শিরোনাম

মহেশখালী প্রধান সড়ক যেন মরণফাঁদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, মহেশখালী  |  ০৬:৫৪, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

কক্সবাজারের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মহেশখালী উপজেলা আটটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় প্রায় চার লাখ জনগণের বসবাস।

উপজেলার প্রধান সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে। সড়কে মাঝে বড় বড় গর্ত আর কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে সড়ক দিয়ে চলাচল করছে সাধারণ জনগণ।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় দুর্ভোগের মাত্রাটা আরো বেড়ে গিয়ে মাত্রাতিরিক্ততায়। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের।

বাংলাদেশ সরকারের বড় বড় ১৮টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়া স্বপ্ন লালনে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল, নিরক্ষর ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ এগিয়ে গেলেও আজ মহেশখালী সড়কের অবস্থা খুবই নরক।

সরেজমিন দেখা যায়, মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা থেকে জনতা বাজার পর্যন্ত প্রধান সড়কের উপর ছোট-বড় গর্তের সমাহারে ধান চাষের উপযোগী হয়ে পড়েছে।

মহেশখালীর (পশ্চিম) প্রধান সড়কটি উত্তর-দক্ষিণ জনতাবাজার টু গোরকঘাটা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরিপে ২৭.৩৩০ কিলোমিটার। তারমধ্যে ৩.১০০ কিলোমিটার চিতাখোলা হয়ে মাতারবাড়ি দিকে বাঁকা হওয়ায় বাকি ২৪.২৩০ কিলোমিটার ওই সড়কে আটটি কালভার্ট, ইউ ড্রেন বক্সসহ দুটি বেইলি রয়েছে। আরো দেখা যায়, প্রায় কালভার্টসহ অধিকাংশ ব্রিজের দুই পাশে মাটি নাই।

এই জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ততম সড়কটি বর্তমানে চলাচলের এতই অনুপোযোগী যে, ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় দু শতাধিকেরও অধিক খানা খন্দকে গর্তে ভরা সিমাহীন ভোগান্তিতে উপজেলাবাসী।

যা প্রতিটি পয়েন্ট সরেজমিন ঘুরে উপলদ্ধি করে দেখা যায়। বিগত প্রায় একযুগ পূর্বে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় ১২ ফুট প্রশস্ত কার্পটিং করা হলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত কোনো ধরনের একটি কনক্রিটের কণাও রাস্তা দেয় নাই বলে অভিযোগ তুলেন সাধারণ জনগণ।

অনেকেই বলেন, রাস্তার দুই পাশে প্রধান সড়কে গাইডওয়াল না থাকায় সামান্য গুটি বৃষ্টি হলে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বড় মহেশখালী নতুনবাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, ছোটবড় গর্তে ভরা ব্যস্ততম সড়কটি এমনি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, তেমনি একটু বৃষ্টি হলেই চাষবাদের জমিতে রূপ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ দেশের দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর তথা মহেশখালীতে থাকা নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের দুর্ভোগ দেখার সময় খুবই কম, তারা এসব জনদুর্ভোগ দেখলে মেগা প্রকল্পগুলো কে দেখবে? বাজারের উত্তর পাশে অর্থাৎ ফরেস্ট বিট অফিসের প্রবেশপথে কালভাটের পাশে মাঠি না থাকায় মরণফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে।

এভাবে প্রত্যেক পয়েন্টে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে উপজেলায় আগত ট্যুরিস্ট, দেশ-বিদেশি প্রকল্প পরিদর্শন ও জনসাধারণ।

দ্বীপময় মহেশখালীতে বর্তমান সরকারের সু-নজর থাকায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিপুল উন্নয়নসহ বড় বড় দীর্ঘমেয়াদি মেগা প্রকল্প স্থাপনের কাজ চলমান।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা পিন্টু চাকমা জানান, উক্ত সড়কটি ১২ ফুট প্রশস্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সংস্কার করা হয়েছিল, সম্ভবত আগামী মাসে ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি সংস্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো. শরীফ বাদশা জানান, বিগত প্রত্যেক মিটিংয়ে মহেশখালীর প্রধান সড়কের কথা তুলে ধরা হয়। এখন তা বাস্তবায়নের পক্ষে তবে অতি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কথামতে অতিদ্রুত ১৮ ফুট প্রশস্ত প্রধান সড়কের কাজ শুরু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত