শিরোনাম

সৌদিতে নারী শ্রমিকদের যৌন নির্যাতন, স্বীকার করলো সরকার

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৫:০১, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা দীর্ঘদিন যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমন  খবরে ছেয়ে গেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। দেশে ফেরত নির্যাতিতরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অভিযোগ করেও কোনো উপকার পায়নি।

এবার প্রথম বাংলাদেশ সরকার স্বীকার করলো সৌদিতে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা শারীরিক যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে সরকার।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দাখিলকৃত এক প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় সরকারকে অবহিত করে, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে ফিরে আসছে।

চলতি বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশ সরকার সৌদিতে কর্মরত নারী শ্রমিকরা আসলেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কি না জানতে চেয়েছিল। একই সময় ১১১ জন সৌদি ফেরত নারী শ্রমিকের সাক্ষ্য ও বয়ানের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

নারী শ্রমিকরা ফিরে আসার কারণ হিসেবে ১১টি ইস্যু উল্লেখ করা হয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঐ প্রতিবেদনে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যৌন ও শারীরিক নির্যাতন, খাবার ও ছুটি থেকে বঞ্চিত করা, অসুস্থতার জন্য ছুটি না দেয়া এবং বকেয়া বেতন।

এ বছরের শুরুর দিকে নির্যাতিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে সৌদি আরবে পর্যবেক্ষণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে। সে সময় প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদনে বলা হয় সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ব্র্যাক বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা যা সরকার কর্তৃক বহুবার প্রশংসিত হয়েছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রকল্পের আওতায় সংস্থাটি সৌদি ফেরত বাংলাদেশি নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করছে।

প্রকল্প পরিচালক শরীফুল হাসান মিডল ইস্ট আই অনলাইনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের সংস্থার গত দুই বছরের পর্যবেক্ষণে জানতে পারি সৌদি থেকে যে নারী শ্রমিকরা দেশে ফিরছে তারা সবাই নির্যাতনের কারণেই ফিরছে। এছাড়াও বাড়তি কাজের বোঝা, বেতন না দেয়া, অসুস্থতার ছুটি না দেয়া এবং আরো অনেকগুলো কারণ রয়েছে।

অপরদিকে সরকার বলছে, কোনো সমস্যা সমাধান করতে হলে আগে জানতে হবে সমস্যার কারণ। আমরা এখন সমস্যাটির কারণ জানতে পেরেছি এবং সমস্যা সমাধানের উপায় নিযে অবশ্যই আলোচনা করব। মন্ত্রণালয়কে তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। মন্ত্রণালয় তাদের আগের কর্মকর্তাদের কর্তব্য অবেহেলার ফলে যে প্রতিবেদন দিয়েছিল তা বাতিল করে নতুন করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করার জন্য।

তবে ভালো খবর হলো, আমরা আমাদের সমস্যা চিহ্নিত করতে পেরিছি। এখন এ সমস্যা যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়, হবে বলে আশা করি।

২০১৫ সালে শ্রমিক পাঠাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষি চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং শ্রমিক পাঠানো শুরু করে। বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষর করার কিছুদিন পর ইন্দোনেশিয়াসহ আরো কিছু দেশ যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেয়।

সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাস মিডল ইস্ট আইকে তিন-চারজন নির্যাতিত বাংলাদেশির কথা ফাঁস করলে তার পর থেকে দলে দলে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা দেশে আসতে শুরু করে।

জাতিসংঘ মানবাধিকারের একজন জেষ্ঠ্য গবেষক রথনা বেগম বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, এটাই সুযোগ সৌদিগামী বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের সৌদি আরবে কাজের ভায়াবহতা সম্পর্কের অবহিত করুন, তবে যতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা যেন অতটা ভয়াবহভাবে সৌদিগামী নারীদের ব্যক্ত করা না হয়।

অপরদিকে সরকার সৌদিগামী নারী শ্রমিকদের সৌদির আসল অবস্থার বর্ণনা করছে এবং বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করছে।

রথনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার কি সৌদির মতো অন্যান্য দেশের সরকারকে এ ব্যাপারে সচেতন করছে যাতে শ্রমিকদের সুরক্ষা ও সুবিচারের ব্যবস্থা যেন থাকে?

তিনি বলেন, ২০১৫ সালে এইচআরডব্লিউ’র এক গবষেণায় দেখা যায় সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে অথচ বাংলাদেশ এত বছর পরে তা স্বীকার করলো।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই অনলাইন

এএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত