শিরোনাম

খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপির ১২ দিনের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৪:৫৩, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি পালিত হবে দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এসময় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ নেছার উদ্দীনসহ অন্যরা।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবি দলের উদ্যোগে মানববন্ধন, ১৬ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে মানববন্ধন, ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের উদ্যোগে মানববন্ধন, ১৮ সেপ্টেম্বর, এ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ (এইবি) এর উদ্যোগে মানববন্ধন, ১৯ সেপ্টেম্বর ডক্টর এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর উদ্যোগে মানববন্ধন।

এছাড়া ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে দেশব্যাপী মানববন্ধন, ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মানববন্ধন, ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের উদ্যোগে দেশব্যাপী মানববন্ধন, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগ মানববন্ধন, ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে মানববন্ধন, ২৭ সেপ্টেম্বর এগ্রিকালচারিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর উদ্যোগে মানববন্ধন এবং ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হবে।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন মানববন্ধন পর্যায়ে থাকবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাতো এখন বলতে পারবো না, তবে মানববন্ধন হবে, এরপর নিউ কোর্সে সুনির্দিষ্টভাবে আন্দোলন হবে।

তিনি জানান, আগামী রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) মৎস্যজীবীদল, সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মুক্তিযোদ্ধা দল, মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তাঁতীদল, বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) অ্যাব মানববন্ধন করবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি বেআইনিভাবে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। তার প্রাপ্য জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এজন্য তার মুক্তির দাবিতে আমরা আন্দোলন কর্মসূচি নিয়েছি। আজকের যৌথসভায় সেই আন্দোলনের আর একটি ধাপ আমরা ঠিক করেছি। আপনারা জানেন গতকাল বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) আমরা ঢাকায় মানববন্ধন করেছি। আজকে বৃহস্পতিবার সারাদেশে মানববন্ধন চলছে।

খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গেছেন অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, প্রতিহিংসাটা অত্যন্ত গভীরে। আজকের শাসকগোষ্ঠী পুরোপুরি অবৈধভাবে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে।

তাদের পক্ষে এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করা, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে না, যদি খালেদা জিয়া বাইরে থাকেন। সে কারণে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই ধরনের মামলায় অন্য যারা সাজা পেয়েছেন তারা জামিনে আছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার বিষয়ে এটাকে পুরোপুরি দলীয়করণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আগেও বলেছি পৃথিবীর ইতিহাসে বোধ হয় খুব কম গণতান্ত্রিক দল আছে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য এতো বেশি সাফার করেছে। দুই মাসে আগের হিসাবে ২৬ লাখ আসামি করা হয়েছে; এক লাখের ওপরে মামলা, ৫০০-এর ওপরে নেতাকর্মী গুম ও কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এমএআই

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত