শিরোনাম

‘সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল থেকে মাস্তানদের ধরা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:২০, অক্টোবর ১০, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হল থেকে মাস্তানদের ধরার নির্দেশ দেয়া হবে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের টাকায় হলে থাকবে আর মাস্তানি করবে তা হতে পারে না। এক্ষেত্রে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তার সফর ও সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তবে সাংবাদিকদের দিক থেকে ঘুরে ফিরে আবরার হত্যা নিয়েই প্রশ্ন এসেছে সবচেয়ে বেশি।

সরকার ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ চাইলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে সার্বিকভাবে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত সরকার নিবে না।

ছাত্রদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সামরিক স্বৈরাচারদের মানসিকতা। নেতৃত্ব তৈরিতে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। তবে বুয়েটের সিন্ডিকেট চাইলে এরকম কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে।

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনা জানার পর সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি আলামত সংগ্রহ ও অপরাধীদের আটক করতে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দিক থেকে সিসিটিভি ফুটেজ আনতে বাধা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তিন ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে। এটা খোঁজ করতে হবে কেন ফুটেজ আনতে বাধা দেওয়া হলো। আর আন্দোলনই বা কী জন্য? বিচার তো হবে। হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।

ফেনী নদীর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফেনী নদী মূলত একটি সীমান্ত নদী। ত্রিপুরার একটি ইউনিয়নের পানীয় জলের জন্য যে সামান্য পানি দেওয়ার চুক্তি হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ মানবিক কারণে। কেউ খাবার জন্য পানি চাইলে তো না করা যায় না।

এক্ষেত্রে সীমান্তবর্তী নদীগুলো থেকে দুই দেশ সুফল পেতে যৌথভাবে ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের বন্দর বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোর্ট কেউ একা ব্যবহারের জন্য তৈরি করে না। নেপাল, ভারত, ভুটান আমাদের বন্দর ব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের শুল্ক আয় হবে।

সে কারণেই ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর নেপাল ও ভুটানকে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা না বাড়ালে উন্নতি হবে কীভাবে। কেউ তো আর একা একা উন্নতি করতে পারে না।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে বলেছিলেন, ফারাক্কা চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। যারা গঙ্গার মতো পানির কথা ভুলে যায়, তারা আবার ফেনী নদীর পানি নিয়ে কথা বলে।

অপর এক প্রশ্নে উত্তরে ত্রিপুরায় বাল্ক এলপিজি রপ্তানী নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কোন স্বার্থ শেখ হাসিনা কোনদিন বিক্রি করবে, এটা হতে পারে না। এটা সবার জানা উচিত। বরং যে যে সমস্যা ছিল তাঁর প্রত্যেকটির সমাধান আমরাই করে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যারা গ্যাস বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলে ২০০১ সালে তারাই গ্যাস বিক্রির মুচলেখা দিয়েছিল। আমার কথা হলো, যারা এই প্রশ্ন তোলে তারা অতীতটা ভুলে যায় খুব তাড়াতাড়ি।

শেখ হাসিনা বলেন, এটা আমরা বড় আকারে বাল্কে আমদানী করে ভ্যালু অ্যাডেড করছি এবং ত্রিপুরায় রপ্তানী করছি এবং এতে আমাদের রপ্তানীর খাতায় আরো একটি আইটেম যুক্ত হলো, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলপিজি কোন প্রাকৃতিক গ্যাস নয় এবং এটি আমাদের দেশে উৎপন্ন হয়না।

তিনি বলেন, আমরা যে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তৈল) কিনে নিয়ে আসি এটি পরিশোধের পর এর কিছুটা অংশ এলপিজি হয় এবং আমরা যে গ্যাস উত্তেলন করি সেখানে কিছু তেল আমরা পাই, যা থেকে অকটেন এবং পেট্রল হয়। এরসাথে সামান্য কিছু এলপিজি তৈরী হয়।

তাঁর সরকার প্রাকৃতিক গাসের স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় এলএনজি আমদানী করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেজন্য রান্নাসহ অন্যান্য কাজে যাতে বোতলজাত গ্যাস ব্যহার করা যায় সেজন্য এলপিজি আমাদানী করে সিলিন্ডারে ভরে আমরা সরবরাহ করছি।

তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারী খাতে এলপিজি বোতলজাত করাকে উন্মুক্ত করে দেয়ায় আগে একটি ১০ থেকে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম দেশে ১৬শ’ টাকা করে পড়লেও এখন ৯শ’ টাকায় প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। বেসরকারী পর্যায়ে প্রায় ২৬টি কোম্পানী এই গ্যাস বোতলজাত করণের কাজ করছে এবং ১৮টি কোম্পানী উৎপাদন করছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ত্রিপুরায় যে গ্যাসটা দিচ্ছি সেটা এই বোতলজাত গ্যাস। আমরা আমদানী করছি বাল্কে, সেই গ্যাস বোতলজাত করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা কিছুটা ত্রিপুরাতেও সরবরাহ করছি, এটা হচ্ছে বাস্তবতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন যে দেশের গ্যাস দিয়ে দিচ্ছে এবং এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশী সোচ্চার বিশেষ করে বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার জন্য গ্যাস রপ্তানীর চুক্তিতে মুচলেখা দিয়েছিল। একটি আমেরিকান কোম্পাীর কাছে সেটা বিক্রী করবে এবং ভারত ক্রয় করবে। কিন্তু আমি বলেছিলাম আমাদের কি পরিমাণ গ্যাস রয়েছে তা নির্ধারণ করে ৫০ বছর দেশে ব্যবহার উপযোগী গ্যাস মজুদ রা রেখে আমি গাস রপ্তানী করতে পারি না। এ কথার কারণে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি।’

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের বাংলাদেশে আগমন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে খালেদা জিয়া এবং প্রয়াত মান্নান ভূইয়া এবং প্রয়াত জিল্লুর রহমান সহযোগে তাদের বৈঠকে এই গ্যাস রপ্তানী নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগের তথ্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এমএআই 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত