মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

বশির হোসেন খান

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০১,২০২০, ০২:৩৭

এপ্রিল ০১,২০২০, ০২:৩৭

করোনার প্রভাব: হুমকির মুখে পোল্ট্রিশিল্প

করোনা ভাইরাসের চরম হুমকির মুখে দেশের শিল্প-কারখানাগুলো। পোশাকশিল্পের পাশাপাশি ধস নামছে পোল্ট্রিশিল্পেও। উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও ডিম ও মুরগির ক্রেতা সংকটে এ শিল্পে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।

লোকসানের বোঝা বইছেন এর সঙ্গে জড়িত খামারি ও ফিড উৎপাদনকারীরাও। গত দুমাসে সারা দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি খামারি উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বেকার হয়ে পড়বে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি শ্রামিক। পোল্ট্রি মালিক সমিতি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বরিশাল, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, খুলনা, বোয়ালমারী, বগুড়া, রংপুরে ৫০টির বেশি হ্যাচারি রয়েছে। প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্রয়লার সোনালীর বাচ্চা উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনে হ্যাচারি মালিকদের খরচ হয় ৩০ টাকা। কিন্তু করোনার প্রভাবে বাচ্চার দাম নেমে এসেছে ১০ টাকায়।

আবার সোনালীর বাচ্চা উৎপাদনে খরচ হয় ২০ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার মূল্য ৭ টাকা। ঠিক একইভাবে পাইকারী বাজারে কেজি দরে ব্রয়লার মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায় আর সোনালী ১২০-১৩০ টাকায়।

এক হাজার ব্রয়লার মুরগি পালনে খরচ হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। কিন্তু বিক্রি করলে বের হচ্ছে ৯৫ হাজার টাকা। সোনালী মুরগিতে খরচ হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। বিক্রিতে বের হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা।

অবস্থা এমন; বাচ্চা ফ্রি দিলেও খামারিরা নিতে চাচ্ছেন না। আবার স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রক্রিয়াও তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনছেন হ্যাচারি ও খামারিরা।

মিল মালিক সূত্র জানায়, পিপি, আফিল, কাজী, প্রভিটা, কোয়ালিটি, ভিক্টর, এসিআই, আমান, সুগন্ধা ও প্যারাগনের ফিড মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রতিদিন ৬০০-৮০০ টন ফিড উৎপাদিত হয়। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় ফিডের কেনাবেচাও অর্ধেকে নেমেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোলট্রি মুরগিতে সাধারণ ক্রেতাদের অনীহা। তাই খুচরা বাজার মূল্য ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০ হাজারের বেশি খামারি ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ করে দিলেও বড় ব্যবসায়ীরা এ প্রক্রিয়া সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

আফিল এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক মাহাবুব আলম লাবলু বলেন, করোনার কারণে হুমকির মুখে পোল্ট্রিশিল্প। ছোট ছোটো অধিকাংশ খামারিই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রতিদিন যে পরিমাণ বাচ্চা বিক্রি করা হতো এখন ২০ ভাগ বাচ্চাও বিক্রি হচ্ছে না। বেশিরভাগ খামারিরই একই কথা। তারাও শিগরিই উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত পদক্ষে নিতে হবে।

বোয়ালমারী সোনালী হ্যাচারীরর মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৭০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন করা হতো। বাচ্চা নিয়ে কাড়াকাড়ি হতো। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারতাম না।

কিন্তু গত দুমাস ধরে ১০ হাজার উৎপাদন করা হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ হাজার। বাকি বাচ্চা ফ্রি দিতে চাইলেও নিতে আগ্রহী নন খামারিরা। শুধু বাচ্চা নয়, লেয়ার মুরগির ডিম ও পোল্ট্রি ফিডেও এর প্রভাব পড়েছে। এভাবে আরও দুই-এক মাস চলতে থাকলে এই শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। লোকসানে পড়বে শত শত কোটি টাকা।

তামিম মার্কেটিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-ব্যবস্থাপক (ব্রয়লার) আবদুল মুকিত বলেন, এক লাখ খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে এক কোটি ১০ লাখ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়।

এক কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে খরচ হয় ১১০ টাকা। বর্তমানে বাজার পড়ে যাওয়ায় প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ২ লাখ পোল্ট্রি মুরগির বাচ্চা মারা যাচ্ছে। এসব বাচ্চা হ্যাচারি থেকে খামারে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় মৃত্যু সংখ্য বাড়ছেই।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ