শিরোনাম

চিলমারীতে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

আরিফুল ইসলাম, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)   |  ০৬:১৫, জুলাই ১৮, ২০১৯

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের বন্যার পানিতে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বা এনজিওদের ত্রাণ তৎপরতা। ফলে দুর্গত এলাকার মানুষদের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছে। চিলমারী উপজেলাকে বন্যা দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি বানভাসিদের।

এ দিকে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় প্রবল স্রোতে রাজার ঘাট ব্রিজ, বালাবাড়ী থেকে গাবেরতল ও কাঁচকোল গ্রামীণ পাকা সড়ক ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা পরিষদ, চিলমারী থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি ঢুকে পড়ায় অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে গোটা উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ মাঝিপাড়া, বাসন্তিপাড়া, ভরট্টপাড়া, খরখরিয়া, পাত্রখাতা, ব্যাপারী পাড়া, ডাটিয়া পাড়া, থানাহাট ইউনিয়নের রাজারভিটা, পুটিমারী, মাচাবান্দা, পূর্বমাচাবান্দা, ব্যাপারীর বাজার, বজরা তবকপুর, ফৈলামারী, বালাবাড়ী হাট, কিশামতবানু, রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট, কুটির গ্রাম, চর বড়ভিটা, উত্তর ওয়ারী, দক্ষিণ ওয়ারী, কাঁচকোল, নয়াবস গ্রামসহ অষ্টমীরচর, নয়ারহাট, চিলমারী মিলে ৬ ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বানভাসিদের এখন প্রয়োজন শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ।

মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর নানা ভোগান্তি। খাদ্য ও আবাস না থাকায় গবাদি পশু নিয়ে পড়েছেন মহা বিপদে। কোথাও কোথাও একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে এইসব গবাদি পশু ও মানুষদের।

এদিকে গত বুধবার সন্ধ্যায় অষ্টমীরচর ইউনিয়নের খামার বাঁশপাতারী গ্রামের প্রায় ৬০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীর পানির তীব্র স্রোতে সম্পূর্ণ ভেসে গেছে।

ওইসব বাড়ির লোকজন কোনরকমে সাতরিয়ে জীবন রক্ষা করতে পেরেছেন বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এ প্রতিনিধিকে জানান।

উপজেলার প্রায় দেড় লাখ পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৫৯৮ পরিবার। ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ না পাওয়ায় বেশির ভাগ পরিবার তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কোহিনুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে ৬০ মে.টন চাল, নগদ ২ লাখ টাকা ও শুকনা খাবার ১ হাজার ২০০ প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বিতরণ চলমান রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত