কম্পিউটার। কম্পিউটারের আবির্ভাব টাইপিস্টের কাজটি বিলুপ্ত করেছে কিন্তু সেই সাথে কম্পিউটার ভিত্তিক নতুন অনেক ধরনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। যেমন কম্পিউটার অপারেটিং, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি। অথচ এ ধরনের কর্মসংস্থানের কথা আমরা দুই-তিন দশক আগেও কল্পনা করতে পারিনি। বলা হচ্ছে, বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ইন্ডাস্ট্রি ২০১৯ সালের মধ্যে পাঁচ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলার অতিক্রম করবে।

এমনকি শ্রমবাজারে এখন স্বল্পশিক্ষিতদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিতদের কর্মসংস্থান খুবই সীমিত। এ ছাড়া উচ্চ প্রবৃদ্ধি আমাদের শ্রমবাজারের গুণগত পরিবর্তন আনতে পারেনি। আবার বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পণ্য ও সেবা উৎপাদন এবং সরবরাহে নানামুখী পরিবর্তন আসছে। এমন পরিবর্তনশীল, কর্মপরিবেশ-সম্পৃক্ত শ্রমবাজার উপযোগী শ্রমশক্তি উৎপাদনে আমরা সফল হইনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে সরকারি বিনিয়োগ কাজে আসেনি। রাজস্ব আহরণ এবং বাজেটে তার বিলি-বণ্টনে সে লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব পায়নি। উন্নয়ন নীতি ও কৌশল সে লক্ষ্যে গৃহীত না হওয়ায় বাজেট গতানুগতিক ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপযোগীও হতে পারেনি। সুতরাং শ্রমবাজার উপযোগী শ্রমশক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হতে হবে এবং তাতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকতে হবে। সে লক্ষ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন নীতি ও কৌশল গৃহীত হতে হলে অবশ্যই দেশ এগিয়ে যাবে।

লেখক : কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত