শিরোনাম

ডাইং কারখানার বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র

নিজাম উদ্দিন আহমেদ, রূপগঞ্জ  |  ১৮:৩৪, অক্টোবর ১০, ২০১৯

ব্রহ্মপুত্র নদী ধ্বংস হচ্ছে ডাইং কারখানার বর্জ্যরে পানিতে, কিন্তু রক্ষা করার কেউ নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার ব্রাক্ষপুত্র নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে তুলেছে কয়েকশ ডাইং কারখানা।

এসব ডাইং কারখানার বর্জ্যরে পানিতে বিলীন হচ্ছে নদীর দেশীয় মাছ, তেমনি হারাচ্ছে নদীর নাব্য, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি। রূপগঞ্জ উপজেলার হোড়গাঁও এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাইং কারখানা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

কারখানাগুলো নামে বেনামে গড়ে উঠলেও প্রশাসনের রয়েছে নিরব ভূমিকা, এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এসব অবৈধ ডাইং কারখানার নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র।

মালিক পক্ষ স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে, অবৈধ গ্যাসসংযোগ নিয়ে কারখানাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। হোড়গাঁও বাজারে ডাইং কারখানার ছবি তুলতে গেলে তাড়িয়ে আসে জাহাঙ্গীর নামে এক অবৈধ কারখানার মালিক।

সে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বলে উঠেন, আমার দুটি ড্রাইং কারখানা আছে। আমি নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীর তীরেই এই জাহাঙ্গীরের দুটি কারখানা ঠিকই আছে। এ ছাড়াও রয়েছে অনেকের অবৈধ ডাইং কারখানা, তার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় শওকতের দুটি, সমীর বাবুর একটি, রাজু, সুমন, সাইফুলের একটি করে ডাইং কারখানার। আরও কয়েকটি কারখানার খোঁজ মিললেও ডাইং কারখানাগুলোর কোনো মালিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। একদিকে বর্জ্যরে পানিতে ধ্বংস হচ্ছে নদী, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, বিলীন হচ্ছে দেশীয় মাছ, জন্ম নিচ্ছে এডিস মশাসহ নানা রোগ জীবাণু।

ইদানীং দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু। ডেঙ্গু ছাড়াও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। পচা পানির দুর্গন্ধে এলাকাবাসী পড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। এই অবৈধ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ভয়ে এলাকাবাসী কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনা।

এ বিষয়ে কথা হয় কারখানার মালিক জাহাঙ্গীরের সাথে। তিনি বলেন, আমার কয়েকটি কারখানা আছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ডাইং কারখানা চালাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আপনারা নিউজ করলেও এতে কোনো লাভ হবে না।

এ ব্যাপারে হোড়গাঁও এলাকার আলী আকবর বলেন, এই ব্রহ্মপুত্র নদীতে একসময় আমরা মাছ ধরতাম, গোসল করতাম, রান্নার কাজেও ব্যবহার করতাম। এখন এ পানির দুর্গন্ধে মানুষ কাছ দিয়েও হাঁটতে পারে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, অবৈধ ডাইং কারখানার বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত