বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল ২০২০

২৬ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

শাহ আলম নূর

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২০,২০২০, ০২:০২

ফেব্রুয়ারি ২০,২০২০, ০২:০২

জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং

দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং। সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের দোড়গোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। এ সেবার মাধ্যমে গ্রামের প্রত্যান্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী সহজেই পাচ্ছেন ব্যাংকিং সেবা।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারছেন। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থও সহজে পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এখান থেকে ঋণও পাচ্ছেন অনেকে। এতে গ্রামগঞ্জে বাড়ছে ব্যাংকিং সেবা। দেশের সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হয় প্রায় ছয় বছর আগে। বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫২ লাখ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওয়তায় বিভিন্ন গ্রাহক জমা করেছেন প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ২৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স পেয়েছে। এর মধ্যে ২১টি ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।

যেসব ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কর্যক্রম চালু করেছে সেগুলো হচ্ছে— ডাচ-বাংলা, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ্ ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, মধুমতি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, এনআরবি কমার্শিয়াল, স্ট্যান্ডার্ড, অগ্রণী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, মিডল্যান্ড, দি সিটি, ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, এবি ব্যাংক, এনআরবি, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও মাকেন্টাইল ব্যাংক।

ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ব্রাজিলে। আর বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে। এর আগে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপর ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া পাইলট প্রকল্প হিসেবে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে।

গত বছরের ডিসেম্বর শেষে সারা দেশে এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৮৫৬টি এবং আউটলেট সংখ্যা ১১ হাজার ৩২০টি। এ সময় পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪৪৬ কোটি টাকা।

আলোচিত সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সুবিধা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও ব্যয় সাশ্রয়ী এ সেবায় গ্রাহক এজেন্ট আউটলেটে সহজেই তার বায়োমেট্রিক বা হাতের আঙুলের স্পর্শে হিসাব পরিচালনা করতে পারেন।

ফলে কম খরচে সহজে ব্যাংকিং সেবা পাওয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্যাংকগুলোও এ সেবা প্রদানে আশানুরূপ আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সঠিকভাবে পরিচালনা করলে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আগামীতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ঘরে ঘরে ব্যাংকিংসেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই