শিরোনাম

শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা চেয়েছে খালেদার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে বক্তারা

‘লক্ষ নেতাকর্মী প্রস্তুত, নির্দেশ দেন নেত্রীকে মুক্ত করি’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ১২:৪৯, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

 *খালেদা জিয়া সাহায্য ছাড়া হাঁটতে, চলতে পারেন না : ফখরুল
*মানববন্ধন নয়, এবার ‘দানববন্ধন কর্মসূচি’দিতে হবে: গয়েশ্বর
*‘আন্দোলনের পথ বেছে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে’:মওদুদ

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনা চেয়েছেন দলটির নেতারা। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে এমন আবেদন জানান বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলাল।

তিনি সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে দেশের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী প্রস্তুত আছেন। আপনারা আমাদের নির্দেশ দেন, আমরা সেই নির্দেশ মোতাবেক লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী নিয়ে রাজপথ দখলে নিয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করি। ক্ষমতাসীন দানব সরকারকে পরাজিত করি।’

আলাল বলেন, ‘দানবকে পরাজিত করতে মানববন্ধন কর্মসূচি আর নয়। এজন্য যে প্রস্তুতি দরকার যে অস্ত্র প্রয়োগ করা দরকার সেই যথাযথ প্রয়োগের নির্দেশনা আপনারা সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আমাদেরকে দেন। এটির জন্য সারা দেশে বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী প্রস্তুত রয়েছে। দেশবাসী শীর্ষ নেতাদের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে।’

দলের জেষ্ঠ্য নেতাদের উদ্দেশ্যে আলাল বলেন, ‘আপনারা কর্মসূচি দেন, আমরা সকলে মিলে সংগঠিত হয়ে রাজপথে নেমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং সেই সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকেও মুক্ত করবো।’

মানববন্ধন নয়, এবার ‘দানববন্ধন কর্মসূচি’দিতে হবে: গয়েশ্বর
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ও দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আগামী দিনে ‘মানববন্ধন নয়, দানববন্ধন কর্মসূচি’ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে হয় বেশি দিন মানববন্ধন চলবে না। আমাদেরকে এখন দানববন্ধন কর্মসূচি দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের আদালত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীর মুক্তি- আন্দোলনের ওপর নির্ভর করা তার জন্য অপেক্ষা করা অসম্মানজনক।’

এসময় গয়েশ্বর বলেন, ‘যে আদালত নিজে চলতে পারে না, যে আদালত নিজের চিন্তা-ভাবনা প্রয়োগ করেতে পারে না, যে আদালত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাহিরে এক কদম হাঁটতে পারে না- সেই আদালদের ওপর খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্ভরশীলতা আর খালেদা জিয়াকে আদালতে রাখা একই কথা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মনে করি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে সরকার একমাত্র বাধা তাহলে সরকারের পতনের আন্দোলনই আগে করবো। তারপর খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবেই মুক্ত হয়ে আসবেন।’

‘আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে’: মওদুদ
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে দুটি মিথ্যা মামলায় বন্দি রাখা হয়েছে। আজকে দেড় সপ্তাহ থেকে দেড় বছর হতে চললো, তিনি জেলখানায়। তাঁর একটি মাত্র কারণ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আদালতে বিচারকরা মুক্ত মনে কাজ করতে পারছে না। আর এ কারণে আইনি প্রক্রিয়ার তাঁকে মুক্ত করা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। কিন্তু, আমাদেরকে এর সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হবে। এবং সেজন্য কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি একমাত্র রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব। অন্যথায় নয়।’

খালেদা জিয়া সাহায্য ছাড়া হাঁটতে, চলতে পারেন না : ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সবাইকে সমুন্নত রাখতে হবে। সামনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে এই জালিম সরকারকে পরাজিত করতে হবে।’

বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাঁর ডায়াবেটিস অত্যন্ত বেড়ে গেছে, গায়ের ব্যথা বেড়ে গেছে, তিনি কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ারে চলছেন। কিন্তু, এই সরকার, তার কর্মকর্তা ও ডাক্তাররা বলছেন, তিনি নাকি সুস্থ হয়ে গেছেন। মূলত তিনি অসুস্থ অবস্থায় কারারুদ্ধ দিন পার করছেন। আমরা তাঁর সুচিকিৎসা ও মুক্তি দাবি করছি।’

নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘আজকে সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ, তাদের সেই বৈধতা নাই, সাহস নাই। আজকে আসাম থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, স্বাধীনতার পরে কোও বাংলাদেশি কখনও ভারতে যায়নি। এটা নিয়ে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে আবারও বিপদগ্রস্ত করবার জন্য।’

এই সরকারকে আবারও ‘অবৈধ’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার ভোট ডাকাতি করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে আটকে রেখেছে। কারণ একটাই, তিনি বাহিরে থাকলে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করবেন। এই অবৈধ সরকার রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। আজকে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার।’

সরকারের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, কীভাবে দেশে লুটপাট চলছে। কীভাবে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। আজকে দুর্নীতির পাহাড় গড়ে তুলেছে সরকার। দুর্নীতির টাকা দেশে বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছে তারা। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনও জবাবদিহিতা নাই। তারা বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসে না বলেই গণতন্ত্রহীন একটা সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে।’

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আসুন আজকে নিজেদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য, কথা বলার অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। ভোটারবিহীন সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

এসময় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা:এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, মুজিবুর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন ও কৃষক দল নেতা মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।

এআর/এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত