শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০

২০ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

ফারুক আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ১০:০৫

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ১০:০৫

সারাদেশে টিকা দেবে সরকার

পেছালো হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম

ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সারা দেশের শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকা দিতে যাচ্ছে সরকার। গত ৫ বছর পর এবার ব্যাপক পরিসরে টিকা কার্যক্রম চালানো হবে। এজন্য ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

তবে টিকা কার্যক্রম ২৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ১৬ মার্চ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় এক মাস পর্যন্ত চলবে।

সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে আজ নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে যে সভা হওয়ার কথা ছিলো তা স্থগিত করা হয়েছে। হাম-রুবেলা নিয়ন্ত্রণে রুটিন ইপিআই কার্যক্রম বছরজুড়ে চালানো হলেও ব্যাপক পরিসরে (এমআর) টিকা দেবে সরকার।

জানা গেছে, হাম ও রুবেলার টিকা ২০০৬, ২০১০ এবং ১৪ সালে শিশুদের দেয়া হয়। এবার ৫ বছর পর ফের সারা দেশে ব্যাপক পরিসরে টিকার কার্যক্রম চালানো হবে। কারণ পৃথিবীতে ইতোমধ্যে নতুন ভাইরাসের আতঙ্কে আছে মানুষ।

ফলে হাম ও রুবেলা ভাইরাস যেন মানুষের মনে ভীতি ছড়াতে না পারে সেজন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কমবয়সি সব শিশুকে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেয়া হবে। হাম-রুবেলা টিকা বিনামূল্যে দেয়া হবে।

তবে ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন স্কুল, মাদ্রাসা, মক্তব এবং অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১৫ বছরের কমবয়সি শিশুদের টিকা দেয়া হবে।

সর্বশেষ সারা দেশে ২০১৪ সালে প্রথম হাম ও রুবেলা দূরীকরণে এমআর ক্যাম্পেইন পরিচালনার মাধ্যমে এ রোগ দুটির প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমে যায়। কিন্তু নিরক্ষণ তথ্যানুযায়ী ২০১৭ সাল থেকে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব ফের বাড়তে শুরু করে। হাম রোগের বিস্তার বন্ধ করার লক্ষ্যে তাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলার ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) কার্যক্রম সূত্র জানায়, এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকাদান ক্যাম্পেইন। এতে এমআর টিকা পাবে হাম নির্মূল ও রুবেলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সরকার ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের সব শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদানের উদ্দেশ্যে তিন সপ্তাহব্যাপী ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২০’ পরিচালনা করবে।

উক্ত ক্যাম্পেইন চলাকালে সারা দেশে প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে। সারা দেশে শিশুদের মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার কমিয়ে আনাই ইপিআই (সমপ্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) এর মূল লক্ষ্য।

ইপিআইয়ের অন্যান্য লক্ষ্যসমূহের মধ্যে ২০২২ সাল নাগাদ জাতীয়পর্যায়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার কাভারেজ শতকরা ৯৫ ভাগে উন্নীতকরণ এবং ২০২৩ সাল নাগাদ হাম ও রুবেলা অর্জন অন্যতম। হাম-রুবেলা রোগ এবং জটিলতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হলো সঠিক সময়ে শিশুকে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা প্রদান করা। এ কর্মসূচিতে সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালসহ অনেক এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত বয়সের কোনো শিশু আগে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বা অন্য কোনোভাবে হাম, এমআর বা পোলিও টিকা পেয়ে থাকলেও অথবা আগে কখনো টিকা না পেয়ে থাকলেও তাকে প্রাপ্য অনুযায়ী এক ডোজ করে টিকা দেয়া যাবে।

হাম-রুবেলা টিকাদানের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির আমার সংবাদকে বলেন, এটি ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ রোগ অতিদ্রুত ছড়ায়। যেকোনো বয়সে হাম হতে পারে।

তবে শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ, জটিলতা ও মৃত্যু বেশি দেখা যায়। বয়স্কদের যদি টিকা দেয়া থাকে তাহলে হাম-রুবেলা রোগ হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে হামের চেয়ে রুবেলা রোগটি বেশি জটিল। এজন্য টিকাদানে সব বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এর সংক্রমণে শরীরে জ্বর এবং ফুসকুড়ি দেখা দেয়। রুবেলা অনুরূপ একটি রোগ। হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন সব শিশুর জন্য নিরাপদ এবং দুটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপযুক্ত সব শিশুকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই