শিরোনাম
''ঘুষ ছাড়া মেলেনা জন্মসনদ''

সরকারি ফি ৫০ টাকা নেয়া হয় ২০০টাকা!

আব্দুল কাদের, ধামরাই  |  ১৬:১৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯

সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রতিটি শিশুর জন্ম থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত জন্ম নিবন্ধন ফ্রি। আর ৫বছর বয়স পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ০৫ (পাঁচ) বছর বয়সের উপরের সকলের জন্যই সরকার নির্ধারিত ৫০টাকা জন্মনিবন্ধন ফি নেয়ার নিয়ম থাকলেও নিজের ভোগ বিলাশের জন্য সরকারের নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই অতিরিক্ত ফি আদায়ের মধ্য দিয়ে নাগরিকদের জন্ম নিবন্ধন করাচ্ছেন রাজধানী ঢাকার ধামরাইয়ের ৫নং বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ কামরুল হাসান।

জন্ম নিবন্ধন করতে আসা প্রায় সকল নাগরিকদের কাছ থেকেই সর্বনিন্ম ২শ থেকে ৫শতাধিক টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভূক্তভোগীরা।

রাজধানী ধামরাইয়ের ৫নং বাইশাকান্দা ইউনিয়নে জন্মসনদের অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগটি নতুন নয় বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ অন্যান্যরা। সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমনই অভিযোগ জানান অনেকেই।

ভুরাইল এলাকার মুক্তার আলী বলেন, আমার নাতনীর জন্মসনদের জন্য সচিবের (কামরুল হাসান) নিকট গিয়েছিলাম। সে আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। তবে এই সার্টিফিকেটের জন্য ৭০০ থেকে ১০০০ টাকাও নাকি সে নিয়ে থাকে।

৯নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আব্দুল আলীম (বুলবুল) বলেন, সচিবের দুর্নিতীর বর্ণনা দিয়ে শেষ করা যাবেনা! সে টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেনা। ৫শ টাকা বিনিময়ে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় শতাধিক জন্মসনদ দেয়ার পর সে হিসেবে দেখায় ২০জনের জন্মসনদ দিয়েছে।

পরে ওই ইউপির উদ্যোক্তা বাবুলের মাধ্যমে জানতে পারি ৯৩টি জন্মসনদ ৫০০ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। এখানেই সে প্রায় ৫০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যার হিসাব সে এখনো দেয়নি।

টাকা ছাড়া নাকি কোনো কাজই করেনা ওই ইউপি সচিব কামরুল হাসান এমনই তথ্য উঠে এসেছে দৈনিক আমার সংবাদের অনুসন্ধানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী যুবক দৈনিক আমার সংবাদকে জানায়, জন্মসনদের জন্য পরিষদে গিয়েছিলাম। পরে সেখানে গিয়ে ইউপি সচিবকে বলি আমার জন্মসনদ লাগবে। পরে সে (সচিব) বলে- জন্মসনদ নিতে চাও ২হাজার টাকা লাগবে?

তখন আমি বলি- জন্মসনদের ফি তো ৫০টাকা তাহলে ২হাজার নিবেন কেন?

সচিব বলে এটা আমরা নিয়েই থাকি। এতদিন এলেনা কেনো তাই ২হাজার লাগবে। এখন অনেক ঝামেলা অনেক কাজ করতে হয়।
পরে সচিবের সাথে এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে বলি সব জায়গায় তো ৫০টাকাই নেয় শুনেছি।

এক পর্যায়ে সচিব বলে ৫০টাকা দিয়ে যেখানে জন্মসনদ পাওয়া যায় সেখানে যাও এখানে ২হাজারই লাগবে। পরে আমি চলে আসি।

পরদিন সকালে পুনরায় পরিষদে যাই জন্মসনদের জন্য। পরে সচিব বলে ২হাজার টাকা না দিলে আমি তোমার জন্মসনদে কোনো স্বাক্ষরই করবোনা। পরে সচিবের স্বাক্ষর বাদ রেখেই জন্মসনদ নিয়ে চলে আসি। আজ পর্যন্তও সচিবের স্বাক্ষর ব্যতিত জন্মসনদ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমিও বলেছি অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জন্মসনদে সচিবের স্বাক্ষর করাবো না।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে ওই পরিষদের উদ্যোক্তা বাবুল হোসেন এই প্রতিবেদককে জানায়, জন্মসনদের জন্য তিনি প্রতিটি কার্ডের জন্য ২০০ টাকা নেয়া হয়। তারমধ্যে ৫০টাকা আমাকে দেয়া হয় যা ইন্টারনেট খরচ ও আমার পারিশ্রমিক হিসেবে ধরা হয়েছে। বাকি টাকার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ জানেন। তবে সেই টাকা সচিবের কাছে আমি জমা দেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, সচিবের বিষয়ে তো অনেক অভিযোগই রয়েছে তাতে কার কি? তার সীমাহীন দুর্নিতী রয়েছে তার বিচার কে করবে? তাকে অনেকবার সতর্ক করেছি তাতেও কোনো লাভ হচ্ছেনা। জন্মসনদ করতে ২০০টাকা নেয় শুনেছি আবার অনেকের কাছ থেকে বেশিও নেয়। তার দুর্নিতী আমাদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ওই ইউপি সচিবের কাছে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছেই অতিরিক্ত ফি চাইনি। এ অভিযোগ মিথ্যা। আর টাকার জন্য যদি কোন জন্মসনদে স্বাক্ষর না দিয়ে থাকি তাহলে আমার কর্তৃপক্ষ আছে তারাই তার বিচার করবে। এ বিষয়ে আপনাকে আর বেশি কিছু বলতে চাই না।

সদ্য নির্বাচিত ওই পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, আমি সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি পূর্বে কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত