শিরোনাম

দুবাইয়ে আটক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের স্থায়ী জামিন!

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০১:৫৫, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক বাংলাদেশের ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম জিসান আহমেদ মন্টি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। দুবাইয়ের রাজ পরিবারের ধনাঢ্য এক ব্যবসায়ীর জিম্মায় সেখানকার আদালত তাকে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জিসান জামিনে থাকা অবস্থায় দুবাই ছেড়ে অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না বলেও আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

শীর্ষ এ সন্ত্রাসীর জামিন পাওয়ার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) পক্ষ থেকে কোন প্রকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি আসল জিসান নয় বলে জানা গেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান এখন লন্ডনে। ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর আগেই তিনি দুবাই ছাড়েন। ইউরোপের একাধিক দেশ ঘুরে গত ১০ অক্টোবর তিনি আবার লন্ডনে যান।

দুবাই পুলিশের পাঠানো তথ্যের বরাত দিয়েই সেখানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে জিসান বলে শনাক্ত করেছিলেন। এখন এ ব্যাপারে আরও খোঁজ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সদরদপ্তরের সূত্র জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ২ অক্টোবর জিসান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় দুবাই ইন্টারপোল তাকে আটক করে। আগে থেকেই তার নামে বিশ্বের সর্বোচ্চ পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা ছিল। এ সময় তার কাছ থেকে ভারতের একটি পাসপোর্ট, মোবাইল সেটসহ বেশ কিছু ডলার উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি দুবাই ইন্টারপোল শাখা বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এনসিবিকে জানায়।

এ বিষয়ে গত ৩ অক্টোবর এনসিবি’র সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেছিলেন, জিসানের ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সদর দপ্তর খোঁজ খবর নিচ্ছিল। সর্বশেষ জিসান আলী আকবর চৌধুরী নাম নিয়ে ভারতের পাসপোর্ট নিয়েছিল- সে বিষয়েও আমাদের কাছে তথ্য ছিল।

তিনি বলেন, আমরা জিসানের পুরাতন মামলার তথ্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়েছিলাম। দুবাই ইন্টারপোল তাকে আটক করে তার ছবি প্রথমে আমাদের কাছে পাঠায়। এরপর সেসব ছবি যাচাই বাছাই করে আমরা নিশ্চিত হই যে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্টধারী ব্যক্তিই জিসান। তার ব্যাপারে সব নথিপত্র তৈরি করা হচ্ছে। তাকে দেশে ফেরত আনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুবাইয়ের একটি আদালতে জিসানকে হাজির করে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। সেখানে তার পক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে সে দেশের রাজ পরিবারের এক ব্যবসায়ীর জিম্মায় জামিন দেয় আদালত।

আরও পড়ুন: আসল জিসান কে?

নব্বই দশকের শেষের দিকে সন্ত্রাসী হিসেবে জিসানের উত্থান ঘটে। জিসানের জন্মস্থান কুমিল্লায় হলেও রাজধানীর রামপুরায় তিনি বেড়ে ওঠেন। গত ২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শীর্ষ যে ২৩ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করে সেখানে জিসানের নাম ছিল।

ওই তালিকায় তার নাম ছিল ২০ নম্বরে। তার বিরুদ্ধে খুন-চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অনেক অভিযোগ ছিল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে মালিবাগে ডিবি পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় জিসানের নাম আসার পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরপর থেকে বিদেশে অবস্থান করেই ঢাকার মতিঝিল-খিলগাঁও এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

ঢাকায় তার অন্তত একডজন ক্যাডার রয়েছে। যারা তার নামে চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি করে টাকার ভাগ তার কাছে পাঠাতো। রাজধানীর মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার এক সময়ের ত্রাস ছিলেন জিসান। ২০০৫ সালে জিসান ভারতে আত্মগোপন করে। সেখানে ২০০৯ সালে একবার কলকাতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিল। পরে ছাড়া পেয়ে কলকাতায় বসে ঢাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত।

বছর দুয়েক আগে জিসান ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে দুবাই চলে যায়। সেখানে ঢাকা থেকে যাওয়া অনেক সন্ত্রাসীর সঙ্গে তার বৈঠক হতো। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ম্যারিনা বে স্যান্ডস হোটেলে সম্রাট-খালেদ-জিসানের বৈঠক হয়। সেখানে ক্যাসিনো থেকে জিসান ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এএলআর/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত