শিরোনাম

নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা!

প্রিন্ট সংস্করণ॥আশিকুর রহমান হান্নান  |  ০১:৩১, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯

অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের একটি আকর্ষণীয় পথ হচ্ছে নারী পাচার। দেশে নারী পাচারকারীদের একাধিক চক্র রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চক্রগুলো দালালের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে নারী সংগ্রহ করে। পরে তাদেরকে বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে বিভিন্ন পতিতাপল্লী এবং আবাসিক হোটেলে জোরপূর্বক দেহব্যবসা করানো হয়। সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তাহীন অস্বচ্ছল নারী ও শিশুরাই এই অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহজ শিকারে পরিণত হয়। পাচার রোধে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া পাচার হওয়া নারীদের ফেরত আনার পর যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্রও জরুরি। এ ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে হবে। নারী পাচার রোধে সীমান্ত এলাকা ও বিমান বন্দরগুলোতে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এক্ষেত্রে কার্যকর পন্থা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সম্প্রতি একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপ?জেলায় নারীদের সৌদি আরবে পাঠানোর নামে একাধিক দালাল চক্র করছে রমরমা ব্যবসা। নানা কৌশল অবলম্বন করলেও বন্ধ হচ্ছে না নারী পাচার। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের পাচার করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পাচারের শিকার হয়ে অনেকেই হয়ে যাচ্ছেন স্থায়ী যৌনকর্মী, আবার বহু নারীর জীবনে ভয়ানক দুর্ভোগ নেমে এসেছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই ফিরে আসছেন দেশে। তবুও বন্ধ হচ্ছেনা নারী পাচার। রূপগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারীকে মোটা অংকের টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে সৌদি পাঠানোর কার্যক্রম চালাচ্ছেন চক্রটি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো নারী কর্মীরা সেখানে প্রতিনিয়ত যৌন নিগ্রহের শিকার হচ্ছে। নির্যাতিতরা নানা কারণে তা প্রকাশ করেন না, তাদের সঙ্গে দাসের মতো আচরণ করার অভিযোগও উঠে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে চনপাড়া বস্তি, পূর্বগ্রাম, চনপাড়া গ্রাম, পশ্চিমগাঁও, গোলাকান্দাইল, সাওঘাট, ভুলতা, মুড়াপাড়া, ভোলাবো, কাঞ্চন, দাউদপুর, পিতলগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় নারী পাচারকারী দালালরা ফের শুরু করেছেন তাদের অপতৎপরতা। নারী পাচারকারী চক্রটি বেকার নারীদের সোনালী স্বপ্ন এবং মোটা অংকের টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছেন। তারা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নারীদের পাঠান সৌদি আরব। সৌদি আরবে যারা রয়েছেন তাদের সাথে পরামর্শ করে বয়স যতো দেওয়া প্রয়োজন তা দিয়ে তৈরি করছেন পাসপোর্ট। এভাবে সৌদি আরব গিয়ে নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন গ্রাম গঞ্জের বিভিন্ন গৃহবধূসহ নারীরা।

সচেতন সমাজের নাগরিকদের ভাষ্য, দেশে নারী পাচারের আইন থাকলেও এর প্রয়োগ হচ্ছেনা। যদি কোনো স্থানীয় দালালদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে নতুন দালালদের সৃষ্টি হতো না।

অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, নারী পাচারকারীরা বেশ কয়েকটি অভিনব কৌশল নিয়েছে। এর মধ্যে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারী পাচারকারীরা টার্গেট করছে কলেজের ছাত্রীদের। উপজেলার চনপাড়া বস্তির কলেজছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতে বেশি পাচার করা হচ্ছে। প্রথমে পাচারকারীরা কোনো এক ছাত্রীকে টার্গেট করে। পরে তাদের নিয়োগকৃত তরুণ বা যুবকরা সেই টার্গেটের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। ছাত্রীর কথিত প্রেমিক এ সময় তার পেছনে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে। গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে তারা টার্গেটকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে আনে। পরে পাচারকারী মূলচক্রের হাতে তুলে দেয়।

এনজিও কর্মকর্তারা বলছেন, ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণত দরিদ্র-অসহায় পরিবারের সহজ-সরল কিশোরী, তরুণী-গৃহবধূদের পাচার করা হয়। তবে সমপ্রতি প্রেমের ফাঁদে ফেলে বা নানা কৌশলে নারী পাচারের ঘটনা বেড়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কিছু সংখ্যক নারী উদ্ধারসহ পাচারকারী সদস্যরা ধরা পড়লেও বেশীর ভাগ চলে যাচ্ছে বিদেশের আদম পাচার চক্রের হাতে। পাচারকারী সদস্যরা ভাল চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সৌদি আরবসহ অন্য কোনো দেশে নিয়ে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে বিক্রয় করে দিচ্ছে। কেহ যদি পতিতাবৃত্তিতে যেতে না চায় তাদেরকে জোর করে পতিতাবৃত্তিতে বিক্রয় করে দেওয়া হচ্ছে। পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হলে নেমে আসে অমানসিক নির্যাতন ও অত্যাচার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী পাচার হচ্ছে এক ধরনের সহিংসতা। নারী পাচারের ফলে বিদেশে নারীরা শারীরিক মানবিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নারী পাচার রোধে আইন হয়েছে কিন্তু আইনের কার্যকারিতা পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। একমাত্র সচেতনতাই পারে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ করতে। এ জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকে। নারী ও শিশু পাচার একটি জঘন্য অপরাধ এবং পাচারের ফলে নারী ও শিশুরা চরম নির্যাতনের শিকার হয়।

আর পাচার হওয়া নারীরা গৃহপরিচারিকা ও যৌন কাজে ব্যবহূত হয়ে থাকে। তাই নারী পাচার রোধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। গ্রামের সহজ-সরল নারীদের চাকরিসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয় এবং তাদের পতিতা পল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয়। দেশের ১৮টি রুট দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার নারী ও শিশু অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে সৌদি আরব, ভারত, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে। পাচারের শিকার বেশির ভাগ নারীদের স্থান হয় সেখানকার পতিতাপল্লীতে।

ভারতীয় সমাজ কল্যাণ বোর্ডের এক তথ্য থেকে জানা যায়, ভারতের বিভিন্ন পতিতাপল্লীতে প্রায় ৫ লাখ পতিতাকর্মী রয়েছে এর বেশির ভাগ বাংলাদেশি। নারী ও শিশু পাচার নারী নির্যাতনবিরোধী আইনগুলোর মধ্যে কঠিনতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ আইনের নারী ও শিশু পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। তারপরও নারীশিশু পাচার কমছে না। যদি কোনো ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনি বা নীতিবহির্ভূত কোনো কাজে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে বিদেশ হতে আণয়ন করে বা বিদেশে পাচার বা প্রেরণ করেন অথবা ক্রয় বা বিক্রয় করে বা কোনো নারীকে ভাড়ায় বা অন্য কোনোভাবে নির্যাতনের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করে বা অনুরূপ কোনো উদ্দেশ্যে কোনো নারীকে তার দখলে, জিম্মায় বা হেফাজতে রাখে তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক ২০ বছর কিন্তু ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ করতে বাধ্য করে বা বল প্রয়োগ করে বা প্রলুব্ধ করে বা ফুসলিয়ে যৌন সঙ্গম করার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে তাহলে উক্ত ব্যক্তির যাবজ্জীবন বা ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে যা ৭ বছরের কম হবে না, দণ্ডনীয় হবে এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে। প্রতিনিয়ত হাজার হাজার নারী এবং মেয়ে শিশু ভারত, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশের ২০ জেলায় ৯৩টি পয়েন্টে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত স্থলপথই ব্যবহূত হয়।

এছাড়া জল ও আকাশপথও পাচারের ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়। ইউনিসেফের তথ্য মতে, দেশে প্রতিমাসে ৪০০ নারী ও শিশু পাকিস্তান, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী যারা পাচারের শিকার হচ্ছে তাদের ৬০ ভাগেরও বেশি কিশোরী, যাদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের তথ্যানুসারে বাংলাদেশ থেকে প্রতিমাসে ১০০ শিশু এবং ৫০ জনের বেশি নারী বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ নারী ও শিশু বিদেশে পাচার হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ লাখ নারীকে ভারতে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। পাকিস্তানে একই পেশায় নিযুক্ত রয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নারী।

এছাড়াও পাচারকৃত নারীদের ধনী ব্যক্তিদের রক্ষিতা, অশ্লীল ছবি তৈরিতে ব্যবহার, বাসাবাড়ি ও কল-কারখানায় লাভজনক শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার, শিশুদের বিকলাঙ্গ/অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকৃতির মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার ও নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে চড়া মূল্যে হস্তান্তর এবং মাদক চোরাচালান ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয় বলে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজের তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়। বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা কেন দালালদের খপ্পরে পড়েন এর কয়েকটি কারণ গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন। কারণগুলো হলো, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব, সমাজে নারীদের অবমূল্যায়ন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, অসম বিবাহ, তালাকের অবাধ সুযোগ, প্রেমের প্রলোভন, প্রতারণার শিকার, দাম্পত্যজীবনে হতাশা, স্বামীর নির্যাতন, বৈধব্য, ভাসমান ও ভবঘুরে নারীদের আশ্রয়ের অভাব, নারীদের সমাজে নিরাপত্তার অভাব, সনাতনি পরিবার ব্যবস্থার বিলুপ্তি, বেশি বেতনে চাকরির প্রলোভন ও উন্নত জীবনযাপনের আকাঙ্খা ও প্রলোভন। বিদেশে নারী পাচার কোনো অবস্থাতেই বন্ধ হচ্ছে না।

হাজার হাজার নারীকে বিক্রি করা হচ্ছে। জোর করে পতিতা এবং গৃহপরিচারিকার কাজে তাদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে এসব মেয়ের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের অজান্তে বিক্রিও করা হচ্ছে। এদের বিরাট একটি অংশকে পাঠানো হচ্ছে পতিতালয়ে, এবং গৃহপরিচারিকার কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে। কেন তারা এর শিকার ? প্রথম কারণ হলো, পাচার বন্ধ করতে আমাদের যেসব কার্যক্রম রয়েছে, তার বেশীর ভাগই মহিলা এবং শিশুদের সাহায্যার্থে। পুরুষরা নিজেদের এ সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে বা নিজেদের শিকার হিসেবে দেখতে হয়তো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না। এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা স্থানীয় শ্রমিক বাজারে নিজেদের নিয়েই বিব্রতবোধ করছে।

অথচ তারা নিজেরাই যে এর শিকার সে বোধটি তাদের ভেতর কাজ করে না। তাদের দিয়ে অন্যায় কাজ করানো হচ্ছে। কিন্তু তা তারা বুঝতে চায় না বা পারছে না। তবে একথা সত্যি যে যেসব সংস্থা পাচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অথবা এর ফলে লাভবান হচ্ছে, তাদের বেশীর ভাগই হচ্ছে পুরুষদের দখলে। পতিতালয়ে এবং গৃহপরিচারিকার কাজে যাদের নিয়োগ করা হচ্ছে তারা সবাই মহিলা বা অল্প বয়সী মেয়ে। তবে পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে অনেক মহিলা। মহিলারাই পাচারের ব্যবসাকে আরো প্রতিষ্ঠিত করছে।

এটি সত্যি অবিশ্বাস্য এবং দুঃখজনক। আমরা এতদিন সবসময়ই জেনে এসেছি যে মানুষ পাচারের ক্ষেত্রে শিকার হচ্ছে মহিলা এবং শিশু। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করার মত বিষয় হলো প্রায় ৩০ শতাংশ দেশে মহিলারাই পাচারের সঙ্গে জড়িত। এবং পুরুষদের চেয়ে তারা এ ক্ষেত্রে অনেক বেশী এগিয়ে। পাচারের মত অপরাধে পুরুষদের হার মানিয়েছে মহিলারা। তার চেয়েও বেশী আশ্চর্যের বিষয় হলো, এদের বেশীর ভাগ মহিলা নিজেও একসময় শিকার হয়েছিল এই বর্বরতায়। এখন আমাদের বুঝতে হবে, যার ওপর এমন নির্মম আচরণ করা হয়েছে, যার ওপর এভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছে সে কি করে আরেক জনের ওপর নির্দ্বিধায় তা চালাতে পারে? আমরা আরেকটি কথা শুনে থাকি, তা হলো ‘আনন্দ পাচার বা হ্যাপি ট্রাফিকিং। এটা আসলে কোনো আনন্দের বিষয় নয়। যাকে পাচার করে আনা হয়, তাকে বলা হয়- তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে যদি তুমি আরো দুজনকে ধরে আনতে পারো।

ফলে পিরামিডের আকৃতির মতো এই সমস্যা ক্রমশঃ নীচের দিকে নেমে ছড়িয়ে যাচ্ছে। নারী পাচার বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। অনেকের মতে, তারা জানে তাদের সমাজে এ সমস্যা বিদ্যমান কিন্তু তা বন্ধ করতে কী করা যেতে পারে তা তারা জানে না। চোখ খুলে তাকালেই এসব ধরা পড়বে। তখন দেখা যাবে, দূরে যাবার প্রয়োজন নেই, রাস্তার মোড়েই এসব ঘটনা ঘটছে। একটি বাড়িতে অগণিত মেয়ে আসছে, যাচ্ছে তারা কারা ? এ প্রশ্ন কি করা যায় না ? আমি মনে করি, সাধারণ মানুষদের এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে। আমি জানি না, ‘এটি আমার মাথা ব্যথার কারণ নয় বা ‘আমার কী করার আছে- এই ধরণের কথা বলার সময় পেরিয়ে গেছে। সরকারকে এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। নারী ও শিশু পাচার বর্বর যুগের জঘন্য নিকৃষ্ট কাজ।

এরকম আধুনিক যুগেও এরকম ঘটনা ঘটছে। এটা সত্যিই দুঃখজনক ও অমানবিক। নারী পাচার রোধে সবার আগে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো যেতে পারে। কারণ যারা একাজ করছে তারা বেশীরভাগই অশিক্ষিত। নারী পাচারকারী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। এখনই নারী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে নারী ও শিশু পাচার।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত