শিরোনাম

আউট হচ্ছেন শোভন-রাব্বানী, আসছে নতুন মুখ!

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১০:৫৯, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ! এমনকি সেসব অভিযোগে পুরোপুরি ক্ষিপ্ত স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই। বিরোধী মতাদর্শীদের অর্থের বিনিময়ে সংগঠনে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাচারিতা, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অগ্রাহ্য করা, মাদক সেবন, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ অসংখ্য অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসেছে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে।

গত কিছুদিন ধরে দু’জনের বিরুদ্ধে সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা ও অদক্ষতার অভিযোগ ও তার প্রমাণ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট আকারে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সর্বশেষ জানা গেছে, এখনো প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোন সময় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। আর এটা হলে মেয়াদপূর্তির আগেই ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে চলেছে।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর গণভবনের প্রবেশ পাস বাতিল করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) গণভবনে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের বকাঝকা করেন বলেও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষোভ কমার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের প্রস্তুতি বিষয়েও কাজ করছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের চার নেতা।

সূত্রটি জানায়, আগামী শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে ছাত্রলীগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

আরও জানা গেছে, প্রথমে কমিটি ভেঙে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে ছাত্রলীগের কার্যক্রম চালানো হবে। আর শিগগির আগাম সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগ কয়েক যুগ ধরে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। একটি সিন্ডিকেট-যারা বহু বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছে- সর্বশেষ সম্মেলনের পর কমিটি গঠনের মাধ্যমে ওই সিন্ডিকেট একেবারেই নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ৯ নেতার নেতৃত্বে গঠিত অপর সিন্ডিকেটের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এখন ছাত্রলীগ। এই সিন্ডিকেট এখন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে বাঁচাতে নানা চেষ্টা করছেন।

এদিকে, বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী দেখছেন। তবে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিদ্ধান্ত আকারে কোনো কিছু না এলে কিছুই বলতে পারবো না। ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এই ধরণের কোন ইঙ্গিত পাইনি, পেলে জানাবো। তবে দলের চার জনকে ছাত্রলীগের বিষয়টি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছেন নেত্রী।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১১ ও ১২ মে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়। ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে অনেক বিলম্ব করা হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর গত ১৩ মে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর শুরু হয় নতুন সংকট।

কমিটিতে বিবাহিত, অছাত্র, রাজাকারের সন্তান, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের স্থান দেওয়াকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে শুরু হয় লাগাতার আন্দোলন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ৯৯ জনই বিতর্কি-অযোগ্য দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করে সংগঠনেরই কিছু নেতাকর্মী।

এমন প্রেক্ষিতে গত ১৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের অন্তর্ভুক্ত করে ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রায় চার মাস পার হলেও ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও বিতর্কের সমাধান হয়নি।

জেডআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত