মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৩ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

আমারসংবাদ ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ০৬,২০২০, ০৩:৪৪

সেপ্টেম্বর ০৬,২০২০, ০৩:৪৪

যেসব মৃত্যু শহীদি মর্যাদা পায়

প্রত্যেক মানুষকে একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআন মজিদে বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ

অর্থ: ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সূরা: আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫)।

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বাস্তব সত্য মৃত্যু। আজ হোক কাল হোক যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু সুনিশ্চিত।

কিন্তু কার কোথায় এবং কী ভাবে মৃত্যু হবে তা কেউ জানে না। কারণ এগুলো অদৃশ্য বা গায়েবি বিষয়। এই সম্পর্কে একমাত্র অবগত থাকেন আল্লাহ তায়ালা।

কোরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনিই জানেন নারীদের জরায়ুতে বা গর্ভাশয়ে যা থাকে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না সে কোন স্থানে বা জায়গায় বা দেশে মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ব বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা: লুকমান, আয়াত: ৩৪)।

মানুষ পথেঘাটে চলাফেরার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। কেউ মৃত্যুবরণ করে আবার কেউ বেঁচেও যায়। তবে ভালো কোনও উদ্দেশে থাকাকালীন কারো মৃত্যু হলে ওই ব্যক্তি শহীদি মর্যাদা পায়।

এই যে ধরুন, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন বাকি ১৪ জনের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। মৃত্যু তো একদিন মানুষের হবেই। পৃথিবী ছেড়ে তো সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু এ ধরনের দুর্ঘটনায় যারা মারা যান তাদের জন্য রয়েছে শহিদি মর্যাদা। সম্মানজনক মৃত্যু।

হজরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া ব্যক্তিরা ছাড়াও শহীদি মৃত্যু পায় ৭ ধরণের লোকজন---

(১) প্লেগে মৃত্যুবরণকারী। (বর্তমানে করোনাভাইরাসে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এ অংশের ভাষ্যমতে তারাও শহীদ)।

(২) পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী। (এ অংশের ভাষ্যমতে পানিতে ডুবে যারা মারা যাবে তারাও শহীদ।

(৩) আঘাতে মৃত্যুবরণকারী।

(৪) পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী।

(৫) আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী। (সুতরাং নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে যারা মারা গেছেন, তারা শহীদ)।

(৬) কূপে পড়ে মৃত্যুবরণকারী।

(৭) সন্তান প্রসব যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণকারী। (ইবনে মাজাহ)।

কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে,

وَلاَ تَقُولُواْ لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبيلِ اللّهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاء وَلَكِن لاَّ تَشْعُرُونَ

‘আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়, তাদের তোমরা মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝো না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৫৪)।

আরেক ধরনের শহীদ হলো হুকুমি শহীদ। অর্থাৎ যারা যুদ্ধ করে শহীদ হয়নি, তার পরও শহীদের সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন। তারা হলেন মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী, আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী, পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী ইত্যাদি।

আমারসংবাদ/জেডআই