শিরোনাম

বুয়েট ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত হোক

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০৭:৪২, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অপরাজনীতির শিকার হলো আরেকটি প্রাণ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জন পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।

ইতোমধ্যে ১১ জনকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আবরার হত্যার বিচার কাজ চলবে। আমরা আশা করি দোষীরা সাজা পাবে। তবে আবরারের মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো- তা শুধু টের পাবে আবরারের বাবা-মা ও পরিবার। এ ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদ চলছে। সচেতন নাগরিক সমাজ বড় কোনও অসঙ্গতি দেখলে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে তার প্রতিবাদ করে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়, দেশ উত্তাল হয়। এরপর আবার নতুন কোনও ঘটনা বা অঘটন জন্ম নেয়, দৃষ্টি চলে যায় সেদিকে। আবরাররা তখন ‘উদাহরণ’ হয়ে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছিল তখন তাদের ইশতেহারে ‘দিন বদলের’ প্রতিশ্রুতি ছিলো। দিন বদলেছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে দেশের ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। অর্থমন্ত্রী বলছেন, এটি পুরনো তথ্য, হালনাগাদ তথ্য হলে দারিদ্র্য হ্রাসের হার আরও বেশি হতো, অর্থাৎ চলমান ২০১৯ সালে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৮০ লাখ নয়, তার চেয়ে আরও অনেক বেশি কমেছে। এ বিষয়ে আমরাও আশাবাদী হতে চাই। কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নও থেকে যায়। বিত্তবানদের সংখ্যা কী হারে বেড়েছে? ধনীর সংখ্যা বাড়াকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই।

কিন্তু প্রশ্নটা সেখানেই, যারা ধনী হয়েছেন তাদের সম্পদ অর্জনের প্রক্রিয়াটা কী? বর্তমান সময়ে সুবিধা ও ফায়দা লোটার সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো রাজনীতি। যেখানে নীতি ও আদর্শ থাকার কথা সেখানে এগুলোকে বিসর্জন দিয়ে মানুষ রাজনীতিতে ঢুকছে নগদ প্রাপ্তির লোভে। দল টিকিয়ে রাখতে এদেরকে ধরে রাখার প্রয়োজনে সুবিধা দিতেও হয়। এর ফলে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বিকশিত রূপ ধারণ করে, উচ্চ স্থান থেকে একদম তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এরই জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ কয়েকদিনের ‘শুদ্ধি’ অভিযান। সরকারের এই উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

কিন্তু এই প্রক্রিয়া কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটাও ভাবার বিষয়। আশঙ্কা হচ্ছে, বর্তমান রাজনীতি যেভাবে দূষিত হয়েছে এবং ক্রমাগত দূষণের কবলে রয়েছে তাতে অদূর ভবিষ্যতে ‘লোম বাছতে কম্বল উজাড়ের’ মত ঘটনা না ঘটে যায়। দিন বদলের মানে শুধু অর্থনৈতিক আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, অপরাজনীতিসহ সকল অসঙ্গতিকে নির্মূলের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠন করা।

বুয়েট ছাত্র আবরারকে পিটিয়ে হত্যায় জড়িতরা দুর্বৃত্ত, আর তাদের দুর্বৃত্তায়নের জন্য দায়ী অপরাজনীতি। যারা আবরারকে হত্যা করেছে তারা সবাই বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী, কিন্তু তাদের মেধাকে কোন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, কারা ব্যবহার করছে সেটি গুরুত্বসহকারে দেখার বিষয়। আমরা চাই না আরও কোনও আবরার অপরাজনীতির শিকার হোক।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত