শিরোনাম

বিশ্বনন্দিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন

প্রিন্ট সংস্করণ॥প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ  |  ০২:৪৪, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

কখনো কখনো একটি জাতির উপর অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। মহান সৃষ্টিকর্তা সদয় হয়ে সে জাতিকে উদ্ধারে তার পছন্দনীয় কারো ওপর সে দায়িত্ব অর্পণ করেন। প্রনিধান যোগ্য ব্যক্তিবৃন্দের মধ্যে নিঃসন্দেহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমতুল্য কোনো রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করেননি, সেজন্য তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তারই ঔরষজাত জ্যেষ্ঠ সন্তান কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ১৯৪৭ সনের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় স্রষ্টার পক্ষ হতে বর হয়ে বাঙালি জাতির ত্রাণকর্ত্রী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সারাজীবন বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, সাড়ে ১৪ বছর জেল খেটেছেন এবং তার নির্দেশে কোটি জনতা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

৩০ লাখ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যখন সার্বিক মুক্তি ও উন্নয়নের পথে অগ্রগামী হয়েছিল তখনই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জনক সপরিবারে শহীদ হন। জাতির চরম সংকটে, অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতিকে পুণরুদ্ধারে জীবনবাজী রেখে, দেশে ফিরে ১৯৮১ সনে মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নেন। তিনি বাঙালি জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে ধাপে ধাপে দেশকে উন্নীত করে চলেছেন অবিরাম ভাবে। তাকে অন্তত ২৪ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে আছেন।

কিন্তু জীবনবাজী রেখে তিনি অকুতোভয় সৈনিকের মত বাঙালি জাতির উন্নয়নে তথা মানবতার উন্নয়নে জীবন উৎসর্গের পথে চলেছেন। কেন তিনি অতুলনীয়? কোন বাঙালি নারী তার অবদানের সমতুল্য? যদি বলি বিশ্বের কোন নারী তার সমতুল্য? তার সততা, সাহস, ত্যাগ, দেশপ্রেম, মায়ামমতা, বিচক্ষণতা, মানবতা, সফল নেতৃত্ব, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, ন্যায়-নিষ্ঠা, নির্লোভ, সহজ-সরল জীবনযাপন, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তার সমতুল্য কে? নারী পুরুষ নির্বিশেষে কয়জন তার সমতুল্য? তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পৃথিবীর অন্য যে কোনো নারীর তুলনায় একটু ব্যতিক্রম। দেশ বিদেশে তার অবদানের স্বীকৃতিই কি প্রমাণ করেনা তিনি অতুলনীয়? এরইমধ্যে তিনি ৩৮টি আন্তর্জাতিক পদক পেয়েছেন।

তিনি নিজ দেশের কল্যাণে বিশেষ করে নারী ও শিশু উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য, শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নতকরণ, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, মানবতা প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরি, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, আইসিটি ডেভেলপমেন্ট, লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসকরণ, মাতৃ মৃত্যু হ্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, পরিবেশ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এসব পদক পেয়েছেন। তিনি ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী এবং মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আপোষহীন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ব্যবস্থা করণসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংবিধান সমুন্নত করণসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ, পদ্মাসেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থদের উন্নয়নে ভূমিকা, বিভিন্ন ভাতা প্রদান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়ন, বর্ধিত সমুদ্রসীমা অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হার হ্রাস, মানব উন্নয়ন, গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রেকর্ড, শিল্পায়ণ তরান্বিতকরণ, কৃষি উন্নয়ন, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, মহাশূন্যে স্যাটেলাইট প্রেরণ ইত্যাদি হাজারো বিষয়ে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন সারা বিশ্বে স্বীকৃত। সার্বিক বিবেচনায় নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষার প্রসার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি তিনি গ্রহণ করেছেন। আজ সারা জাতি আমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তার নির্দেশে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দেশ আজ উন্নয়ন সূচকের সর্বোচ্চ রেকর্ডে অবস্থান করছে। সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের জোয়ার বইছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান করতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
তিনি শান্তির বাণী এবং উন্নয়নের দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রচার করছেন। মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। মায়াময়ী মায়ের মতো তাদেরকে আশ্রয় ও লালনের ব্যবস্থা করেছেন। প্রত্যাবাসনে সাহায্য করতে যারা দ্বিধাগ্রস্থ ছিলো তারাও আজ লজ্জিত। এখন তারা সাহায্যের জন্য আশ্বাস দিচ্ছেন।

বর্তমানে দেশের শান্তিময় পরিবেশকে অশান্ত করার লক্ষে একটি পক্ষ অনবরত নানান কায়দায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সকল পন্থায় ব্যর্থ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ভর করে। সরিষায় ভূত রয়েছে! সচেতন হওয়ার সময় নয় কি? আসুন আমরা সকলে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নেই। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।

আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম শুভ জন্মদিনে এ প্রতিজ্ঞাই হোক সকলের। সকলের প্রতি আহ্বান ভুল পথ পরিহার করে সত্য পথে, দেশগড়ার পথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে এগিয়ে চলুন। তবেই এ অতুলনীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রম স্বার্থকতায় রূপ নিবে। আমরা পাব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এ দিনে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুখী ও শান্তিময় জীবন কামনা করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম শুভ জন্মদিনে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

লেখক : উপাচার্য
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত