শিরোনাম

‘নেত্রী চাইলে সাধারণ সম্পাদক পদে আবার আসতে পারি’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৫:৪৩, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করবেন না বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নেত্রী যদি চায় তাহলে আবার আসতে পারি। নতুন মুখ আসলে মোস্ট ওয়েলকাম।’

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৬ সালের ২১-২২ অক্টোবর। সে হিসাবে চলতি বছরের অক্টোবরে সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০-২১ ডিসেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গেল শনিবার দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সম্মেলনের এই তারিখ ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‍এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের পার্টিতে আমাদের সভাপতি যেটা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা বড় বিষয়। সাধারণ সম্পাদকের পদে যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন। কারণ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে আসেল কিছু হবে না।

তিনি বলেন, কে সাধারণ সম্পাদক হবেন সেটা নির্ভর করে শেখ হাসিনার উপর, তিনি নতুন কিছু ভাবতে পারেন। নেত্রী আমাকে যদি বলেন তুমি দায়িত্ব পালন করো, তাহলে আমার কোন অসুবিধা নেই। তিনি ইচ্ছে করলে যদি বলেন থাকতে, তাহলে থাকবো। আর তিনি যদি বলেন দায়িত্বে পরিবর্তন হবে তাহলে সেটা হতে পারে। ভিন্ন কোন সিদ্ধান্ত আসলে আমি স্বাগতম জানাবো।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইচ্ছে পূরণ করতে না পারার কোন আক্ষেপ আছে কিনা এমন প্রসঙ্গে কাদের বলেন, মানুষের জীবনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সব ইচ্ছেই পূরণ হবে, সব ইচ্ছেই সফল হবে এমন আশা করে লাভ নেই। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা এটা একেক সময় একেক রকম হয়ে দাঁড়ায়। আমি এটুকু বলতে পারি আমি আমার চেষ্টা ও আন্তরিকতার কোন ঘাটতি করিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম কিছু দিন, অসুস্থতার পরেও আমি দল ও সরকারের কাজে সমানভাবে সময় দিচ্ছি। যেখানে যখন প্রয়োজন সেখানেই আমি নিজেকে ইনগেজ করছি। কাজেই আমি আবারো বলছি এটা আসলে সভাপতির উপর নির্ভর করে। তিনি আসলে যাকে নেক্সট জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে পছন্দ করবেন এবং তিনি যেটা করবেন তার প্রতি আমাদের সকলেরই পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের দলের মধ্যে যারা অপকর্ম করে, অনিয়ম করে এবং যাদের মানষিকতা দুর্নীতিপ্রবণ এ ধরনের নেতা-কর্মীদের দলের ভেতরে না থাকাই যথার্থ বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে আমি বলবো দুষ্ট গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভাল।

যুবলীগ প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটা সমস্যা থেকে যায় সেটা হলো কিছু আগাছা-পরগাছা সুবিধাবাদী একটি শ্রোতের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলে ঢুকে পড়ে এবং এরাই বেশিরভাগ সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর যে ক্লিন ইমেজ আছে সেটা দলের ভেতরেও যাতে স্বচ্ছ থাকে সেটা করার প্রয়োজন আছে। যেমন ছাত্রলীগ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। যুবলীগেও তারা নিজেরা একটা উদ্যোগ নিয়েছে। তার ট্রাইব্যুনাল গঠন করছে। যেখা যাক তারা কী করতে পারেন।

কাদের বলেন, এখানে পরিস্কার বিষয় হচ্ছে, সরকার এবং দলের ইমেজটা ক্লিন হওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রী ক্লিন ইমেজের জন্য সারা বিশ্বে প্রশংসিত ও সমাদৃত। বাংলাদেশের মানুষও তার সততাকে প্রশসংসা করে, আমরা সবাই যদি নিজেদের ইমেজকে স্বচ্ছ করতে না পারি তাহলে কিছু কিছু বিষয় এসে যায় যেগুলো জনগনের কাছে দলের ও সরকারের ভাবমূর্তী নষ্ট করে।

বিএইস/এমএআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত