বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৮ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ০৪:৩৪

ফেব্রুয়ারি ১৪,২০২০, ০৪:৩৫

চট্টগ্রাম সিটি ও পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন

শেখ হাসিনার হাতেই নৌকা প্রত্যাশীদের ভাগ্য নির্ধারণ

  • আ.লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা কাল
  • ৮৩ প্রার্থীর মনোনয়ন সংগ্রহ
  • সিটি ও উপনির্বাচন ঘিরে সরগরম স্থানীয় রাজনীতি
  • শেষ মুহূর্তেও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ
  • মনোনয়ন পেলে খুশি না পেলেই ভোটের মাঠে বিদ্রোহী

বিরোধী শিবিরের রাজনীতি মোকাবিলা করে ভোটের মাঠে একের পর এক সফলতা অর্জন করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে বিশেষ চমকও দেখিয়েছেন তিনি।

ভোটের রাজনীতির সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।আগামীকাল শনিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। দলটি তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটির পর একটি নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

এর মধ্যে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সুফলও ঘরে তুলেছে ক্ষমতাসীন দলটি। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের পর এবার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা-১০, বগুড়া-১, যশোর-৬, গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন।

তাই সিটি এবং জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ কষছে ক্ষমতাসীন দলটির সভানেত্রীসহ শীর্ষপর্যায়ের নেতারা। তাদের টার্গেট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও বিতর্কিত নেতৃত্ব বাদ দিয়ে ত্যাগী, পরিশ্রমী, মেধাবী, ক্লিন ইমেজ এবং স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নৌকার মনোনয়ন দেবেন।

সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। নগর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাচ্ছেন, না কী নতুন ও জনপ্রিয় কেউ মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিজ নিজ বলয়ের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ১৭ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

এর মধ্য রেজাউল করিম চৌধুরী, খোরশেদ আলম, মুজিবর রহমান, নুরুল ইসলাম, শরফুদ্দিন সিরাজ, আব্দুস সালাম, মেজর ইমদাদুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইনসান আলী, মোহাম্মাদ ইউনুস, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সেলিনা খান, খন্দকার মনজুরুল আলম, রেখা আলম, এ কে এম বেলায়েত হোসেন।

এছাড়া ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান-হাজারীবাগ-নিউমার্কেট) আসনের উপনির্বাচনে মর্যাদার লড়াইয়ের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলটি চায় আসনটি নিজেদের কব্জায় বহাল রেখে বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।

গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পদত্যাগের কারণে ঢাকা-১০ আসন শূন্য হয়। এ আসনে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সাতজন নৌকা প্রতীকের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক বশির আহমেদ, মানবিক ঢাকা সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আদম তমিজী হক, ভাষানটেক থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, মেজর (অব.) মো. ইয়াদ আলী ফকির, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল আলম মহিউদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগের সদস্য ড. আব্দুল ওয়াদুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ।

এছাড়া ঢাকার বাইরে উপনির্বাচনের জন্য যারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তারা হলেন— বাগেরহাট-৪ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৯ জন। গাইবান্ধা-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ২২ জন। বগুড়া-১ আসনের মনোনয়ন নিয়েছেন ১৬ জন।

যশোর-৬ আসনের মনোনয়ন নিয়েছেন ১২ জন। তবে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, তা নিয়ে নানা হিসাব করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে আগামীকাল শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারণ করে দিতে পারেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও সংসদীয় পাঁচ শূন্য আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আমার সংবাদকে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ভোটের মাঠে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বিপত্তি দেখা দেয় পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তারা দলীয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভোটের মাঠে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী করেন অনেকেই।

ওই বিদ্রোহীদের মদদ দেন স্থানীয় সাংসদ ও দলের প্রভাবশালীরা। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনেও একই অবস্থা দেখা দেয়। আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি ও শূন্য হওয়া পাঁচ সংসদীয় আসনে একই অবস্থা দেখা দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ইতোমধ্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে একাধিক বলয় সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান অবস্থান নির্বাচন পর্যন্ত বহাল থাকলে ভোটের মাঠে দলীয় বিদ্রোহী দেখা যেতে পারে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে একাধিক বলয় থাকলেও শেষ মুহূর্তেও দৌড়ঝাঁপ করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ধরনা দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে। তুলে ধরছেন নিজেদের ব্যক্তিগত অবস্থান। কেউ কেউ দেখাচ্ছেন নিজেদের জনপ্রিয়তা। তবে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সবাই শেষ ভরসা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর।


আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলে নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক। তাই যেকোনো নির্বাচন এলেই একাধিক নেতা মনোনয়নের জন্য কাজ করেন। সবাইকে আমরা মনোনয়ন দিতে পারি না। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। যাকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেবেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার হয়ে কাজ করবেন এবং ভোটের মাঠে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, উপনির্বাচনে কোনো ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেয়া হবে না।

জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, যে আসনে উপনির্বাচন হবে, এই আসনের সাধারণ ভোটাররা গত একাদশ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয় উপহার দিয়ে ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তারা আবার নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করবে।

আমারসংবাদ/এমএআই