শিরোনাম

পাখির প্রতি ভালোবাসা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবুল বাশার শেখ, ভালুকা (ময়মনসিংহ)  |  ০০:৫৫, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯


ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘পাখি বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে গাছে গাছে চলছে পাখির বাসা বাঁধার কাজ। এ উদ্যোগের মূলে রয়েছেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অভ্যুদয়’-এর সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ আগস্ট শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। পাখির বংশবিস্তার, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখিদের বাঁচাতে এ ব্যতিক্রমী কাজের উদ্যোক্তা ভালুকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামালের আহ্বানে মহৎ কাজটি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের করে চলেছে অভ্যুদয়ের সদস্যরা।

তারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালে ডালে মাটির হাঁড়ি বাঁধছেন। তাদের এই মহতি কাজকে সাধুবাদ জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহযোগী হয়ে কাজ করছেন।সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার একটি পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ৩০ দিনে প্রায় ছয় হাজারের উপরে পাখির নিরাপদ আবাসন স্থাপন কার্যক্রম এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছেন তারা। পর্যায়ক্রমে তারা উপজেলার বাকি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।

অভ্যুদয়ের সভাপতি আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, ‘দিন দিন আমাদের দেশ পাখিশূন্য হয়ে পড়ছে। বিষয়টি আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল উপলব্ধি করতে পেরেছেন। এটা অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। আমরা অভ্যুদয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা আনন্দের সঙ্গেই কাজটি করছি। পাখির জন্য কিছু করতে পেরে নিজেদেরও খুব গর্বিত মনে করছি। এরই মধ্যে আমাদের স্থাপনকৃত হাঁড়িতে পাখিরা বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। ’

কবি-শিক্ষক সফিউল্লাহ আনসারী বলেন, দেশে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু বৃক্ষনিধনে গৃহহীন হয়ে পাখিকূল আজ বিপন্নের পথে। আমরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

উদ্যোগের উদ্যোক্তা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল বলেন, ‘দিন দিন আমাদের দেশের বন-জঙ্গল মারাত্মকভাবে উজাড় হচ্ছে। এতে দেশ দিন দিন পাখিশূন্য হয়ে পড়ছে। পাখির বংশবিস্তার, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাখি আমাদের জন্য উপকারী হলেও অবহেলিত একটি জীব। তাই গোটা উপজেলার জঙ্গলে জঙ্গলে ও নির্জন স্থানে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল স্থাপনের পরিকল্পনা করেছি। আমার আহ্বানে কঠিন এ কাজটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অভ্যুদয়। সহযোগিতা করছেন এলাকাবাসীও।

পাখির প্রতি এমন ভালোবাসার কথা সারা ভালুকা তথা ময়মনসিংহ বিভাগের আনাচে-কানাচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ ভালোবাসা যেন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়, মানুষ যেন পাখিদের জন্য এমনভাবে বাসা তৈরি করে দেয় এমনটিই আশা করছে পরিবেশবিদরা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত