শিরোনাম

আরবি ১২ মাসের নামকরণের কারণ

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৭:৩১, সেপ্টেম্বর ০২, ২০১৯

মহররম: মহররম শব্দের অর্থ হারামকৃত, মর্যাদাপূর্ণ। যেহেতু এ মাসের মর্যাদার কথা বিবেচনা করে যুদ্ধবিগ্রহ হারাম বা নিষিদ্ধ মনে করা হতো, এ জন্য এ মাসকে মহররম বলা হয়। (গিয়াসুল লোগাত : ৪৫৭)

সফর: সফর শব্দটি সিফর থেকে নির্গত। এর অর্থ শূন্য হওয়া, জাহেলি যুগে লোকেরা সফর মাসে যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেলে ঘর শূন্য হয়ে যেত। তাই এই মাসের নাম সফর রাখা হয়েছে।

রবিউল আউয়াল: রবিউল আউয়াল শব্দের শাব্দিক অর্থ, বসন্তের শুরু। এ মাসের নামকরণ করা হয় বসন্তকালের শুরু লগ্ন হওয়ার কারণে। (রেসালায়ে নুজুম-২২৯)

রবিউল সানি: রবিউল সানি নামকরণের কারণ বসন্তকালের শেষ পর্যায়ে হওয়ায়। এ মাসকে রবিউল আখেরও বলা হয়। (রেসালায়ে নুজুম-২২৯)

জুমাদাল উলা: জুমাদাল উলা আরবি শব্দ। এর অর্থ জমে যাওয়া, স্থবির হওয়া। যখন এ মাসের নাম রাখা হয়, তখন ছিল শীতের শুরুলগ্ন। যখন ঠাণ্ডায় সব কিছু জমে যেত। পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে এ মাসের নাম রাখা হয়েছে জুমাদাল উলা।

জুমাদাল সানি: শীতকালের শেষ লগ্নে গিয়ে এ মাসের নামকরণ করা হয় বলে এ মাসের নাম রাখা হয়েছে জুমাদাল সানি।

রজব: রজব শব্দের শাব্দিক অর্থ সম্মান করা। আরবরা এ মাসকে শাহরুল্লাহ বলত এবং যথেষ্ট সম্মান করতো। তাই এ মাসের নাম রাখা হয়েছে রজব। (রেসালায়ে নুজুম-২৩০)

শাবান: শাবান অর্থ ছড়িয়ে দেয়া, বিচ্ছিন্ন হওয়া। যেহেতু এ মাসে অসংখ্য কল্যাণ আর রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং হায়াত, মউত, রিজিক এবং তাক্বদিরের নানা বিষয় ফেরেশতাদের হাতে ন্যস্ত করা হয়, এ জন্য এ মাসের নাম রাখা হয়েছে শাবান।

অথবা এ কারণে এ মাসের নাম শাবান রাখা হয়েছে, কারণ আরব রা রজব মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ থাকার পর এ মাসে যুদ্ধ করতে ছড়িয়ে পড়তো।

রমজান: রমজান অর্থ জ্বালানো। যেহেতু এ মাসে বান্দার গুনাহ জ্বলেপুড়ে (মুছে) যায়। আর গরমকালে এ মাসের নামকরণ করা হয়, এ জন্য এ মাসকে রমজান বলা হয়। (ইবনে কাছির , খণ্ড ২, পৃ. ২৩৬)

শাওয়াল: শাওয়াল অর্থ ওঠানো। আরবরা এ মাসে শিকার করার উদ্দেশ্যে কাঁধে অস্ত্র ওঠাতো। এর জন্য এর নামকরণ করা হয়েছে শাওয়াল। (ইবনে কাছির, খণ্ড ২, পৃ. ৩০০)

জিলক্বদ: জিলক্বদ অর্থ বসে থাকা। আরবরা এ মাসে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতো (বসে থাকত), এ জন্য এর নামকরণ করা হয়েছে জিলক্বদ। (ইবনে কাছির, খণ্ড ২, পৃ. ২২৬)

জিলহজ: জিলহজ হলো হজের মাস। তাই একে জিলহজ বলা হয়। (ইবনে কাছির, খণ্ড ২, পৃ. ২২৬)

জেডআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত