শিরোনাম

‘মিয়ানমারের সব ফর্মুলা মেনে নিচ্ছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:১৩, আগস্ট ২৫, ২০১৯

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। মিয়ানমার যে ফর্মুলা দিয়েছে সেই ফর্মুলা মেনে নিচ্ছে সরকার।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরুউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

ফখরুল বলেন, ‘সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য সর্বশেষ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল মিয়ানমার সরকার, তারও সমাধান হয়নি।

অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার মতো বিষয়েগুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই তারা ফিরে যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সরকার ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুষ্ঠুভাবে তুলে ধরতে এবং তাদের সমর্থন আদায়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

রোহিঙ্গা সমস্যার কীভাবে সমাধান আসতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সমস্যার সমাধানে প্রথমে অলপার্টি ডায়ালগ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে পারলে ওইখান থেকে বেরিয়ে আসবে, আমাদের কী করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে দরকার ছিল সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্যা স্টেটের সাথে দেখা করা, যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এখন পর্যন্ত সরকার সেটা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা সরকারের কোনো প্রতিনিধিদল করেন নাই।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফের ছোট-বড় প্রায় ৩২টি শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গারা।

গত তিন দিনে ৯৩৩ পরিবারের মধ্যে ২৯৫ পরিবারের সাক্ষাৎকার নেয়া হলেও গেল বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার তালিকাভূক্তের মধ্যে শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ই-ব্লকের আরাকান সোসাইটি নামে কিছু রোহিঙ্গা নেতা চার দফা দাবি করে মিয়ানমারে ফেরত যায়নি।

আরাকান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ উল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হলো— রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, জমিজমা ফেরত দিতে হবে এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাকে মুক্ত করে নিজ নিজ গ্রামে বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা দিতে হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত