শিরোনাম

মেজর হাফিজের সেই মেইলে কি ছিলো?

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০৭:১৪, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

কি ছিলো সেই মেইলে জানতে পারেনি আদালতও! যে অভিযোগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে আটক করা হয়েছিলো। যে ইমেইলটি পাঠিয়েছিলেন সেই ইমেইলের একটি কপি দেখতে চান বিচারক। কিন্তু আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা তা উপস্থাপন করতে পারেননি।

একই ধরনের ফরোয়ার্ডিং ও নথি উপস্থাপন না করতে পারায় আদালত হাফিজ উদ্দিনকে একদিনের মাথায় জামিন দিয়ে দেন। সাত দিনের রিমান্ড নেয়ার আবেদনও খারিজ করে দেন আদালত। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির পক্ষ থেকে মিশ্র বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি- সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতার জন্যই তিনি আটক হন। অন্যদিকে বিএনপির এক যুগ্ম মহাসচিবের ভাষ্য, দেশবিরোধী ফেনী নদী নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে তা হয়তো কয়েকটি আন্তর্জাতিক মহলকে জানিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী থাকায় এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।তাই ফেনী নদী নিয়ে বিশ্লেষণ করে কাউকে কিছু জানাতে পারেন।

তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাময়িক অবস্থানটা আন্তর্জাতিক মহলকে যে কয়েকজন জানান, তাদের মধ্যে হাফিজই অন্যতম। তাই দলের ও ব্যক্তিগত জিনিস হ্যাক করার নৈতিক অধিকার কেউ রাখেন না বলেও দাবি করা হচ্ছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

তবে প্রশাসনের দাবি, সামরিক বাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন হাফিজ উদ্দিন। ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, র‍্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য পাঠায়। যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য ছিলো হুমকিস্বরূপ।

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রমাণ থাকায় গত শনিবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে আসার পর বিমানবন্দর এলাকা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও গ্রেপ্তারের একদিন পরই জামিন পেয়েছেন তিনি। এ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, তিস্তাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির চুক্তির বিষয়ে যাতে কথা না বলেন এজন্যই প্রভুদের খুশি করতে সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ গ্রেপ্তার সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানুষের চোখকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার অপকৌশলমাত্র। সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে তিনি পানির ন্যায্য হিস্যা ও দেশের স্বার্থের পক্ষে একজন নির্ভীক ভাষ্যকার। পানি চুক্তির চক্রান্তের নানাদিক তুলে ধরতে পারতেন সাবেক এ পানি মন্ত্রী। এ কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।

এ নিয়ে হাফিজ উদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন? যেই মেইলের কথা বলা হয়েছে, পুলিশ আদালতে সেই ইমেইল উপস্থাপন করতে পারেনি? তাই এটা বানোয়াট অভিযোগ ছাড়া আর কিছুই না? আদালত আমাদের যুক্তি গ্রহণ করেছে? তাই তাকে রিমান্ডে না দিয়ে জামিন দিয়েছেন?

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য-প্রমাণ আছে তাতে মেজর (অব.) হাফিজ সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ইমেইলের মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছেন?

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত