মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্টসংরক্ষণ

ফেব্রুয়ারি ১১,২০২০, ০৭:১৫

ফেব্রুয়ারি ১২,২০২০, ০১:১৫

সফলতার সিঁড়িতে আ.লীগ

টানা এগারো বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ সরকার। দলটি ক্ষমতার এ দীর্ঘ সময়ে মাঠের রাজনীতিতে নানা প্রতিবন্ধকতা পাড়ি দিয়ে বাংলাশেকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও মন্দা অর্থনীতি মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন।

শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, তারুণ্যনির্ভর চৌকস, মেধাবী, স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গঠনের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দল গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়ও সফল হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দক্ষ নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে আজ আওয়ামী লীগ সফলতার সিঁড়ি বেয়ে এগিয়ে চলছে দুর্বার।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে আত্মপ্রকাশ ঘটে আওয়ামী লীগের। প্রায় দুই যুগ নানামুখী আন্দোলন-সংগ্রাম ও বহু ত্যাগের বিনিময়ে দলটির নেতৃত্বে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত। সদ্য স্বাধীন দেশকে পুনর্গঠন করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তার দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় অনেক অশ্রু, ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি ফিরে পায় ‘ভাত ও ভোটের অধিকার’।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ফের ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। ক্ষমতায় আশার পর থেকেই দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন।

তাদের নেতৃত্বে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে দলটি। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নয়নে গতিশীলতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেয়াসহ বিভিন্নক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত করেছেন। এছাড়াও পদ্মা সেতু নির্মাণ, সমুদ্র সীমানা বিজয়, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ফ্লাইওভার নির্মাণ, জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান, দারিদ্র্য হার নিম্ন পর্যায়ে, যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদান, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্যসেবাকেন্দ্র, বিভিন্ন জেলায় বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ, বিভিন্ন জেলায় শিল্প পার্ক নির্মাণ, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইকোনমিক জোন নির্মাণ, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ, মোবাইল ও ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধি, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, কমর্সংস্থান বৃদ্ধি, কৃষিতে সফলতা, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সফলতা, এশিয়ান হাইওয়ে প্রকল্প, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, প্রতিবন্ধীভাতা প্রদান, নারীর ক্ষমতায়ন, বিধবাভাতা প্রদান, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতা বৃদ্ধি, বয়স্কভাতা প্রদান, মেট্রোরেল, মাদক নির্মূল, ২০০টির উপরে মসজিদ স্থাপন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে যেমন দেশের উন্নয়ন হয়েছে। তেমনি দেশের সাধারণ জনগণের মাঝে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আওয়ামী লীগ দেশ উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়েদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও তার কোনো প্রভাব দলের উপর পড়তে দেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার একক প্রচেষ্টায় আজ জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিটি ঐক্যবদ্ধ এবং দেশের যে-কোনো রাজনৈতিক দলের চেয়ে শক্তিশালী।

শুধু নিজ দল নয়, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ। দল ও সহযোগী সংগঠনকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে মেধাবী, স্বচ্ছ এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশের প্রাচীন এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলটির হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ