শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০

২৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আসাদুজ্জামান আজম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২১,২০২০, ০১:০৫

ফেব্রুয়ারি ২১,২০২০, ০১:০৫

১৭৭ শিক্ষককে জালিয়াতি করে টাইমস্কেল প্রদান

সরকারি নিয়মকে পাশ কাটিয়ে ১৭৭ শিক্ষককে দেয়া হয়েছে টাইমস্কেল। বিনিময়ে বিরাট অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। আর এ অনিয়মের কারণে কোটি টাকা গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের।

এমন ঘটনার সত্যতা পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৩ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ছিলো ১৩ ও প্রশিক্ষণবিহীনদের ১৪তম অর্থাৎ তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বেতন গ্রেড ১১তম ও প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম নির্ধারণ করা হয়।

২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিলেকশন গ্রেড স্কেল ও উচ্চতর স্কেল (টাইমস্কেল) বা কোনো স্কেলের সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর পর এক বছর পরে পরবর্তী উচ্চতর বা টাইমস্কেল প্রদান সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্তি করা হয়েছে।

ওই সময়ে জারি করা বিধানে বলা হয়, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ব্যতিরেকে একই পদে ১০ বছর পূর্তিতে এবং চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১১তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্য হবেন।

স্থায়ী কর্মচারী চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্তির পরবর্তী ছয় বছরে পদোন্নতিপ্রাপ্ত না হলে সপ্তম বছরে চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন প্রাপ্ত হবেন। চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত এই ধারা প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের টাইমস্কেল প্রদানের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি জারি করা আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের মাধ্যমে দিতে হবে।

কমিটিতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা থাকতে হবে।২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার পর তাদের বেতন স্কেলের দুটি ধাপে উন্নীত করা হয়েছে।

একই গ্রেডে আট বছর চাকরির সময় অতিক্রান্ত না হওয়ায় নতুন টাইমস্কেল দেয়ার সুযোগ নেই। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে গত বছরের ১১ জুলাই দুটি আদেশে রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার ২৮ জন, ২ জুলাই পৃথক আদেশে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ১৯ জন, ২৭ জুন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার দুইজন ও কিশোরঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার একজন, ১৪ জুলাই টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার ৯ জন ও ঘাটাইল উপজেলার ১০ জন, ৪ জুলাই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ১৩ জন, ২৬ জুন টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার ২৯ জন ও সখিপুর উপজেলার ১২ জন, ২৫ জুন পৃথক আদেশে মানিকগঞ্জের ২২ জন, ১১ জুলাই পৃথক আদেশে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ১৩ জন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১৯ জন প্রধান শিক্ষককে টাইমস্কেল দেয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

বর্তমানে ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজা ও ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌস সিন্ডিকেট করে এ টাইমস্কেল দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাইমস্কেল বঞ্চিত কয়েকজন শিক্ষককের অভিযোগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সেবার মান বাড়াতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রদানের ক্ষমতা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালকদের দেয়া হয়। এ সুযোগে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ও ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিস মিলে এ জালিয়াতি করেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে খোঁজখবর নেয়ার নির্দেশনা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। এরপর গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

আমারসংবাদ/এমএআই