শিরোনাম

মূল্য নেই, নদীতে চামড়া ভাসিয়ে প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি   |  ০১:৩৯, আগস্ট ১৩, ২০১৯

কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলোতে চমড়া নদীতে ও রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এটিকে তারা কওমি মাদরাসার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়েছেন।

প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, কুরবানির পশুর চমড়া বিক্রি করে অনেক কওমি মাদরাসার ছয় মাসের খরচ মেটাতো। এ পথ বন্ধ করতেই সুক্ষ্মভাবে এ উপায় অলম্বন করা হয়েছে।

তারা জানান, ১৬০০ টাকা দিয়ে ট্রাক ভাড়া করে দেড় শতাধিক চামড়া নিয়ে এসে চামড়ার দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে ১৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে।

কুরবানির ঈদে পশুর চামড়ার পাইকার না পাওয়ায় বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে চামড়া ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা। এমন ঘটনা ঘটেছে সিলেটের আরও বেশ কয়েকটি উপজেলায়।

চামড়া কেনার লোক না পাওয়ায় সারাদিন এবং রাতে পাহারা দিয়ে অপেক্ষার পর বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পাঁচটি মাদরাসার প্রায় চার শতাধিক চামড়া কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বালাগঞ্জ ফিরোজাবাগ মাদরাসার ১১৯টি, বালাগঞ্জ মহিলা মাদরাসার প্রায় ১০০টি, তিলকচানপুর আদিত্যপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার ৩৪টি, নতুন সুনামপুর মাদরাসার ৭০টি ও দক্ষিণ গৌরীপুর মাদরাসার ২৭টি চামড়া নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

সবমিলে প্রায় কয়েক হাজার পশুর চামড়া নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মাদরাসার ছাত্রদের কাঁদতে দেখা যায়।

ফিরোজাবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালিক ও মহিলা মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুল বাতিন বলেন, ঈদের দিন সোমবার দুপুর থেকে পশুর চামড়াগুলো মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মাদরাসার রাস্তায় রাখা হয়। কেউই এসব চামড়া কিনতে আসেনি।

তিনি জানান, চামড়ার দুর্গন্ধে বাসাবাড়ি থেকে বের হতে পারছিলেন না মানুষ। এজন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি আমরা। চামড়া পুঁতে ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই কুশিয়ারা নদীতে চামড়াগুলো ভাসিয়ে দিয়েছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, জানি না কেন গরিব ও এতিমদের হক নষ্ট করে চামড়ার সিন্ডিকেট করেছে তারা। যারা এমন কাজ করেছে কাল হাশরের মাঠে হিসাব দেয়া লাগবে তাদের। এতিমের হক নষ্ট করেছেন আপনারা। আল্লাহ আপনার অবশ্যই বিচার করবেন।

এ বিষয়ে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্দুল মুনিম বলেন, চামড়ার বিষয়টি মাদরাসার শিক্ষকরা আমাকে জানালে আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল সাকিব বলেন, বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত