শিরোনাম

ভৈরব স্টেশনে ছিনতাই আতঙ্কে যাত্রীরা!

জামাল মিয়া, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)  |  ১৭:১০, অক্টোবর ১০, ২০১৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেশন রোড এখন মরণ রোড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শহরের মূল রাস্তা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের কম দৈর্ঘ্য এ রোডের।

মূল রাস্তা থেকে হেঁটে রেল স্টেশন যেতে মাত্র সময় লাগে ৭/৮ মিনিট, রিক্সায় গেলে মাত্র ৩/৪ মিনিট এই সময়ের মধ্যে আতঙ্কে কাটে রাস্তা চলাচলের যাত্রী ও সাধারণের। ঘটছে অহরহ ছিনতাই এর ঘটনা। গত ১২০ দিনে কমপক্ষে অর্ধশত ছিনতাই এর ঘটনা ঘটেছে।

রেল স্টেশন, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল লাইনে ডাবল লাইন হওয়ার পর আরো আরামদায়ক ও কম সময়ে আসা যাওয়ার জন্য যাত্রীরা বেছে নিচ্ছে রেল ভ্রমণ। কিন্তু দিন দিন নিরাপত্তা ভ্রমণের আতঙ্কের নাম ছিনতাই।

স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীরা মূলবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। আবার চক্র মিলে অস্ত্র দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত আঘাত করছে। এই সড়কে চলাচলের যাত্রীরা ভৈরব জংশন স্টেশন থেকে ৬টি রোডে ২২টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ২৮টি ট্রেনে চলাচল করে প্রতিদিন মোট ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী।

স্টেশনে আসা-যাওয়ার মূল রাস্তা এইটি। রাস্তাটি ২৪ ঘন্টায় অনিরাপদ। সকাল-বিকাল-সন্ধা কিংবা রাতে ছিনতাইকারীরা ঝাপটে ধরে যাত্রীদেরকে। রাস্তার পার্শ্বে ঝোপ-ঝাড়ে লুুকিয়ে থাকে ছিনতাইকারীরা।

ভৈরবের সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র পাল্টাতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এইসব বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর নজরে আনার জন্য শুক্রবার রেলওয়ে প্লাটফর্ম মানববন্ধন করে সাধারণ মানুষ ও রেলওয়ে চলাচলের যাত্রীগন।

শহরের রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তারা রাস্তায় ছিনতাইকারীরার নিরাপদ আশ্রয়, রাস্তার পার্শ্বে বেড়ে ওঠা ঝোপ-ঝোড় দা, বটি, ও কাচি নিয়ে প্রতীকি উচ্ছেদ অভিযান করে। ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কারে অংশ নেন ছাত্র-শিক্ষক, চাকরিজীবি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। এসময় তারা দা-কাচি নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাশে বেড়ে ওঠা ঝোপ-ঝাড় পরিস্কারের কাজে অংশ নেন।

সাধারণ যাত্রী রাসেল আহমেদ বলেন, রেলওয়ে স্টেশনের রাস্তায় নিরবিচ্ছন্ন বৈদ্যুতিক আলো নেই, বৈদ্যুতিক পুলের একটি বাতি জ্বলে আরেকটি বাতি জ্বলে না।

সমাজ কর্মী মোখলেছুর রহমান সাগর বলেন, মাদক, চুরি-ছিনতাই রোধে প্রশানের কার্যকরি তৎপরতা বৃদ্ধির জোড়ালো দাবি করছি।

স্হানীয় বাসিন্দা সবুজ সারওয়ার বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাস্তায় মানুষের জান-মাল নিরাপত্তা দিতে পারছে পুলিশ। এতে উদ্ভিঘ্ন আমরা ভৈরববাসী।

ব্যাবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধীক ছিনতাইয়ের ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছে নাগরিক জীবন।

ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ফেরদাউস আহমেদ বিশ্বাস জানান, যাত্রীদেরকে আমাদের প্লাটফর্মে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিরাপত্তা দিতে সচেষ্ট আমরা কিন্তুু রেলওয়ে স্টেশনের রাস্তায় নিরাপত্তা দেয়া আমাদের কাজ না ,পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় মাদক নিরমূলে ২৪ ঘন্টায় কাজ করছি আমরা।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, রাস্তায় ছিনতাই নিয়ে আমরা উদ্ভিঘ্ন। সকাল থেকে ভোর পর্যন্ত আমরা পুলিশের বিশেষ টহল ব্যবস্থা করেছি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করছি ছিনতাই কমে আসবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত