শিরোনাম

আশুরার এক রোজায় পুরো বছরের গুনাহ মাফ!

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১৬:৩৭, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৯

আরবি ১২ মাসের প্রথম মাস হলো মহররম। ইসলামী ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আনন্দ-বেদনার মাস এটি। সুসংবাদ অথবা দুঃসংবাদের সারথি, হক বাতিলের পার্থক্যকারী। মানুষ অমানুষের পরিচয়দানকারী। এ মাসের বিশেষ দিন হল আশুরা।

আশুরা মহররমের দশ তারিখ। নফল রোজার দিন। আমলের দিবস এটি। দ্বিতীয় হিজরির পূর্ববর্তী সময়ে মানুষ এ দিনে রোজা রাখতেন। এই দিনে রোজা রাখতেন আমাদের মহানবী (সা.) ও তার অনুসারীরা। রোজা পালন করতেন মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা। উপবাস থাকতেন জাহেলি যুগের লোকজনও।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করে ইহুদিদের আশুরার সিয়াম পালন করতে দেখে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন— এটি একটি মহান দিন। এদিনে আল্লাহপাক হজরত মুসা (আ.) ও তার সঙ্গীদের নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার লোকদের নদীতে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তার শুকরিয়া স্বরূপ মুসা (আ.) এই দিনে সিয়াম পালন করেন।

অতএব আমরাও তাই করি। তখন রসুল (সা.) বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মুসা (আ.)-এর আদর্শের অধিক হকদার ও দাবিদার। অতঃপর তিনি রোজা রাখেন ও সবাইকে রাখতে বলেন।

আশুরার রোজা পূর্ব থেকেই রসুল (সা.)-এর রাখার অভ্যাস ছিল (বোখারি ১৮৭৮, মুসলিম ১১৩০)। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে ইসলামে আশুরার দিনে রোজা রাখার বিধান ছিল। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা মানুষের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। ইচ্ছা হলে সিয়াম সাধনা করবে অন্যথায় পরিত্যাগ করবে।

আয়েশা (রা.) বলেন, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা রাখত। রসুলও (সা.) পালন করতেন। মদিনায় হিজরতের পরও পালন করেছেন এবং লোকদের পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু যখন রমজান মাসের রোজা ফরজ হলো তখন তিনি ইরশাদ করেন, যার মন চায় রোজা রাখ, যার মন চায় পরিত্যাগ কর (বোখারি ১৮৭৬)।

আশুরার রোজা পালনে বান্দার আমলের খাতা ভরে যায় পুণ্যে। প্রশান্তি আসে অস্থির মনে। কাফ্ফারা হয়ে যায় যাপিত বছরের গোনাহের। কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুল (সা.) বলেছেন, আমি আশা করি আশুরা বা দশ মহররমের রোজা আল্লাহর নিকট বান্দার বিগত এক বছরের (ছগিরা) গোনাহের কাফ্ফারা হিসেবে গণ্য হবে (মুসলিম ২০৪৪)।

লেখক : আলেম ও গবেষক

জেডআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত