শিরোনাম

‘ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেয়া হলো ৪ নেতাকে’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:৫২, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

বিরোধী মতাদর্শীদের অর্থের বিনিময়ে সংগঠনে অনুপ্রবেশ ঘটানো, স্বেচ্ছাচারিতা, ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অগ্রাহ্য করা, মাদক সেবন, টেন্ডার ও তদবির বাণিজ্যসহ অসংখ্য অভিযোগ এসেছে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। ‍এই নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

গত শনিবার আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। যেকোনো সময় ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে। আর এটা হলে মেয়াদপূর্তির আগেই ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে চলেছে।

ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর গণভবনের প্রবেশ পাস বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প নেতৃত্ব দেখতে বলেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, ছাত্রলীগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ছাত্রলীগ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের বিষয়টি দলের চার নেতার ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এছাড়াও দলের এ অঙ্গ সংগঠনের পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করে ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করেছেন। এখন যদি ছাত্রলীগের এ কমিটির ব্যাপারে নতুন কোনো বিবেচনা আসে, সংযোজন বা পরিবর্তনের কোনো প্রশ্ন আসে, আমি মনে করি নেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই করতে পারেন। যেহেতু কমিটিটা তিনিই করেছেন, কাজেই কমিটির ব্যাপারে যদি কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন-সংযোজনের প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি নিজেই করবেন।’

‍এদিকে, বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কার্যালয়ের সামনে সাংবা‌দিক‌দের সাথে আলাপকালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন,বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবা‌র্ষি‌কীর আর মাত্র চার মাস বা‌কি আছে। তার ম‌ধ্যে ভুলত্রু‌টি ঘুছি‌য়ে বাংলা‌দেশ ছাত্রলীগ নতুন মোড়‌কে আস‌বে।

সম্প্রতি উঠা ছাত্রলী‌গের বিরু‌দ্ধে অভিযোগের বিষ‌য়ে রাব্বানী ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রীর কা‌ছে আমা‌দের বিষ‌য়ে স‌ঠিক বার্তা পৌঁছে‌নি। আমা‌দের অবস্থান থে‌কে আমরা স্বচ্ছ আছি। য‌দি তি‌নি চান আমা‌দের বিষয়‌টি আমরা ব্যাখ্যা দি‌তে প্রস্তুত আছি। যা র‌টে তার কিছুটা ঘ‌টে। ‌তি‌নি আমা‌দের অভিভাবক, আমা‌দের মা। আশা ক‌রি প্রধানমন্ত্রী আমা‌দের ভুলত্রু‌টিগু‌লো ক্ষমাসুন্দর দৃ‌ষ্টি‌তে দেখ‌বেন।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের ১১ ও ১২ মে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন। তার আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছর মেয়াদী আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তার এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে তা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এতে স্থান না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা।

বছরের শুরুতে ডাকসু নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেলকে ছাত্রলীগ দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়।

এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত